ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি বিএনপি নেতার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মাদক প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দিয়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা। ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

হুমকির ঘটনাটি অন্তত দুই সপ্তাহ আগে ঘটলেও সম্প্রতি মিঠাপুকুর থানায় ভুক্তভোগী জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করার পর সামনে আসে।

 

জিডি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শেখ রেজওয়ান মিঠাপুকুর উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা। তিনি রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য।

 

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

 

অনুসন্ধানে উঠে আসে, এর আগেও তার পরিচালিত রেঁস্তোরায় মাদককাণ্ড ও পতিতাবৃত্তি নিয়ে আলোচনায় আসেন মেহেদী হাসান। তিনি উপজেলার দিনাজপুর ফুলবাড়ি রোডের হাতিমপুরে ‘তুবা ভিলেজ’ রেঁস্তোরা পরিচালনা করতেন।

 

ওই রেঁস্তোরায় নিয়মিত মাদক সেবন ও পতিতাবৃত্তি কার্যক্রম চলত। মাদকের চালান পরিবহন করতে গিয়ে রেঁস্তোরার এক কর্মচারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৮২ দিন জেল খাটেন।

 

গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদী হাসানের ওই কর্মচারীর একটি ভিডিও এশিয়া পোস্টের কাছে এসেছে। ভিডিওতে তিনি আশপাশের কয়েকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি মানিক আর মেহেদীর মাল নিয়েই ডেলিভারি করতে যাইতেছিলাম। এর মধ্যেই গ্রেপ্তার হই। বিএনপি নেতা মেহেদী অনেক আগে থেকেই মাদক ব্যবসা করে।’

 

জানা গেছে, এসব বিষয় জানাজানি হলে স্থানীয়দের তোপের মুখে মারধরের শিকার হন মেহেদী হাসান। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যটা পেয়ে মালিকপক্ষ তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রেঁস্তোরাটি বন্ধ করে দেয়।

 

এ বিষয়ে রেঁস্তোরাটির মালিক রুহুল আমিন বলেন, তারা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি চুক্তি বাতিল করেছি। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

 

সম্প্রতি মিঠাপুকুর উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা শেখ রেজওয়ানকে হুমকি দিয়ে আবার আলোচনায় এসেছেন মেহেদী হাসান।

 

ঘটনার বিষয়ে শেখ রেজওয়ান বলেন, গত ঈদের দিন থেকে মাদক ও জুয়া বিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলাম প্রত্যেক গ্রামে। খবর পাই লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে মেহেদীর নেতৃত্বে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসে। ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত দুইটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করি। আমাদের দেখে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদ থেকে মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। এ সময় পুরো ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষগুলোর সব দরজা খোলা ছিলে।

 

তিনি বলেন, পরিষদ চত্বরে মাদক সেবীদের খোঁজাখুজি শুরু করলে মেহেদী অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসেন। এত রাতে পরিষদ চত্বরে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি তর্কাতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে তিনি পালিয়ে যান। এর জেরে ১৩ জুন ফোনে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দেন মেহেদী। প্রতিনিয়ত অপবাদ রটিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আমার বাড়ির পাশেই ইউনিয়ন পরিষদ। সেদিন রাতে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের মীমাংসা করার পরামর্শ করতে গিয়েছিলাম। আমি ওদের ১৫/১৬ জনের তোপের মুখে পড়ি। আমাকে মাদকব্যবসায়ী ও সেবনকারী বলায় সম্মান রক্ষার তাগিদে রেজওয়ানকে চ্যালেঞ্জ করে রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দিয়েছি। সে প্রমাণ করুক আমি মাদকসেবী।

 

মাদক ও দেহব্যবসার অভিযোগে তার পরিচালিত রেঁস্তোরা বন্ধ হয়েছিল কি না–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেদিন রাত সাড়ে দশটায় আমার বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে একটা মেয়ে এসেছিল রেঁস্তোরায় খাওয়ার জন্য। পরে এলাকার ছেলেপেলে এসে বলে আমি সেই মেয়েকে দিয়ে দেহব্যবসা করতেছি। এটা নিয়ে আমার গায়ে হাত তোলে। মালিকপক্ষ জানতে পেরে চুক্তি বাতিল করে দেয়। আমি কোনো দেহব্যবসা বা মাদকব্যবসা করিনি।

 

দলীয় নেতাকে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি অবগত। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মিঠাপুকুর থানার উপপরির্দশক (এসআই) সোহরাব হোসাইন জানান, শেখ রেজওয়ান নামে একজন হুমকির ঘটনায় জিডি করেছেন। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি বিএনপি নেতার

মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি বিএনপি নেতার

আপডেট সময় ০৭:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

মাদক প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দিয়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের এক বিএনপি নেতা। ওই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদে নিয়মিত মাদক সেবনের আসর বসানোর অভিযোগ রয়েছে।

 

হুমকির ঘটনাটি অন্তত দুই সপ্তাহ আগে ঘটলেও সম্প্রতি মিঠাপুকুর থানায় ভুক্তভোগী জেনারেল ডায়েরি (জিডি) করার পর সামনে আসে।

