ঢাকা , বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ১৫২ বার পড়া হয়েছে

যশোরের মনিরামপুরে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেছেন, তার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং বাস্তব কোনো নির্দেশনা ছিল না।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির যৌথ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। একজন জামায়াতে ইসলামের কোনো কর্মীকে যদি উপজেলার মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।’ ওই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একই বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদের জামায়াতে ইসলামীর ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, ফিতরা এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে ধর্মীয় প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, রাজনৈতিক মঞ্চে অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। তার বক্তব্যকে বাস্তব কোনো নির্দেশনা বা সহিংসতার আহ্বান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় জামায়াতের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন এবং বিএনপির প্রায় ৭০০ জন সমর্থক অংশ নেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সবার পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

মিন্টু বলেন, ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ভাইরাল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক ছিলেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি জানিয়েছেন যে বক্তব্যটি ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য এবং এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনিরামপুর উপজেলা শাখার আমির ও যশোর জেলা শূরা সদস্য সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমান ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, বক্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে

আপডেট সময় ০৬:১০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

যশোরের মনিরামপুরে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া হুঁশিয়ারিমূলক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেছেন, তার বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং বাস্তব কোনো নির্দেশনা ছিল না।

জানা গেছে, গত ২৫ জুলাই ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির যৌথ সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘আগামীকাল সকাল থেকে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা হবে। একজন জামায়াতে ইসলামের কোনো কর্মীকে যদি উপজেলার মাঠে পাই, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে।’ ওই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

একই বক্তব্যে তিনি উপস্থিত নারী সমর্থকদের জামায়াতে ইসলামীর ‘বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, ফিতরা এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভ নিয়ে ধর্মীয় প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

ভাইরাল বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, রাজনৈতিক মঞ্চে অনেক সময় রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। তার বক্তব্যকে বাস্তব কোনো নির্দেশনা বা সহিংসতার আহ্বান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষা পরবর্তীতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় জামায়াতের প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন এবং বিএনপির প্রায় ৭০০ জন সমর্থক অংশ নেন। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এবং সবার পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে।

মিন্টু বলেন, ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত পরীক্ষার সময় তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। ভাইরাল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যেন কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও তারা সতর্ক ছিলেন বলে জানান তিনি।

এছাড়া, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাইকে তিনি জানিয়েছেন যে বক্তব্যটি ছিল রাজনৈতিক বক্তব্য এবং এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনিরামপুর উপজেলা শাখার আমির ও যশোর জেলা শূরা সদস্য সহকারী অধ্যাপক ফজলুর রহমান ব্যস্ততার কথা জানিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও, বক্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতা।