ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান জামায়াতের উদ্দেশ্য বাংলাদেশকে আবারও অস্থিতিশীল করা: মির্জা ফখরুল এবার শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা আল্লাহ আমাকে ভেতর থেকে বদলে দিয়েছেন: কারামুক্তির পর সিদ্দিক  পানি থেকে লাশ উদ্ধারের পর দেখা গেল ছেলেকে বুকে জড়িয়ে আছেন মা ইরানের সঙ্গে চলমান শত্রুতা শেষ: ট্রাম্প বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ৩ জেলার পাঁচ নদীর পানি বিএনপির সমাবেশে আইফোন চুরি, কুরআন তেলাওয়াত করিয়ে তওবা করালো জনতা সরকারের কাজের গতি দেখে বিরোধী দল ভয় পাচ্ছে: আবদুস সালাম রাজনৈতিক সহমর্মিতা বজায় রাখতে বিএনপি–জামায়াত বৈঠক

পশ্চিমা আধিপত্য ঠেকাতে ত্রিপাক্ষিক ঐক্য: তেহরানে রাশিয়া-চীন-ইরান বৈঠক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
  • ২৮৭ বার পড়া হয়েছে

এবার পশ্চিমা দাপট ও নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় এক কূটনৈতিক জোট গড়ছে রাশিয়া, চীন ও ইরান। সম্প্রতি তেহরানে এই তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি, পশ্চিমা আধিপত্য, একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নিয়ে চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে পারস্পরিক কূটনৈতিক সমন্বয় এবং সহযোগিতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

বৈঠকে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি আবার জাতিসংঘের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হবে। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে সরে যায়, তখনই তারা এ চুক্তির ধারা সক্রিয় করার অধিকার হারিয়েছে।’ গারিবাবাদি আরও জানান, বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত তেহরান, মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমা কূটনীতির ‘বলপ্রয়োগের কৌশল’-এর বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যা ইরানের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের শামিল বলে দাবি করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বৈঠকটিকে ‘একতরফাবাদ ও আধিপত্যবাদী চর্চার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রতিরোধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানেই নয়, বরং বিশ্ব দক্ষিণের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তেহরান মনে করছে, এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি বহুমুখী আঞ্চলিক কাঠামো তৈরির কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বৈঠকে তিন দেশই একমত হয় যে, আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে পারস্পরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে।

বৈঠকের পরপরই ইরান ও ইউরোপীয় ‘ট্রোইকা’—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের—মধ্যে ইস্তাম্বুলে আরেক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই আলোচনায় পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ ও ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় হবে বলে নিশ্চিত করেছেন গারিবাবাদি। তিনি জানান, তেহরান সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উত্থাপন করবে। তবে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট— স্থায়ী সমাধানের পূর্বশর্ত হিসেবে সব নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ও তাতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে রাশিয়া, চীন ও ইরান এখন এক যৌথ কৌশলগত বলয়ে রূপ নিচ্ছে, যার প্রধান লক্ষ্য পশ্চিমা একাধিপত্য ও চাপের বিরুদ্ধে একজোট প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আরব আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

পশ্চিমা আধিপত্য ঠেকাতে ত্রিপাক্ষিক ঐক্য: তেহরানে রাশিয়া-চীন-ইরান বৈঠক

আপডেট সময় ০২:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫

এবার পশ্চিমা দাপট ও নিষেধাজ্ঞার চাপ মোকাবিলায় এক কূটনৈতিক জোট গড়ছে রাশিয়া, চীন ও ইরান। সম্প্রতি তেহরানে এই তিন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে এক ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে পারমাণবিক কর্মসূচি, পশ্চিমা আধিপত্য, একতরফা নিষেধাজ্ঞা এবং সম্ভাব্য ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে অংশ নিয়ে চীন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে পারস্পরিক কূটনৈতিক সমন্বয় এবং সহযোগিতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।

বৈঠকে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো যদি আবার জাতিসংঘের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা করে, তবে তা সম্পূর্ণ অবৈধ হবে। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র যখন একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে সরে যায়, তখনই তারা এ চুক্তির ধারা সক্রিয় করার অধিকার হারিয়েছে।’ গারিবাবাদি আরও জানান, বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত তেহরান, মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছে। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমা কূটনীতির ‘বলপ্রয়োগের কৌশল’-এর বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, যা ইরানের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের শামিল বলে দাবি করেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বৈঠকটিকে ‘একতরফাবাদ ও আধিপত্যবাদী চর্চার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক প্রতিরোধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা শুধু ইরানেই নয়, বরং বিশ্ব দক্ষিণের অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তেহরান মনে করছে, এই ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি বহুমুখী আঞ্চলিক কাঠামো তৈরির কৌশলগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। বৈঠকে তিন দেশই একমত হয় যে, আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে পারস্পরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে।

বৈঠকের পরপরই ইরান ও ইউরোপীয় ‘ট্রোইকা’—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের—মধ্যে ইস্তাম্বুলে আরেক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ওই আলোচনায় পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ ও ‘স্ন্যাপব্যাক’ ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় হবে বলে নিশ্চিত করেছেন গারিবাবাদি। তিনি জানান, তেহরান সেখানে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত প্রস্তাব উত্থাপন করবে। তবে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট— স্থায়ী সমাধানের পূর্বশর্ত হিসেবে সব নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ও তাতে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে, বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে রাশিয়া, চীন ও ইরান এখন এক যৌথ কৌশলগত বলয়ে রূপ নিচ্ছে, যার প্রধান লক্ষ্য পশ্চিমা একাধিপত্য ও চাপের বিরুদ্ধে একজোট প্রতিরোধ গড়ে তোলা।