ঢাকা , বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ক্যানসার থেকে বাঁচতে ‘সূরা আর রহমান’ বড় ভূমিকা রেখেছে বাবা খাবেন, বাবার ব্যবসা করবেন, আবার বিএনপিও করবেন—তা হবে না সাহায্য নয়, চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল জামায়াত ইঞ্জিনিয়ারিং করে ৭৮টা সিট পেয়েছে: এমপি নুরুল আমিন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে বিএনপিকে একাধিকবার ক্ষমতায় থাকতে হবে: ইশরাক প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিমান মানুষ, সফরের সিদ্ধান্ত তার ওপর: ভারতীয় হাইকমিশনার আন্দোলনে শিক্ষক-কৃষকদের ওপর করা মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা বিজয় সরকারের ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা নিহত: আইআরজিসি নেপাল-চীন বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৩০, নিখোঁজ ৪৫০০ দেশে ফেরা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সমঝোতার বিষয় অস্বীকার করলেন হাসিনা: হিন্দুস্তান টাইমস

জুমার রাত ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ আমল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৭৯ বার পড়া হয়েছে

 

জুমা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে জুমার পরিধি ধরা হয়। শুধু জুমার নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট নয়—এই দিন ও রাতে রয়েছে অসংখ্য ফজিলতপূর্ণ আমল।


🕌 ১. বেশি ইবাদত করা

আল্লাহ তাআলা বান্দার ইবাদতের জন্য জুমার দিনকে বিশেষভাবে নির্বাচিত করেছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

“আমরা পৃথিবীতে সর্বশেষ আগমনকারী হলেও কিয়ামতের দিন অগ্রবর্তী থাকব… আল্লাহ আমাদেরকে জুমার দিনের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”
(বুখারি ৮৩৬; মুসলিম ২০১৫)


📖 ২. মাগরিব ও এশার নামাজে বিশেষ কিরাত

জুমার রাতে মাগরিবে সুরা কাফিরুনসুরা ইখলাস,
এবং এশায় সুরা জুমাসুরা মুনাফিকুন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।
(আস-সুনানুল কুবরা ৫৯৪০; ইবনে হিব্বান ১৮৪১)


🌌 ৩. সুরা দুখান তিলাওয়াত

জুমার রাতে সুরা দুখান তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।
(তিরমিজি ২৮৮৯)


🌅 ৪. ফজরের নামাজে বিশেষ কিরাত

জুমার দিনের ফজরে রাসুল ﷺ পড়তেন—

  • প্রথম রাকাতে সুরা সিজদা (আলিফ লাম মিম তানজিল)
  • দ্বিতীয় রাকাতে সুরা দাহর (হাল আতা আলাল ইনসান)
    (বুখারি ৮৫১; মুসলিম ২০৭২)

💡 ৫. সুরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলো দ্বারা আলোকিত হয়।
(বায়হাকি ৫৭৯২)


⚡ ৬. কিয়ামতের ভয়াবহতা স্মরণ

জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাই এই দিনে আল্লাহর দিকে ফিরে ভয় ও তাওবা করা উচিত।
(ইবনু মাজাহ ১০৮৪)


🌸 ৭. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

রাসুল ﷺ বলেছেন,

“জুমার দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো… মৃত্যুর পরও তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
(ইবনু মাজাহ ১৬৩৭)


💰 ৮. দান-সদকা করা

জুমার দিনের দান অন্য দিনের তুলনায় অধিক ফজিলতপূর্ণ।
(জাদুল মায়াদ, পৃষ্ঠা ৪১২)


🪔 ৯. পিতা-মাতার কবর জিয়ারত

যে ব্যক্তি জুমার দিনে পিতা-মাতা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করে, তার গোনাহ মাফ করা হয় এবং সে পিতা-মাতার অনুগত হিসেবে গণ্য হয়।
(শুআবুল ঈমান ৭৯০১)


🤲 ১০. আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাত

জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়।
বেশিরভাগ আলেমের মতে সময়টি আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
(তিরমিজি ৪৮৯; বুখারি ৯৩৫; মুসলিম ৮৫২)


