সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে দেশটির সরকার। এখন প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি নথিপত্র দ্রুত পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মুখপাত্র ও উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের পর মামলার প্রাথমিক নথি পর্যালোচনা করে দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করেছে। এ পর্যায়ে বন্দি প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় আরও কিছু তথ্য ও নথি চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুদকের পক্ষ থেকে এসব নথি প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ। শিগগিরই সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইন্টারপোলের মাধ্যমে নথিগুলো দুবাই পুলিশের কাছে পাঠানো হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানান, যেহেতু মামলাগুলোর তদন্ত করছে দুদক, তাই প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত প্রস্তুতের দায়িত্বও তাদের।

ছয় মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর

দুদকের করা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলার আসামি বেনজীর আহমেদ। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়েছে এবং আরেকটির বিচার চলছে। এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

বাংলাদেশ সরকারের আবেদনের পর ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। পরে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ।

যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেবে আমিরাত

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে চারটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, দুই দেশের আইনের সামঞ্জস্য, আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত আইনজীবী ওলোরা আফরিন বলেন, আদালত প্রথমে যাচাই করবে, বাংলাদেশে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তা আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় কি না। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। এরপর আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সিদ্ধান্ত নেবে।

চ্যালেঞ্জও রয়েছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ থাকলেও প্রত্যর্পণ সব সময় সহজ হয় না। অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব বা বৈধ আবাসিক সুবিধা নিয়ে থাকেন, তাহলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়েছে, বেনজীর আহমেদ বিনিয়োগের মাধ্যমে তুরস্কের নাগরিকত্ব নিয়েছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতেও তার বিনিয়োগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমিরাত কর্তৃপক্ষ বা বেনজীর আহমেদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকার আশাবাদী

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা গেলে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। যদিও পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দুদকের মুখপাত্র আকতারুল ইসলাম বলেন, "প্রক্রিয়াটি মাত্র শুরু হয়েছে। তাই ঠিক কতদিন লাগবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।"

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।