বাসায় বা বাইরে রকমারি খাবার খাওয়া হয় আমাদের। তার মধ্যে চা, মিষ্টি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার অন্যতম। কিন্তু কখনো এসব খাওয়ার পর কি লক্ষ্য করেছেন, হাতের তালুতে ও জিহ্বায় উষ্ণ স্পর্শ রয়েছে। খেয়াল করলে দেখবেন এমনটা রয়েছে। মূলত মশলার রানী শক্তিশালী উপাদান এলাচের কারণে এমন হয়।
এলাচ এমন উপাদান, যা আকারে ছোট হলেও এটি খুবই সুগন্ধিযুক্ত ও প্রাণবন্ত এবং এটি তার গুণাগুণে খাবারকে আরও উজ্জ্বল করে। হালকা সবুজ এই উপাদান রান্নাঘরের হলেও এটি স্বাস্থ্যকর। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হজমে সহায়তা থেকে শুরু করে হৃদরোগের স্বাস্থ্য ভালো করা, শ্বাসকে সতেজ করা ও প্রদাহ শান্ত করায় কার্যকর এলাচ। এলাচের উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-
হজমে সহায়তা ও পেট শান্ত করা:
এলাচ হজমে সহায়তার জন্য বেশ পরিচিত একটি উপাদান। এটি পাচক এনজাইম নিঃসরণকে উদ্দীপিত করে ও অন্ত্রের খিঁচুনি উপশম করে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অম্বল ও সাধারণ হজমের অস্বস্তি দূর করতে সহায়তা করে। খাবার খাওয়ার পর এলাচ চিবানো সঙ্গত কারণেই সাধারণ একটি অভ্যাস। এটি পেটকে শান্ত করে ও হজম ভালো করে। এ জন্য চা বা রাতের খাবারের পর স্মুদিতে এক চিমটি এলাচ গুঁড়া যোগ করে খেতে হবে।
শ্বাস ও মুখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী:
খাবার খাওয়ার পর এলাচ চিবানো নিঃশ্বাসকে সতেজ করে। যা একটি প্রাচীন অভ্যাস। এলাচের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল যৌগ মুখের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এলাচের তেল মাড়ির রোগ ও গহ্বরের সঙ্গে যুক্ত ব্যাকটেরিয়া হ্রাস করে। যা প্রাকৃতিক মৌখিক স্বাস্থ্যের জন্য সহযোগী। এ জন্য খাবারের পর মুখে একটি আস্ত এলাচ চিবুতে হবে।
হৃদরোগ ও রক্তচাপ কমাতে:
এলাচ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি মূত্রবর্ধক ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে ও রক্তচাপ কমাতে অবদান রাখে। রক্তে শর্করার ও লিপিডের মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে। যা হৃদরোগের স্বাস্থ্য ও বিপাকীয় কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যদিও মানুষের ওপর গবেষণা এখনও সীমিত, তবে প্রাথমিক ফলাফল উৎসাহমূলক। এ ক্ষেত্রে উপকারের জন্য কফির সঙ্গে মিশিয়ে বা ওটমিলের ওপর এলাচ গুঁড়া ছিটিয়ে খেতে পারেন।
প্রদাহ বিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রভাব:
এলাচে ফেনল, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অন্যান্য জৈবের সক্রিয় যোগ রয়েছে, যা প্রদাহ কমায় ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে। আবার অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগ রোধেও কাজ করে। এলাচের এসব উপাদান লিভার রক্ষায় কাজ করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়ক এলাচ। এ জন্য স্যুপ, তরকারি বা সালাদ ড্রেসিংয়ে এলাচ গুঁড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
অনেকেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যাওয়া স্বাস্থ্য কমাতে চান। এ ক্ষেত্রে এলাচ সহায়ক হতে পারে। কেননা, এলাচ চর্বি বিপাক ও হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং এমনকি ক্ষুধাভাব কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। কার্যকরী ফল পেতে এলাচ আলতো করে গুঁড়া করে চা তৈরি করে পান করতে হবে। তবেই ভালো ফল পাওয়া যাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