🌅 সমাপ্তি:
জুমার দিন সূর্যাস্তের সঙ্গে শেষ হয়। তাই দিনটির শেষ মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি ইস্তিগফার, দোয়া ও কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত—
হয়তো সেই মুহূর্তেই আমাদের দোয়া কবুল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। 🤍


 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যানসার থেকে বাঁচতে ‘সূরা আর রহমান’ বড় ভূমিকা রেখেছে

জুমার রাত ও দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১০ আমল

আপডেট সময় ০৯:১৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

 

জুমা সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। বৃহস্পতিবার সূর্যাস্ত থেকে শুক্রবার সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়কে জুমার পরিধি ধরা হয়। শুধু জুমার নামাজ আদায় করাই যথেষ্ট নয়—এই দিন ও রাতে রয়েছে অসংখ্য ফজিলতপূর্ণ আমল।


🕌 ১. বেশি ইবাদত করা

আল্লাহ তাআলা বান্দার ইবাদতের জন্য জুমার দিনকে বিশেষভাবে নির্বাচিত করেছেন।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

“আমরা পৃথিবীতে সর্বশেষ আগমনকারী হলেও কিয়ামতের দিন অগ্রবর্তী থাকব… আল্লাহ আমাদেরকে জুমার দিনের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।”
(বুখারি ৮৩৬; মুসলিম ২০১৫)


📖 ২. মাগরিব ও এশার নামাজে বিশেষ কিরাত

জুমার রাতে মাগরিবে সুরা কাফিরুনসুরা ইখলাস,
এবং এশায় সুরা জুমাসুরা মুনাফিকুন তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব।
(আস-সুনানুল কুবরা ৫৯৪০; ইবনে হিব্বান ১৮৪১)


🌌 ৩. সুরা দুখান তিলাওয়াত

জুমার রাতে সুরা দুখান তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন।
(তিরমিজি ২৮৮৯)


🌅 ৪. ফজরের নামাজে বিশেষ কিরাত

জুমার দিনের ফজরে রাসুল ﷺ পড়তেন—

  • প্রথম রাকাতে সুরা সিজদা (আলিফ লাম মিম তানজিল)
  • দ্বিতীয় রাকাতে সুরা দাহর (হাল আতা আলাল ইনসান)
    (বুখারি ৮৫১; মুসলিম ২০৭২)

💡 ৫. সুরা কাহফ তিলাওয়াত

জুমার দিনে সুরা কাহফ পাঠ করলে দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলো দ্বারা আলোকিত হয়।
(বায়হাকি ৫৭৯২)


⚡ ৬. কিয়ামতের ভয়াবহতা স্মরণ

জুমার দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। তাই এই দিনে আল্লাহর দিকে ফিরে ভয় ও তাওবা করা উচিত।
(ইবনু মাজাহ ১০৮৪)


🌸 ৭. বেশি বেশি দরুদ পাঠ

রাসুল ﷺ বলেছেন,

“জুমার দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো… মৃত্যুর পরও তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।”
(ইবনু মাজাহ ১৬৩৭)


💰 ৮. দান-সদকা করা

জুমার দিনের দান অন্য দিনের তুলনায় অধিক ফজিলতপূর্ণ।
(জাদুল মায়াদ, পৃষ্ঠা ৪১২)


🪔 ৯. পিতা-মাতার কবর জিয়ারত

যে ব্যক্তি জুমার দিনে পিতা-মাতা বা তাদের একজনের কবর জিয়ারত করে, তার গোনাহ মাফ করা হয় এবং সে পিতা-মাতার অনুগত হিসেবে গণ্য হয়।
(শুআবুল ঈমান ৭৯০১)


🤲 ১০. আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া-মোনাজাত

জুমার দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়।
বেশিরভাগ আলেমের মতে সময়টি আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
(তিরমিজি ৪৮৯; বুখারি ৯৩৫; মুসলিম ৮৫২)


🌅 সমাপ্তি:
জুমার দিন সূর্যাস্তের সঙ্গে শেষ হয়। তাই দিনটির শেষ মুহূর্তগুলোতে বেশি বেশি ইস্তিগফার, দোয়া ও কল্যাণ প্রার্থনা করা উচিত—
হয়তো সেই মুহূর্তেই আমাদের দোয়া কবুল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। 🤍