বিপর্যস্ত নেপাল। চীনের তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন রসুয়া, নুয়াকোট, চিতওয়ান জেলা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা হারিয়েছে ৭৯০। নিখোঁজ আছে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। জরুরি ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৯৩ হাজার মানুষ। এমন অবস্থায় সীমান্ত থেকেই ভারতীয় ত্রাণ ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ নেপালি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।
দেশটিতে ভয়াবহ দুর্যোগের পর ভারত সরকার এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮.৫ টন ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধ, জরুরি খাদ্যসামগ্রী, তাবু ও অস্থায়ী আশ্রয় তৈরির কিট, কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ওয়াটার পিউরিফায়ার এবং জেনারেটর সেট। একটি বিশেষ টানেল উদ্ধারকারী দলও পাঠিয়েছে ভারত। এছাড়াও পাঠিয়েছে ২৩০ ফুটের একটি মডুলার স্টিল বেইলি ব্রিজ তৈরির সরঞ্জামসহ আরও ১৭টি ব্রিজ তৈরির সরঞ্জাম। ১৬ ট্রাকে ও চারটি বিমানে এসব সরঞ্জাম গেছে নেপালে।
দুর্যোগের পর শুধু ভারত সরকার নয়, ভারতের সাধারণ নাগরিকরাও বিভিন্ন এনজিও নিজ নিজ উদ্যোগে নেপালে সাহায্যে পৌঁছানোর কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু ভারতের অভিযোগ, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই নেপালের সীমান্তে সেইসব ত্রাণবাহী গাড়ি আটকে দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেপালের কাস্টম এই ত্রাণ সামগ্রী নেপালের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
ভারতের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ, সরঞ্জামগুলো পাঠানো বেসরকারি সংস্থাগুলোকে নেপালের কাস্টমস জানিয়েছে ত্রাণ দিতে হলে সেই ত্রাণ নেপাল থেকে কিনে তবে দিতে হবে। আর এমন ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ভারতীয়রা।
অস্কিমিয়া জিরোলি নামের একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেন, নেপালের কী ভয়ানক উদ্ধত্ব, তারা মানবিকতার থেকে রাজনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তারা বলছে, নেপাল থেকে ত্রাণ কিনে নেপালে দেয়া হোক, ভারতীয় ত্রাণ তারা ঢুকতে দেবে না। তারা ত্রাণ বোঝাই গাড়িগুলোকে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। ত্রাণের গাড়ি ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনায় রাগান্বিত উত্তরপ্রদেশের যুবক রতন ধিল্লোর বলেন, ‘ভারত সবসময় নেপাল কে স্বার্থ ছাড়া সাহায্য করে আসছে। কিন্তু নেপাল ভারতকে অপমান করতে ব্যস্ত।’
নেপাল থেকে গজেন্দ্র বুদ্ধা নামের একজন অবশ্য জানিয়েছেন, নেপাল কাস্টমস বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো বিদেশি সহায়তা বা ত্রাণসামগ্রী ছাড়পত্রের জন্য নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমোদন প্রয়োজন। সঠিক অনুমোদন বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় কাস্টমস কর্মকর্তারা বেসরকারি ত্রাণ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়াও নেপাল সরকার ব্যক্তিগত বা বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সরাসরি ত্রাণ বিতরণের চেয়ে সরকারের কেন্দ্রীয় তহবিলের মাধ্যমে বা নির্ধারিত একচ্ছত্র ব্যবস্থার অধীনে ত্রাণ বিতরণকে প্রাধান্য দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘নেপাল কাস্টমস বিভাগ কোনো দেশবিরোধী উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের নিজস্ব রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন মেনে আগাম অনুমোদন না থাকা বেসরকারি কনসাইনমেন্টগুলোকে সীমান্তে আটকে তা ফেরত পাাঠিয়েছে।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















