ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইসরায়েলগামী সেই বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টা করেছেন পাইলট, বলল নেতানিয়াহু ডেঙ্গু ঠেকাতে সচেতনতার বার্তা, রমনায় মশক নিধন অভিযানে সাদিক কায়েম ঠাকুরগাঁওয়ে ফার্মেসিতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় ওষধ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪ নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার শহীদ হাদির নাম মুছে আগের নামেই ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’ ভিক্টিম ভিক্টিমের মতো থাকবা, তুমি প্রতিবাদ করবা কেন: আসিফ মাহমুদ মার্কিন সেনামুক্ত ইরাককে স্বাগত জানাল ইরান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজ বাদ দিয়ে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত: গোলাম পরওয়ার সারের সংকট নিয়ে আন্দোলন বিএনপিকে হেয় করার চক্রান্ত: মীর শাহে আলম চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করতে গেলে সব অর্জনই হারিয়ে যাবে: মাসুদ কামাল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
  • ৪৫৩ বার পড়া হয়েছে

এবার মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করতে গেলে সব অর্জনই হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, অন্যকে ছোট করে নিজে বড় হওয়া যায় না। ’৭১-কে ছোট করে জুলাইকে বড় করতে গেলে জুলাই একসময় হারিয়ে যাবে। ’৭১ কত বড় ছিল, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কত বড় ঘটনা ছিল এটা বুঝতে হলে আরেকটু সময় লাগবে।

একটা সময়, একটা স্রোতের মধ্যে বসে, একটা হুজুগের মধ্যে থেকে বিচার করতে পারবেন না। হুজুগের বাইরে আসেন তাহলে বুঝতে পারবেন। আপনি যে ঘটনার সুবিধাভোগী আপনি সেই ঘটনাটাকে বড় করে দেখবেন, এটাই স্বাভাবিক। আসিফ নজরুল গত জুলাই আন্দোলনের সুবিধাভোগী ব্যক্তি।

উনি এখন মন্ত্রী হয়েছেন উনার কাছে এটাই বিরাট কিছু। উনি কিভাবে এটাকে কম করে দেখবেন? চেষ্টা করলেও পারবেন না। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিও বার্তাতে তিনি এসব কথা বলেন। মাসুদ কামাল বলেন, আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুলের একটা মন্তব্য নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে।

জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে তিনি মন্তব্য করেছেন— শেখ হাসিনা ও তার সরকার যে জঘন্য অপরাধ করে গেছে এমন অপরাধ ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সংঘটিত হয়নি। তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের তুলনা করতে যাওয়া কেন? এই তুলনা করতে যাওয়াটা এক ধরনের মূর্খতা।

মাসুদ বলেন, আসিফ নজরুল এটা নিয়ে বলার কিছুক্ষণের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রল হচ্ছে, সমালোচনা হচ্ছে। তার যিনি শ্বশুর ছিলেন মিস্টার হুমায়ূন আহমেদ তার স্ত্রীও ব্যঙ্গ করে উনাকে একটা ট্রল করেছেন।

সাংবাদিক মাসুদ বলেন, পরে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি নিজের ফেসবুকে মন্তব্য দিয়েছেন। সেখানে শেখ হাসিনার অপরাধের একটা বর্ণনা দিয়েছেন। এই বর্ণনাটা দুঃখ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে জরুরি ছিল কিনা এটা নিয়ে দ্বিধা আছে। তিনি লিখেছে, শেখ হাসিনার নৃশংসতার সঙ্গে ’৭১-এর বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা তুলনা করা ঠিক হয়নি আমার। দুটোই জঘন্যতম অপরাধ। আমার কথায় যারা ভেবেছেন আমি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ছোট করে দেখছি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

মাসুদ বলেন, উনি বলেছে ’৭১-এ বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নৃশংসতা হয়েছে তা পাকিস্তানি বাহিনী করেছে। আর রাজাকাররা করেনি? রাজাকার আলবদর তারা কি কম করেছে? তাদের কথাও একটু উল্লেখ করে বলতেন যে পাকিস্তানি বাহিনী ও আমাদের এদেশীয় তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনী। রাজাকারকে আপনি ক্লিনচিট দিচ্ছেন কেন?

