ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মাগুরা থেকেই নির্বাচন করতে চান সাকিব! নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী অফিসে গুলি, ভাঙচুর ঋণখেলাপি: হাসনাতের আসনে নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী গ্রেপ্তারের তিনদিনে বিচার শেষ, আজ হবে সোলতানির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব: সালাহউদ্দিন আহমদ ইরানে বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তারদের দ্রুত বিচারের অঙ্গীকার প্রধান বিচারপতির তুরস্কের সামরিক শক্তি-সৌদির অর্থ-পাকিস্তানের পারমাণবিক মিলিয়ে আসছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই: মির্জা আব্বাস সাহস থাকলে আইনের মুখোমুখি হক, বিদেশ থেকে হুমকির কোনো ভ্যালু নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কুড়িগ্রাম-৪ এ নজিরবিহীন লড়াই: এক ভাই বিএনপির, আরেক ভাই জামায়াতের প্রার্থী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪১৯ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একই পরিবারের দুই সহোদর ভিন্ন দুই বড় রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ আজিজুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অপরদিকে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই ভাইয়ের এই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পারিবারিক বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ১৯৯১ সালেই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছোট ভাইকে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। সে আমার ভাই হলেও বিমাতা।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। “আমি একাধিক মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী আমার ভাইকে প্রার্থী করে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। আমি জিতব,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,
“আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী—এতে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে রাজনৈতিক মাঠে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আমি জয়ী হব।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত যে দলের ভোটসংখ্যা বেশি হবে, জয় যাবে তাদের ঘরেই—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক মণ্ডল, বাসদের খালেকুজ্জামান এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে রাজু আহমেদ। বহুমুখী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ-১০ আসনে বৈধতা ফিরল স্বতন্ত্র প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের

কুড়িগ্রাম-৪ এ নজিরবিহীন লড়াই: এক ভাই বিএনপির, আরেক ভাই জামায়াতের প্রার্থী

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একই পরিবারের দুই সহোদর ভিন্ন দুই বড় রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ আজিজুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অপরদিকে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই ভাইয়ের এই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পারিবারিক বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ১৯৯১ সালেই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছোট ভাইকে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। সে আমার ভাই হলেও বিমাতা।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। “আমি একাধিক মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী আমার ভাইকে প্রার্থী করে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। আমি জিতব,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,
“আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী—এতে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে রাজনৈতিক মাঠে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আমি জয়ী হব।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত যে দলের ভোটসংখ্যা বেশি হবে, জয় যাবে তাদের ঘরেই—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক মণ্ডল, বাসদের খালেকুজ্জামান এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে রাজু আহমেদ। বহুমুখী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন