এবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরবি হরফে লেখা কালিমা সম্বলিত সাদা পতাকা টানানোর বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। তার মতে, এ ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক অংশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায় থাকতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, উপদেষ্টারা সরাসরি এসব দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত—এমন দাবি তিনি করছেন না, আবার পুরোপুরি দায়মুক্তও নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি দুর্নীতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তামাদি হয় না এবং ভবিষ্যতেও তদন্ত করা সম্ভব। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) স্বাধীনভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ না থাকে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পলাতক শেখ হাসিনার বিষয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার বিষয়টি গণমাধ্যমকে অনুসরণ করতে হবে। একইসঙ্গে দ্রুত তথ্য কমিশন গঠন এবং গণমাধ্যম কমিশন পুনর্গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো নামে বা আড়ালে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। অর্থনীতি ও উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ব্যাংক আইনের একটি বিতর্কিত ধারা সংশোধন করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
খাদ্য পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, খাদ্য মজুত বেড়েছে এবং এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে সরকার আশা করছে। ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগে ভোগান্তি কমবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিরোধীদলীয় ৬৫ জন সংসদ সদস্যকে এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিজনকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা কমাতে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ জেলায় বজ্রনিরোধক দণ্ড ও ছাউনি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগের তালগাছ রোপণ প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে সড়ক বা করিডর সংযোগের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। একইসঙ্গে অতীতের আঞ্চলিক যোগাযোগ পরিকল্পনাগুলোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, এটি মূলত চীনের প্রস্তাব ছিল এবং পরে বিভিন্ন দেশের আগ্রহ যুক্ত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এটি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশ নিজের স্বার্থ বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করবে এবং তিস্তা প্রকল্প কোনো দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হবে কি না—সে বিষয়েও সরকার সচেতন।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















