ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
র্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে পদত্যাগ আর্জেন্টিনার শীর্ষ কর্মকর্তার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান নিয়ে আশ্বস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার পথ এড়াতে কি ইচ্ছাকৃত ড্র পর্তুগালের? ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে প্রাণহানি ছাড়াল হাজার লেবাননে অভিযানে প্রাণ গেল ইসরায়েলি প্লাটুন কমান্ডারের ডিগ্রির ব্যবসার অবসান নিয়ে কী বললেন প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ? অবশেষে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘আর্জেন্টিনাকে বিদায় করবে কেপ ভার্দে’, এবার ভবিষ্যদ্বাণী ঘানার তান্ত্রিক বোন্সামের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রদর্শন আরও কিছুদিন বিরোধী দলে থাকুন, সমালোচনা শিখে যাবেন

এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৩৯৪ জনের, সবচেয়ে বেশি সড়কে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবারের ঈদুল ফিতরের আগেপরে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২৮৮ জন। আর ঈদের এই ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কেযা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরছে।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগররুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন২০২৬প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল। সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নতুন সরকার আসলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিকশ্রমিক নেতাদের মাফিয়া স্টাইল নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। পরিবহন মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা নিতে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

দুর্ঘটনার মূল কারণসমূহ:

. সড়কমহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।

. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক।

. উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি।

. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের ট্রাক, পিকআপ ও ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ।

দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার নিবন্ধন বন্ধ করা, জাতীয় মহাসড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা করা এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মোট ২১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে। 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

র্নীতি কেলেঙ্কারির জেরে পদত্যাগ আর্জেন্টিনার শীর্ষ কর্মকর্তার

এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ৩৯৪ জনের, সবচেয়ে বেশি সড়কে

আপডেট সময় ০১:৫৫:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

এবারের ঈদুল ফিতরের আগেপরে সড়ক, নৌ ও রেলপথে দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২৮৮ জন। আর ঈদের এই ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১০৪৬ জন আহত হয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কেযা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরছে।

আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগররুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনেঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন২০২৬প্রকাশ করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১২৮৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদে ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ। এছাড়া দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস ছিল। সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, নতুন সরকার আসলেও পরিবহন খাতে পুরোনো আমলা এবং মালিকশ্রমিক নেতাদের মাফিয়া স্টাইল নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় যাত্রী বা নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। পরিবহন মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা নিতে ভাড়া নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে।

দুর্ঘটনার মূল কারণসমূহ:

. সড়কমহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল।

. ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক।

. উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং সড়কে চাঁদাবাজি।

. অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রীদের ট্রাক, পিকআপ ও ট্রেনের ছাদে জীবনঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ।

দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতি বেশ কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু করা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার নিবন্ধন বন্ধ করা, জাতীয় মহাসড়কে রাতে আলোর ব্যবস্থা করা এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, একই সময়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মোট ২১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলে।