মো. কাউসার নামের এক প্রবাসীর পাঠানো ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুটের অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজধানীর বিমানবন্দর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রউফ ও আল আমিন শান্ত স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, এক ব্যক্তির কাছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠিয়েছিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. কাউসার। বোনের বিয়ে এবং পরিবারের ব্যবহারের জন্য এগুলো পাঠিয়েছিলেন তিনি। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে তার কাছ থেকে সেগুলো গ্রহণ করেন কাউসারের ছোট ভাই সুমন ও তার সহযোগী রোহান চৌধুরী।

স্বর্ণালংকার বুঝে নিয়ে তারা একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে ওঠেন। সেখান থেকে কাওলায় নেমে নরসিংদীর রায়পুরার উদ্দেশ্যে বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল তাদের। সে অনুযায়ী, কাওলায় মাইক্রো থেকে নামলে কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরেন।

বিমানবন্দর থানায় সুমনের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘিরে ধরার পর হামলাকারীরা তাদের ‘তোরা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ করিস’, ‘তোদের সাথে বোমা আছে’ এ জাতীয় কথাবার্তা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে তাদেরকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

মামলায় হামলাকারী হিসেবে আব্দুর রউফ (৪০), রিপন (২৭), আল আমিন শান্ত (২৭) ও রুবেল (৩২) নামের চারজনকে আসামি করা হয়। সে অনুযায়ী শনিবার রউফ ও শান্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ছিনিয়ে নেওয়া ৯৫ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার (৩০ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে উভয়ের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনই বিএনপি ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুর রউফ বিএনপির বিমানবন্দর থানার একটি ওয়ার্ডের সভাপতি। আর আল আমিন শান্ত বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। আরেক আসামি রিপন বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি। রুবেলও স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাব্বির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আব্দুর রউফ ও আল আমিন শান্ত নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। ৯৫ গ্রাম স্বর্ণালংকার উদ্ধার হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার ও বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।