ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির এনসিপির গাড়িবহরে হামলা, সার্কিট হাউসে আশ্রয় নিয়েছিলেন সারজিস নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী কি মির্জা ফখরুলের জুতা টানার যোগ্যতা রাখে: রাশেদ খাঁন সারজিস-পাটোয়ারীর ওপর হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে এনসিপির বিক্ষোভ পুলিশের উপস্থিতিতেই নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ আসিফ মাহমুদের মিরপুরে দেয়াল ধসে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আপনার পতন ছাত্রদল আর যুবদলই নিয়ে আসবে—প্রধানমন্ত্রীকে শিবির সভাপতি পুলিশের উপস্থিতিতেই নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ আসিফ মাহমুদের নাসীরুদ্দীন-সারজিসের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদের হাসপাতালে নেয়ার সময়ও হামলাকারীরা থামেনি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ফজরের আজানের শব্দ নিয়ে আপত্তি, প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতার হাতে বিএনপি নেতা খুন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৪১৬ বার পড়া হয়েছে

এবার শরীয়তপুরের জাজিরায় খবির সরদার (৫৫) নামের এক কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বড়কান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আলমাছ সরদার ও তার সহযোগীরা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের নয়াবাজারসংলগ্ন ওমরদি মাদবরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবির সরদার ওই গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে ও বড়কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। তিনি আগে ঢাকায় সিএনজি চালাতেন। বর্তমানে নিজ গ্রামে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের নয়াবাজার সংলগ্ন ওমরদি মাদবরকান্দি গ্রামে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের ডাকাডাকি ও ওয়াজ-নসিহত করতেন। এতে ওই ইমামের ওপর ক্ষুব্ধ হন একই গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা আলমাছ সরদার (৩০)। দুই দিন আগে এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে আলমাছের বাকবিতন্ডা হয়। তখন কৃষকদল নেতা খবির সরদার এর প্রতিবাদ করলে আলমাছ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে আলমাছ হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়।

ঘটনার দিন গত রবিবার মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন সরদার বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় নয়াবাজার থেকে বড় ভাই দানেশ সরদারের বাড়ি যাওয়ার পথে আলমাছ ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খবির সরদারের ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে রাস্তার পাশের পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহত খবির সরদারের বড় ভাই দানেশ সরদার অভিযোগ করে বলেন, “মসজিদের ইমাম সাহেবের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল আলমাছ। আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রেখে গেছে তারা। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।” এদিকে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন,”মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক এনসিপির

ফজরের আজানের শব্দ নিয়ে আপত্তি, প্রতিবাদ করায় ছাত্রলীগ নেতার হাতে বিএনপি নেতা খুন

আপডেট সময় ১২:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

এবার শরীয়তপুরের জাজিরায় খবির সরদার (৫৫) নামের এক কৃষকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বড়কান্দি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আলমাছ সরদার ও তার সহযোগীরা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের নয়াবাজারসংলগ্ন ওমরদি মাদবরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবির সরদার ওই গ্রামের ইউনুস সরদারের ছেলে ও বড়কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন। তিনি আগে ঢাকায় সিএনজি চালাতেন। বর্তমানে নিজ গ্রামে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের নয়াবাজার সংলগ্ন ওমরদি মাদবরকান্দি গ্রামে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর মুসল্লিদের ডাকাডাকি ও ওয়াজ-নসিহত করতেন। এতে ওই ইমামের ওপর ক্ষুব্ধ হন একই গ্রামের ছাত্রলীগ নেতা আলমাছ সরদার (৩০)। দুই দিন আগে এ নিয়ে ইমামের সঙ্গে আলমাছের বাকবিতন্ডা হয়। তখন কৃষকদল নেতা খবির সরদার এর প্রতিবাদ করলে আলমাছ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে আলমাছ হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়।

ঘটনার দিন গত রবিবার মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন সরদার বাদী হয়ে জাজিরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় নয়াবাজার থেকে বড় ভাই দানেশ সরদারের বাড়ি যাওয়ার পথে আলমাছ ও তাঁর সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে খবির সরদারের ওপর হামলা চালান। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাঁকে রাস্তার পাশের পুকুরে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে নিহত খবির সরদারের বড় ভাই দানেশ সরদার অভিযোগ করে বলেন, “মসজিদের ইমাম সাহেবের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছিল আলমাছ। আমার ভাই প্রতিবাদ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রেখে গেছে তারা। আমি আমার ভাই হত্যার বিচার চাই।” এদিকে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন,”মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার আসল কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”