মাসুদ আরো বলেন, উনি বললেন যারা আমার কথায় ভেবেছেন যে আমি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ছোট করে দেখছি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তার মানে উনি যে কথাটা বলেছেন সেখান থেকে সরেননি। যারা উনার কথায় ভেবেছেন, উনি শুধু তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অন্য কারো কাছে না। আপনি নিজের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন আগে। আপনি এ কাজটা ঠিক করেছেন? দুটোর সঙ্গে তুলনা করা যায়? যায় না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলগামী সেই বিমান বিধ্বস্তের চেষ্টা করেছেন পাইলট, বলল নেতানিয়াহু

মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করতে গেলে সব অর্জনই হারিয়ে যাবে: মাসুদ কামাল

আপডেট সময় ১১:৫৬:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫

এবার মুক্তিযুদ্ধকে ছোট করতে গেলে সব অর্জনই হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। তিনি বলেন, অন্যকে ছোট করে নিজে বড় হওয়া যায় না। ’৭১-কে ছোট করে জুলাইকে বড় করতে গেলে জুলাই একসময় হারিয়ে যাবে। ’৭১ কত বড় ছিল, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কত বড় ঘটনা ছিল এটা বুঝতে হলে আরেকটু সময় লাগবে।

একটা সময়, একটা স্রোতের মধ্যে বসে, একটা হুজুগের মধ্যে থেকে বিচার করতে পারবেন না। হুজুগের বাইরে আসেন তাহলে বুঝতে পারবেন। আপনি যে ঘটনার সুবিধাভোগী আপনি সেই ঘটনাটাকে বড় করে দেখবেন, এটাই স্বাভাবিক। আসিফ নজরুল গত জুলাই আন্দোলনের সুবিধাভোগী ব্যক্তি।

উনি এখন মন্ত্রী হয়েছেন উনার কাছে এটাই বিরাট কিছু। উনি কিভাবে এটাকে কম করে দেখবেন? চেষ্টা করলেও পারবেন না। সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিও বার্তাতে তিনি এসব কথা বলেন। মাসুদ কামাল বলেন, আইন ও বিচার বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর আসিফ নজরুলের একটা মন্তব্য নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে।

জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে একটা অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে তিনি মন্তব্য করেছেন— শেখ হাসিনা ও তার সরকার যে জঘন্য অপরাধ করে গেছে এমন অপরাধ ’৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়ও সংঘটিত হয়নি। তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধের তুলনা করতে যাওয়া কেন? এই তুলনা করতে যাওয়াটা এক ধরনের মূর্খতা।

মাসুদ বলেন, আসিফ নজরুল এটা নিয়ে বলার কিছুক্ষণের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ট্রল হচ্ছে, সমালোচনা হচ্ছে। তার যিনি শ্বশুর ছিলেন মিস্টার হুমায়ূন আহমেদ তার স্ত্রীও ব্যঙ্গ করে উনাকে একটা ট্রল করেছেন।

সাংবাদিক মাসুদ বলেন, পরে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি নিজের ফেসবুকে মন্তব্য দিয়েছেন। সেখানে শেখ হাসিনার অপরাধের একটা বর্ণনা দিয়েছেন। এই বর্ণনাটা দুঃখ প্রকাশ করার ক্ষেত্রে জরুরি ছিল কিনা এটা নিয়ে দ্বিধা আছে। তিনি লিখেছে, শেখ হাসিনার নৃশংসতার সঙ্গে ’৭১-এর বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা তুলনা করা ঠিক হয়নি আমার। দুটোই জঘন্যতম অপরাধ। আমার কথায় যারা ভেবেছেন আমি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ছোট করে দেখছি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।

মাসুদ বলেন, উনি বলেছে ’৭১-এ বাংলাদেশের মানুষের ওপর যে নৃশংসতা হয়েছে তা পাকিস্তানি বাহিনী করেছে। আর রাজাকাররা করেনি? রাজাকার আলবদর তারা কি কম করেছে? তাদের কথাও একটু উল্লেখ করে বলতেন যে পাকিস্তানি বাহিনী ও আমাদের এদেশীয় তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনী। রাজাকারকে আপনি ক্লিনচিট দিচ্ছেন কেন?

মাসুদ আরো বলেন, উনি বললেন যারা আমার কথায় ভেবেছেন যে আমি ’৭১-এ পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ছোট করে দেখছি তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। তার মানে উনি যে কথাটা বলেছেন সেখান থেকে সরেননি। যারা উনার কথায় ভেবেছেন, উনি শুধু তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অন্য কারো কাছে না। আপনি নিজের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন আগে। আপনি এ কাজটা ঠিক করেছেন? দুটোর সঙ্গে তুলনা করা যায়? যায় না।