ঢাকা , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তির খসড়া ফাঁস করল সিএনএন ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধের মেয়াদ বাড়াল পাকিস্তান রাফিনিয়াকে ভুল পজিশনে খেলাচ্ছেন আনচেলত্তি, প্রশ্ন তুললেন রোনালদো দেশের প্রধান রুটে চালু হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রেন- প্রধানমন্ত্রী নামাজের ইমামতি রেখে পালিয়ে যাওয়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা গ্রেফতার ইরান আচরণ না বদলালে আবার বোমা হামলা হবে : ট্রাম্প শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই নিজেকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সন্তান’ বলা স্লিপ অব টাং: জামায়াত এমপি

কুড়িগ্রাম-৪ এ নজিরবিহীন লড়াই: এক ভাই বিএনপির, আরেক ভাই জামায়াতের প্রার্থী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৪৬৬ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একই পরিবারের দুই সহোদর ভিন্ন দুই বড় রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ আজিজুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অপরদিকে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই ভাইয়ের এই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পারিবারিক বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ১৯৯১ সালেই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছোট ভাইকে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। সে আমার ভাই হলেও বিমাতা।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। “আমি একাধিক মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী আমার ভাইকে প্রার্থী করে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। আমি জিতব,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,
“আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী—এতে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে রাজনৈতিক মাঠে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আমি জয়ী হব।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত যে দলের ভোটসংখ্যা বেশি হবে, জয় যাবে তাদের ঘরেই—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক মণ্ডল, বাসদের খালেকুজ্জামান এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে রাজু আহমেদ। বহুমুখী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তরুণীর কবর থেকে ছড়াচ্ছিল সুগন্ধি,স্বপ্নে দেখলেন জীবিত, অতঃপর কবর খুঁড়ে যা দেখলেন

কুড়িগ্রাম-৪ এ নজিরবিহীন লড়াই: এক ভাই বিএনপির, আরেক ভাই জামায়াতের প্রার্থী

আপডেট সময় ০৭:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী রাজনৈতিক চাঞ্চল্য। একই পরিবারের দুই সহোদর ভিন্ন দুই বড় রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত আলহাজ আজিজুর রহমান ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অপরদিকে তার ভাই মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
দুই ভাইয়ের এই সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পারিবারিক বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে বিএনপির প্রার্থী আলহাজ আজিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,
“আমি ১৯৯১ সালেই নির্বাচন করেছি। নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। ছোট ভাইকে আমি কোনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখি না। সে আমার ভাই হলেও বিমাতা।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নেতাকর্মীদের ব্যাপক উদ্দীপনা তাকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। “আমি একাধিক মেয়াদে চেয়ারম্যান ছিলাম। জামায়াতে ইসলামী আমার ভাইকে প্রার্থী করে কোনো সুবিধা নিতে পারবে না। আমি জিতব,”—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন,
“আমার ভাই বিএনপির প্রার্থী—এতে ভোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। আমাদের মধ্যে পারিবারিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে রাজনৈতিক মাঠে কোনো ছাড় নেই। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করে আমি জয়ী হব।”
স্থানীয়দের মতে, একই পরিবারের দুই প্রার্থীর কারণে ভোটের মাঠে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার ভোটে বিভাজন সৃষ্টি হতে পারে। ফলে শেষ পর্যন্ত যে দলের ভোটসংখ্যা বেশি হবে, জয় যাবে তাদের ঘরেই—এমনটাই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে আরও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফিজুর রহমান, জাতীয় পার্টির ফজলুল হক মণ্ডল, বাসদের খালেকুজ্জামান এবং বাসদ (মার্ক্সবাদী) থেকে রাজু আহমেদ। বহুমুখী প্রার্থীর উপস্থিতিতে এই আসনের নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন