ঢাকা , শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘পিএম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান বলেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল দিতে পারে’: সারজিস আলম রাজনীতির পাশাপাশি আখিরাতের মুক্তির জন্যও কাজ করতে হবে: আজহার ভূগর্ভস্থ ঘাঁটিতে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন শুরু করেছে ইরান কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ আদানির ইউনিট, দেশে লোডশেডিং বাড়ার শঙ্কা আওয়ামী লীগ নিয়ে প্রশ্ন করলে বিব্রত বোধ করি: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী সরকারি টাকা নষ্ট হবে, তাই প্রধানমন্ত্রী মোটা ও সাদা কাপড় পরেন: চিফ হুইপ দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আসিফ মাহমুদের আইনি নোটিশ ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের ক্ষোভ: ঠাকুরগাঁওয়ে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ মিটার রিডার, পরে উদ্ধার হুট করে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল, আরও বাড়ল লোডশেডিং চুরির অভিযোগে তিনজনকে হাত-পা বেঁধে পিটুনি, চোখে ঢালা হলো চুনের পানি

বিজিএমইএ’র অভিযোগে বিরক্ত প্রেস সচিব: “এরা ভাবে, তারাই শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান”

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫০২ বার পড়া হয়েছে

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিজিএমইএ-এর বিবৃতি ও প্রেস রিলিজগুলো পড়লে মনে হয়, যেন প্রতিটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়া সরকারের ব্যর্থতা—যেন কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঁচাতে’ না পারার দায়ে অপরাধী। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন।

শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,

“সমস্যা হলো—এই লোকগুলোর কেউ কেউ মনে করে তারাই শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান। আর বাদবাকি সব আবুল।”

স্ট্যাটাসে তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের অতীত ও বর্তমানের একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তিনি লিখেছেন—একসময় দেশে পাঁচ হাজারেরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা ছিল। এসবের অনেকগুলোই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছিল, এক ভবনে একাধিক ছোট কারখানা চালু ছিল, প্রতিটিতে ১০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক কাজ করতেন। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেই ভবনে অন্তত পাঁচটি কারখানা ছিল, যার একটি ছিল ফ্যান্টম অ্যাপারেলস।

১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ঢাকার মালিবাগ ও আশপাশে ছোট ছোট কারখানা দেখা যেত। কিন্তু ২০১০-এর দশকে বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে গেছে বা শহরের উপকণ্ঠে স্থানান্তরিত হয়েছে। গাজীপুরের অনেক স্যান্ডব্লাস্টিং ইউনিটও কমপ্লায়েন্স না মেলায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে সক্রিয় গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা দুই হাজারের কিছু বেশি হলেও, রপ্তানির পরিমাণ ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি বেড়েছে।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো পোশাক রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়, অথচ এখন ইয়াংওয়ান বা হা-মীম গ্রুপের মতো একটি প্রতিষ্ঠানই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে।

শফিকুল আলম লিখেছেন,

“গত ২৫ বছরে প্রায় তিন হাজার গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে—কেউ কমপ্লায়েন্স না মানায়, কেউ দুর্বল ব্যবস্থাপনায়, কেউ ঋণের ভারে, আবার কেউ শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ঝামেলায়। কেউ কেউ টাকা কামিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে।”

তার মতে, যতক্ষণ রপ্তানির পরিসংখ্যান বাড়ছে, নন-কমপ্লায়েন্ট বা অনিরাপদ কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের জন্য কোনো ক্ষতি নয়। বরং বড় কারখানা মানেই উন্নত কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তা।

তিনি আরও লিখেন,

“বিজিএমইএ এবং তাদের অনুসারী সাংবাদিকরা প্রতিটি কারখানা বন্ধ হওয়াকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখান। এমনকি তথাকথিত বামপন্থীরাও সেই সুরে গলা মেলান। কিন্তু কেউ দেখে না—সেসব কারখানার শ্রমিকরা আরও ভালো পরিবেশে নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছে কিনা।”

শেষে তিনি মন্তব্য করেন,

“২০০০-এর দশকের শুরুতে দেশে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল প্রায় ৩০ লাখ; এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ। কিন্তু কিছু লোক এখনো মনে করে, তারাই বুদ্ধিমান—আর বাকিরা সব আবুল।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পিএম ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চান বলেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ মিছিল দিতে পারে’: সারজিস আলম

বিজিএমইএ’র অভিযোগে বিরক্ত প্রেস সচিব: “এরা ভাবে, তারাই শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান”

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিজিএমইএ-এর বিবৃতি ও প্রেস রিলিজগুলো পড়লে মনে হয়, যেন প্রতিটি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হওয়া সরকারের ব্যর্থতা—যেন কর্তৃপক্ষ তাদের ‘বাঁচাতে’ না পারার দায়ে অপরাধী। অথচ বাস্তবতা ভিন্ন।

শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,

“সমস্যা হলো—এই লোকগুলোর কেউ কেউ মনে করে তারাই শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান। আর বাদবাকি সব আবুল।”

স্ট্যাটাসে তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের অতীত ও বর্তমানের একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

তিনি লিখেছেন—একসময় দেশে পাঁচ হাজারেরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা ছিল। এসবের অনেকগুলোই আবাসিক এলাকায় গড়ে উঠেছিল, এক ভবনে একাধিক ছোট কারখানা চালু ছিল, প্রতিটিতে ১০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক কাজ করতেন। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, সেই ভবনে অন্তত পাঁচটি কারখানা ছিল, যার একটি ছিল ফ্যান্টম অ্যাপারেলস।

১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ঢাকার মালিবাগ ও আশপাশে ছোট ছোট কারখানা দেখা যেত। কিন্তু ২০১০-এর দশকে বেশিরভাগই বন্ধ হয়ে গেছে বা শহরের উপকণ্ঠে স্থানান্তরিত হয়েছে। গাজীপুরের অনেক স্যান্ডব্লাস্টিং ইউনিটও কমপ্লায়েন্স না মেলায় বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে সক্রিয় গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা দুই হাজারের কিছু বেশি হলেও, রপ্তানির পরিমাণ ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি বেড়েছে।
১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো পোশাক রপ্তানি এক বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়, অথচ এখন ইয়াংওয়ান বা হা-মীম গ্রুপের মতো একটি প্রতিষ্ঠানই এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করে।

শফিকুল আলম লিখেছেন,

“গত ২৫ বছরে প্রায় তিন হাজার গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে—কেউ কমপ্লায়েন্স না মানায়, কেউ দুর্বল ব্যবস্থাপনায়, কেউ ঋণের ভারে, আবার কেউ শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ঝামেলায়। কেউ কেউ টাকা কামিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে।”

তার মতে, যতক্ষণ রপ্তানির পরিসংখ্যান বাড়ছে, নন-কমপ্লায়েন্ট বা অনিরাপদ কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের জন্য কোনো ক্ষতি নয়। বরং বড় কারখানা মানেই উন্নত কমপ্লায়েন্স ও নিরাপত্তা।

তিনি আরও লিখেন,

“বিজিএমইএ এবং তাদের অনুসারী সাংবাদিকরা প্রতিটি কারখানা বন্ধ হওয়াকে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে দেখান। এমনকি তথাকথিত বামপন্থীরাও সেই সুরে গলা মেলান। কিন্তু কেউ দেখে না—সেসব কারখানার শ্রমিকরা আরও ভালো পরিবেশে নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছে কিনা।”

শেষে তিনি মন্তব্য করেন,

“২০০০-এর দশকের শুরুতে দেশে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল প্রায় ৩০ লাখ; এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ। কিন্তু কিছু লোক এখনো মনে করে, তারাই বুদ্ধিমান—আর বাকিরা সব আবুল।”