ঢাকা , শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্যামেরার বাইরে আফ্রিদি একজন ভয়ংকর লোক, রাগ উঠলে বেল্ট খুলে কুত্তার মতো পেটাতো: তানভীর রাহী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • ৪৯০ বার পড়া হয়েছে

এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। আছেন রিমান্ডে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসছে তৌহিদ আফ্রিদির ভয়ংকর সব তথ্য। তার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত অনেকেও আফ্রিদির বিষয়ে দিচ্ছেন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তৌহিদ আফ্রিদির বন্ধু হিসেবে পরিচিত আরেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের তানভীর রাহী। মুখ খুলেছেন তিনিও।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে রাহী দাবি করেন, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সঙ্গে প্রেম ছিল তৌহিদ আফ্রিদির। রাহী বলেন, ‘আমি শুনেছি পায়েল আপুর সঙ্গে তৌহিদ আফ্রিদির সম্পর্ক ছিল। আমি অনেক আগেই এটা শুনেছিলাম এটুকুই।’ প্রেমের গুঞ্জন শোনা যেত আফ্রিদির। অভিনেত্রী দিঘীর সঙ্গে ছিল তার সখ্য। এক বার বার ‘বন্ধুত্ব’ বলে এড়িয়ে যেতেন তিনি।

জানা যায়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সঙ্গেও প্রেম ছিল আফ্রিদির। পরে রিসা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। এর আগে অন্য এক সাক্ষাৎকারে রাহী দাবি করেন, আফ্রিদিকে তিনি বাঘের মতো ভয় পান। তিনিসহ দেশের অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির ব্ল্যাকমেইলের শিকার বলেও দাবি রাহীর।

সেখানে রাহী বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে আফ্রিদি একরকম হলেও ব্যক্তিজীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ— ক্যামেরার বাইরে সে ভয়ংকর একজন লোক। ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে সবাই বাঘের মতো ভয় পায়।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকেই আফ্রিদির বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় তার রাগের শিকার হয়েছিলেন রাহী নিজেও। ‘রাগ উঠলে সে বেল্ট খুলে আমাদের কুত্তার মতো পেটাতো, যেন আমরা মানুষ না— পোষা জন্তু!’ বলেন তিনি। বিভিন্ন সময় তৌহিদ আফ্রিদি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে ফোন করাতেন।

রাহী বলেন, ‘যখন ওর মনে হতো কেউ তার বিরুদ্ধে কাজ করছে, তখন ফোন করতো। ক্ষমতা দেখাতো। আন্দোলনের দুই-তিন মাস পর এক রাতে আমাকে ভিডিও কল দেয়। ভয় পেয়ে যাই। ফোন ধরার পর বলে, তোর সঙ্গে একজনের কথা বলাব—সে শিগগিরই দেশের বড় মাপের কেউ হবে।এরপর ভিপি নূরের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। পরে বলে, বুঝছিস আমার অবস্থানটা? সাবধানে থাকিস।’

৫ আগস্টের পরও দেশে ভালোই ছিলেন আফ্রিদি, এমনটাই দাবি রাহীর। আফ্রিদির চরিত্র প্রসঙ্গে রাহী বলেন, ‘তার মনুষ্যত্ব নেই, শুধু প্রতিশোধের চিন্তা। কারে কারে ধরবেন, কারে কারে মারবেন—এই চিন্তাই তার মাথায়। আল্লাহ কখনো এমন মানুষকে ছাড় দেন না।’ গত রবিবার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল মহানগরের বাংলাবাজার এলাকায় সিআইডির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন তৌহিদ আফ্রিদি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সোমবার ৫ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যামেরার বাইরে আফ্রিদি একজন ভয়ংকর লোক, রাগ উঠলে বেল্ট খুলে কুত্তার মতো পেটাতো: তানভীর রাহী

আপডেট সময় ০৪:২০:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। আছেন রিমান্ডে। গ্রেপ্তার হওয়ার পর বেরিয়ে আসছে তৌহিদ আফ্রিদির ভয়ংকর সব তথ্য। তার কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত অনেকেও আফ্রিদির বিষয়ে দিচ্ছেন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তৌহিদ আফ্রিদির বন্ধু হিসেবে পরিচিত আরেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের তানভীর রাহী। মুখ খুলেছেন তিনিও।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে আলাপকালে রাহী দাবি করেন, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সঙ্গে প্রেম ছিল তৌহিদ আফ্রিদির। রাহী বলেন, ‘আমি শুনেছি পায়েল আপুর সঙ্গে তৌহিদ আফ্রিদির সম্পর্ক ছিল। আমি অনেক আগেই এটা শুনেছিলাম এটুকুই।’ প্রেমের গুঞ্জন শোনা যেত আফ্রিদির। অভিনেত্রী দিঘীর সঙ্গে ছিল তার সখ্য। এক বার বার ‘বন্ধুত্ব’ বলে এড়িয়ে যেতেন তিনি।

জানা যায়, অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সঙ্গেও প্রেম ছিল আফ্রিদির। পরে রিসা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন তিনি। এর আগে অন্য এক সাক্ষাৎকারে রাহী দাবি করেন, আফ্রিদিকে তিনি বাঘের মতো ভয় পান। তিনিসহ দেশের অনেক কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদির ব্ল্যাকমেইলের শিকার বলেও দাবি রাহীর।

সেখানে রাহী বলেন, ‘ক্যামেরার সামনে আফ্রিদি একরকম হলেও ব্যক্তিজীবনে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ— ক্যামেরার বাইরে সে ভয়ংকর একজন লোক। ইউটিউব ইন্ডাস্ট্রিতে তাকে সবাই বাঘের মতো ভয় পায়।’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় অনেকেই আফ্রিদির বিরোধিতা করেছিলেন। সে সময় তার রাগের শিকার হয়েছিলেন রাহী নিজেও। ‘রাগ উঠলে সে বেল্ট খুলে আমাদের কুত্তার মতো পেটাতো, যেন আমরা মানুষ না— পোষা জন্তু!’ বলেন তিনি। বিভিন্ন সময় তৌহিদ আফ্রিদি কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে ফোন করাতেন।

রাহী বলেন, ‘যখন ওর মনে হতো কেউ তার বিরুদ্ধে কাজ করছে, তখন ফোন করতো। ক্ষমতা দেখাতো। আন্দোলনের দুই-তিন মাস পর এক রাতে আমাকে ভিডিও কল দেয়। ভয় পেয়ে যাই। ফোন ধরার পর বলে, তোর সঙ্গে একজনের কথা বলাব—সে শিগগিরই দেশের বড় মাপের কেউ হবে।এরপর ভিপি নূরের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেয়। পরে বলে, বুঝছিস আমার অবস্থানটা? সাবধানে থাকিস।’

৫ আগস্টের পরও দেশে ভালোই ছিলেন আফ্রিদি, এমনটাই দাবি রাহীর। আফ্রিদির চরিত্র প্রসঙ্গে রাহী বলেন, ‘তার মনুষ্যত্ব নেই, শুধু প্রতিশোধের চিন্তা। কারে কারে ধরবেন, কারে কারে মারবেন—এই চিন্তাই তার মাথায়। আল্লাহ কখনো এমন মানুষকে ছাড় দেন না।’ গত রবিবার (২৪ আগস্ট) রাতে বরিশাল মহানগরের বাংলাবাজার এলাকায় সিআইডির বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হন তৌহিদ আফ্রিদি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন সোমবার ৫ দিনের রিমান্ড দেন আদালত।