২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট ব্র্যাকেট প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা ছিল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য বিশ্বকাপ দ্বৈরথ। তবে পর্তুগালের শেষ গ্রুপ ম্যাচের ড্র সেই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এখন বিশ্বকাপে দুই মহাতারকার মুখোমুখি হওয়ার একমাত্র সম্ভাবনা ফাইনাল।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে পর্তুগাল। পুরো ম্যাচেই তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে ছিল রোনালদোর দল। বলের দখল, আক্রমণ এবং লক্ষ্যে শট—প্রায় সব পরিসংখ্যানে এগিয়ে ছিল কলম্বিয়া। শেষ পর্যন্ত কোনোভাবে এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কলম্বিয়া। অন্যদিকে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্বে উঠেছে পর্তুগাল। এতে নকআউট ব্র্যাকেটেও বড় পরিবর্তন এসেছে। গ্রুপসেরা হলে যে পথে এগোত পর্তুগাল, এখন তার উল্টো ব্র্যাকেটে চলে গেছে দলটি।
আর্জেন্টিনা গ্রুপ ‘জে’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ৩২-এ কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘কে’-এর রানার্সআপ পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া। দুই দল এখন ব্র্যাকেটের দুই ভিন্ন অংশে অবস্থান করায় ফাইনালের আগে তাদের মুখোমুখি হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।
ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে এখন উঠে এসেছে কলম্বিয়ার নাম। অবশ্য সে জন্য দুই দলকেই নিজেদের ম্যাচ জিতে শেষ আটে পৌঁছাতে হবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পুরো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল কখনো কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। শুধু এই দুই তারকার যুগেই নয়, ফুটবল ইতিহাসেও দুই দেশের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি।
তাই যদি দুই দল সব বাধা পেরিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে, তবে সেটি হবে ইতিহাসের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক আর্জেন্টিনা-পর্তুগাল লড়াই। একই সঙ্গে বিশ্বফুটবলের দুই কিংবদন্তি—মেসি ও রোনালদোর সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ দ্বৈরথও হতে পারে সেটিই। তবে সেই স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছাতে এখনও দুই দলকেই পাড়ি দিতে হবে দীর্ঘ ও কঠিন পথ।

ডেস্ক রিপোর্ট 























