ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জন্মদাত্রী মায়ের ঠাঁই মুরগির খোপে! সন্তানদের অবহেলায় মানবেতর জীবন পটুয়াখালীর নুরজাহানের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫
  • ৬১৬০ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ লাউকাঠী গ্রামে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। যে মা এক সময় বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে সন্তানদের মানুষ করেছেন, সেই মা নুরজাহান বেগম এখন আশ্রয় নিয়েছেন একটি পুরনো মুরগির খোপে। বছরের পর বছর ধরে স্যাতস্যাতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন এই জনমদুঃখিনী মা।

মুরগি রাখার ওই খোপটিতে নেই কোনো কাঁথা, বালিশ বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা। সেখানে কোনোরকমে বসে থাকেন নুরজাহান বেগম। মাঝে মাঝে খাবারের আশায় চিৎকার করলেও, কেউ তাঁর ডাকে সাড়া দেন না।

স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধা মাকে প্রতিদিন সকালে মুরগির খোপে রেখে সন্তান ও পুত্রবধূরা কাজে চলে যান। ঘরটি তালাবদ্ধ করে তারা দিনভর অনুপস্থিত থাকেন। সারাদিন নিরুপায় নুরজাহান বেগম খাবারের আশায় বাড়ি থেকে বাড়ি ছুটে বেড়ান নড়বড়ে শরীর নিয়ে।

সম্প্রতি পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় এবং হাত ভেঙে যায় তাঁর। সারা দিন ধরে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তিনি। একটু পানি চাওয়ার জন্য তীব্র আর্তনাদ করলেও, শোনার মতো কেউ নেই পাশে।

বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির কারণে তাঁর থাকার জায়গার চারপাশে জমে আছে জোয়ারের পানি। এতে তাঁর মধ্যে কাজ করছে অজানা আতঙ্ক।

দশ মাস দশ দিনের যন্ত্রণা, সন্তানদের না খেয়ে খাইয়ে বড় করা, তাদের শখ-আহ্লাদ পূরণ করে বড় করে তোলার পরও শেষ বয়সে এমন নির্মম পরিণতি! মানবিকতার এই চরম অবক্ষয়ের ঘটনায় নুরজাহান বেগমের দুই সন্তানের কাছে জানতে চাইলেও তারা কারো নাগালে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মদাত্রী মায়ের ঠাঁই মুরগির খোপে! সন্তানদের অবহেলায় মানবেতর জীবন পটুয়াখালীর নুরজাহানের

আপডেট সময় ০৭:৩৩:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ মে ২০২৫

পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের দক্ষিণ লাউকাঠী গ্রামে ঘটেছে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা। যে মা এক সময় বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করে সন্তানদের মানুষ করেছেন, সেই মা নুরজাহান বেগম এখন আশ্রয় নিয়েছেন একটি পুরনো মুরগির খোপে। বছরের পর বছর ধরে স্যাতস্যাতে ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন এই জনমদুঃখিনী মা।

মুরগি রাখার ওই খোপটিতে নেই কোনো কাঁথা, বালিশ বা বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা। সেখানে কোনোরকমে বসে থাকেন নুরজাহান বেগম। মাঝে মাঝে খাবারের আশায় চিৎকার করলেও, কেউ তাঁর ডাকে সাড়া দেন না।

স্থানীয়রা জানান, বৃদ্ধা মাকে প্রতিদিন সকালে মুরগির খোপে রেখে সন্তান ও পুত্রবধূরা কাজে চলে যান। ঘরটি তালাবদ্ধ করে তারা দিনভর অনুপস্থিত থাকেন। সারাদিন নিরুপায় নুরজাহান বেগম খাবারের আশায় বাড়ি থেকে বাড়ি ছুটে বেড়ান নড়বড়ে শরীর নিয়ে।

সম্প্রতি পড়ে গিয়ে মাথা ফেটে যায় এবং হাত ভেঙে যায় তাঁর। সারা দিন ধরে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তিনি। একটু পানি চাওয়ার জন্য তীব্র আর্তনাদ করলেও, শোনার মতো কেউ নেই পাশে।

বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির কারণে তাঁর থাকার জায়গার চারপাশে জমে আছে জোয়ারের পানি। এতে তাঁর মধ্যে কাজ করছে অজানা আতঙ্ক।

দশ মাস দশ দিনের যন্ত্রণা, সন্তানদের না খেয়ে খাইয়ে বড় করা, তাদের শখ-আহ্লাদ পূরণ করে বড় করে তোলার পরও শেষ বয়সে এমন নির্মম পরিণতি! মানবিকতার এই চরম অবক্ষয়ের ঘটনায় নুরজাহান বেগমের দুই সন্তানের কাছে জানতে চাইলেও তারা কারো নাগালে পাওয়া যায়নি।