ঢাকা , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আলোচিত সবুজ মাংস: ল্যাব রিপোর্টে জানা গেল ঘটনার আসল রহস্য স্পিকারকে পিটিয়ে হত্যা ও জুতা ছোড়াছুড়ির কালো ইতিহাসে ফিরতে চাই না: সংসদে তাহের রাজনীতি আর কোনো নির্বাচনে এক ভোটও কারচুপি হতে দেবো না: সেলিম উদ্দীন আইফোন কিনতে সন্তানকে লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক পুলিশের উপস্থিতিতে নারী উদ্যোক্তাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল প্রবাসীর ৪০ লাখ টাকার স্বর্ণ লুট, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ মহাবিশ্বের অজানা রহস্য অনুসন্ধানে পাঠানো হলো শক্তিশালী টেলিস্কোপ রুমিন ফারহানার ‘হাঁস’ খেয়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দিলেন সারোয়ার তুষার বাউফলে পিআইও-এএসআইয়ের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মানববন্ধন

গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আজ রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বললেন, গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করা, সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে এই জাতি একবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাতের অন্ধকারে মানুষকে তুলে নিয়ে যেত। বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিচারহীন আটক, নির্যাতন ও নির্মম দমন চালানো হয়েছিল। সেদিনও রাষ্ট্রীয় শক্তি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করেছিল। সেদিনও মায়েরা সন্তানের খোঁজে ঘুরেছেন। অনেক পরিবার আর কখনো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পায়নি।

 

 

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা পরবর্তী প্রজন্মকে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলেছে, তা এই চেতনা থেকেই শক্তি নিয়েছে। কারণ অত্যাচারের ধরন একই ছিল।

 

ইশরাক হোসেন বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনে ২ হাজারেরও বেশি মানুষকে অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক, ছাত্র-যারাই প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের অনেককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শত শত মানুষ আর কখনো বাড়ি ফেরেননি। তাদের ভাগ্য আজও অজানা।

 

 

তিনি বলেন, তাদের পরিবারগুলো আজ এই কক্ষে উপস্থিত। তাদের অপেক্ষা, তাদের নীরব কান্না কোনো বিমূর্ত ঘটনা নয়। এটা একটি জাতির ক্ষত। মৃত্যুর সংবাদ মানুষকে অন্তত শোক করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু গুম একজন মানুষকে তার প্রিয়জনের জন্য শোক করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়। এই অনিশ্চয়তা, এই অন্তহীন অপেক্ষা নিজেই এক ধরনের নির্মম নির্যাতন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ করতে আসিনি। আমরা এসেছি তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাব পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে।

 

গুম শুধু একটি অপরাধ নয়। গুম হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপ। মানুষকে আইনের আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া, তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা-এটা ১৯৭১-এর হানাদার বাহিনীর পদ্ধতিরই পুনরাবৃত্তি। তখনও মানুষকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। পরেও গোপন কক্ষে, আয়নাঘরে মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। তখনও প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছিল। সত্য বলার সাহসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল-উল্লেখ করেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলোচিত সবুজ মাংস: ল্যাব রিপোর্টে জানা গেল ঘটনার আসল রহস্য

গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করাই আমাদের দায়িত্ব: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

আপডেট সময় ১০:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আজ রোববার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬-এর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বললেন, গুমের পুনরাবৃত্তি চিরতরে বন্ধ করা, সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতিকার ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

 

ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালে এই জাতি একবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী রাতের অন্ধকারে মানুষকে তুলে নিয়ে যেত। বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছিল। বাঙালির স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিচারহীন আটক, নির্যাতন ও নির্মম দমন চালানো হয়েছিল। সেদিনও রাষ্ট্রীয় শক্তি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করেছিল। সেদিনও মায়েরা সন্তানের খোঁজে ঘুরেছেন। অনেক পরিবার আর কখনো তাদের প্রিয়জনকে ফিরে পায়নি।

 

 

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা পরবর্তী প্রজন্মকে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চলেছে, তা এই চেতনা থেকেই শক্তি নিয়েছে। কারণ অত্যাচারের ধরন একই ছিল।

 

ইশরাক হোসেন বলেন, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই ফ্যাসিবাদী শাসনে ২ হাজারেরও বেশি মানুষকে অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক নেতা, কর্মী, সাংবাদিক, ছাত্র-যারাই প্রতিবাদ করেছিলেন, তাদের অনেককে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শত শত মানুষ আর কখনো বাড়ি ফেরেননি। তাদের ভাগ্য আজও অজানা।

 

 

তিনি বলেন, তাদের পরিবারগুলো আজ এই কক্ষে উপস্থিত। তাদের অপেক্ষা, তাদের নীরব কান্না কোনো বিমূর্ত ঘটনা নয়। এটা একটি জাতির ক্ষত। মৃত্যুর সংবাদ মানুষকে অন্তত শোক করার সুযোগ করে দেয়। কিন্তু গুম একজন মানুষকে তার প্রিয়জনের জন্য শোক করার অধিকারটুকুও কেড়ে নেয়। এই অনিশ্চয়তা, এই অন্তহীন অপেক্ষা নিজেই এক ধরনের নির্মম নির্যাতন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু গুম হওয়া মানুষদের স্মরণ করতে আসিনি। আমরা এসেছি তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচারের অধিকার এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাব পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করতে।

 

গুম শুধু একটি অপরাধ নয়। গুম হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রূপ। মানুষকে আইনের আওতার বাইরে নিয়ে যাওয়া, তার অস্তিত্ব অস্বীকার করা এবং পরিবারগুলোকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা-এটা ১৯৭১-এর হানাদার বাহিনীর পদ্ধতিরই পুনরাবৃত্তি। তখনও মানুষকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হতো। পরেও গোপন কক্ষে, আয়নাঘরে মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হয়েছিল। তখনও প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করা হয়েছিল। সত্য বলার সাহসকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল-উল্লেখ করেন তিনি।