ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিলো ভারত বর্তমানে দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ, নজর রাখছে ভারত সরকারি হাসপাতালে জন্ম নিলেই স্বর্ণের আংটি উপহার দেওয়ার ঘোষণা বিজয় থালাপতির খালের পাড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি রয়েছে: ত্রাণমন্ত্রী ঈশ্বরের কাছে আরেকটি বিশ্বকাপ চাওয়া অনেক বেশি হয়ে যাবে: মেসি বিশ্বকাপে আগেও ব্রাজিলকে ‘ডুবিয়েছিল’ বিতর্কিত এই রেফারি ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, মার্কিন কারাগার থেকে ঐক্যের ডাক মাদুরোর ইরান যুদ্ধের জরুরি ব্যয়ের জন্য ৮৭৬০ কোটি ডলার চাইলেন ট্রাম্প একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রই পারে বিশ্বযুদ্ধ ঠেকাতে: রাশিয়া

ইসরায়েলের হামলায় ৫২ জন নিহত, মানবাধিকার প্রধানের তীব্র নিন্দা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪১৩ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে, গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজা শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিয়েছেন। গত একদিনে গাজায় আরও ৫২ জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন গাজা শহরে।

 

অন্যদিকে, ক্ষুধায় আরও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষকে গণহত্যা এবং জীবনরক্ষাকারী সহায়তা সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল “একটির পর একটি যুদ্ধাপরাধ” করছে এবং গাজার ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা “বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।”

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। গত জানুয়ারিতে আদালত ইসরায়েলকে গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিল। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০০টির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবারের শিবিরসংলগ্ন আবাসিক ভবনগুলোতে আঘাত হানছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০টিরও বেশি তাঁবু ধ্বংস হয়েছে। তিনি জানান, তুফাহ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে।

 

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজা শহর থেকে জানিয়েছেন, “একটির পর একটি সুউচ্চ ভবন ভেঙে পড়তে দেখা হৃদয়বিদারক। এগুলো শুধু ভবন নয়, এর সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি সেবাগুলোও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সেটিও আবার যুদ্ধের প্রায় দুই বছর পরও।” আল জাজিরার স্থানীয় হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, সোমবার একদিনেই অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন গাজা শহরের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে, যাদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।

 

ইসরায়েল নিয়মিতভাবে সাহায্য ঠেকানো বা বোমা হামলা করায় এ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, সোমবার ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ওসামা বালউশাও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রায় ২৫০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ফিলিস্তিনি।

 

ইসরায়েল বিদেশি সংবাদকর্মীদের গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আধুনিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় একটি ট্যাংকের নিচে রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকার হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে মন্ত্রীর মর্যাদা দিলো ভারত

ইসরায়েলের হামলায় ৫২ জন নিহত, মানবাধিকার প্রধানের তীব্র নিন্দা

আপডেট সময় ০৮:৫২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তুলেছে, গাজার ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি বাড়তে থাকায়। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু গাজা শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হুমকি দিয়েছেন। গত একদিনে গাজায় আরও ৫২ জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন গাজা শহরে।

 

অন্যদিকে, ক্ষুধায় আরও শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষকে গণহত্যা এবং জীবনরক্ষাকারী সহায়তা সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল “একটির পর একটি যুদ্ধাপরাধ” করছে এবং গাজার ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা “বিশ্বের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।”

 

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি করার মতো যথেষ্ট কারণ আছে। গত জানুয়ারিতে আদালত ইসরায়েলকে গণহত্যা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিল। ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, রোববার সকাল থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫০টিরও বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ১০০টির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটির মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবারের শিবিরসংলগ্ন আবাসিক ভবনগুলোতে আঘাত হানছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০০টিরও বেশি তাঁবু ধ্বংস হয়েছে। তিনি জানান, তুফাহ এলাকায় ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার অভিযান চলছে।

 

আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ গাজা শহর থেকে জানিয়েছেন, “একটির পর একটি সুউচ্চ ভবন ভেঙে পড়তে দেখা হৃদয়বিদারক। এগুলো শুধু ভবন নয়, এর সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি সেবাগুলোও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, সেটিও আবার যুদ্ধের প্রায় দুই বছর পরও।” আল জাজিরার স্থানীয় হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, সোমবার একদিনেই অন্তত ৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৩২ জন প্রাণ হারিয়েছেন গাজা শহরের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে, যাদের মধ্যে দুজন শিশু রয়েছে।

 

ইসরায়েল নিয়মিতভাবে সাহায্য ঠেকানো বা বোমা হামলা করায় এ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা জানান, সোমবার ইসরায়েলি হামলায় নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ওসামা বালউশাও রয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রায় ২৫০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, যাদের সবাই ফিলিস্তিনি।

 

ইসরায়েল বিদেশি সংবাদকর্মীদের গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। আধুনিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় একটি ট্যাংকের নিচে রাস্তায় পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়ে তাদের চার সেনা নিহত হয়েছে।