 

জিডি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শেখ রেজওয়ান মিঠাপুকুর উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা। তিনি রংপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য।

 

অভিযুক্ত মেহেদী হাসান উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

 

অনুসন্ধানে উঠে আসে, এর আগেও তার পরিচালিত রেঁস্তোরায় মাদককাণ্ড ও পতিতাবৃত্তি নিয়ে আলোচনায় আসেন মেহেদী হাসান। তিনি উপজেলার দিনাজপুর ফুলবাড়ি রোডের হাতিমপুরে ‘তুবা ভিলেজ’ রেঁস্তোরা পরিচালনা করতেন।

 

ওই রেঁস্তোরায় নিয়মিত মাদক সেবন ও পতিতাবৃত্তি কার্যক্রম চলত। মাদকের চালান পরিবহন করতে গিয়ে রেঁস্তোরার এক কর্মচারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে ৮২ দিন জেল খাটেন।

 

গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদী হাসানের ওই কর্মচারীর একটি ভিডিও এশিয়া পোস্টের কাছে এসেছে। ভিডিওতে তিনি আশপাশের কয়েকজনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি মানিক আর মেহেদীর মাল নিয়েই ডেলিভারি করতে যাইতেছিলাম। এর মধ্যেই গ্রেপ্তার হই। বিএনপি নেতা মেহেদী অনেক আগে থেকেই মাদক ব্যবসা করে।’

 

জানা গেছে, এসব বিষয় জানাজানি হলে স্থানীয়দের তোপের মুখে মারধরের শিকার হন মেহেদী হাসান। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সত্যটা পেয়ে মালিকপক্ষ তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে রেঁস্তোরাটি বন্ধ করে দেয়।

 

এ বিষয়ে রেঁস্তোরাটির মালিক রুহুল আমিন বলেন, তারা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়ায় আমি চুক্তি বাতিল করেছি। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাই না।

 

সম্প্রতি মিঠাপুকুর উপজেলা মাদক ও জুয়া প্রতিরোধ কমিটির উপদেষ্টা শেখ রেজওয়ানকে হুমকি দিয়ে আবার আলোচনায় এসেছেন মেহেদী হাসান।

 

ঘটনার বিষয়ে শেখ রেজওয়ান বলেন, গত ঈদের দিন থেকে মাদক ও জুয়া বিরোধী অভিযান চালাচ্ছিলাম প্রত্যেক গ্রামে। খবর পাই লতিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ছাদে মেহেদীর নেতৃত্বে নিয়মিত ইয়াবা সেবনের আসর বসে। ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত দুইটার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রবেশ করি। আমাদের দেখে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ছাদ থেকে মাদকসেবীরা পালিয়ে যায়। এ সময় পুরো ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষগুলোর সব দরজা খোলা ছিলে।

 

তিনি বলেন, পরিষদ চত্বরে মাদক সেবীদের খোঁজাখুজি শুরু করলে মেহেদী অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসেন। এত রাতে পরিষদ চত্বরে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি তর্কাতর্কি শুরু করেন। একপর্যায়ে নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল রেখে তিনি পালিয়ে যান। এর জেরে ১৩ জুন ফোনে আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। আমার রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দেন মেহেদী। প্রতিনিয়ত অপবাদ রটিয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।

 

অভিযোগগুলোর বিষয়ে লতিবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, আমার বাড়ির পাশেই ইউনিয়ন পরিষদ। সেদিন রাতে একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের মীমাংসা করার পরামর্শ করতে গিয়েছিলাম। আমি ওদের ১৫/১৬ জনের তোপের মুখে পড়ি। আমাকে মাদকব্যবসায়ী ও সেবনকারী বলায় সম্মান রক্ষার তাগিদে রেজওয়ানকে চ্যালেঞ্জ করে রক্ত দিয়ে গোসল করার হুমকি দিয়েছি। সে প্রমাণ করুক আমি মাদকসেবী।

 

মাদক ও দেহব্যবসার অভিযোগে তার পরিচালিত রেঁস্তোরা বন্ধ হয়েছিল কি না–এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সেদিন রাত সাড়ে দশটায় আমার বন্ধুর স্ত্রীর সঙ্গে একটা মেয়ে এসেছিল রেঁস্তোরায় খাওয়ার জন্য। পরে এলাকার ছেলেপেলে এসে বলে আমি সেই মেয়েকে দিয়ে দেহব্যবসা করতেছি। এটা নিয়ে আমার গায়ে হাত তোলে। মালিকপক্ষ জানতে পেরে চুক্তি বাতিল করে দেয়। আমি কোনো দেহব্যবসা বা মাদকব্যবসা করিনি।

 

দলীয় নেতাকে নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, মেহেদীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমি অবগত। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মিঠাপুকুর থানার উপপরির্দশক (এসআই) সোহরাব হোসাইন জানান, শেখ রেজওয়ান নামে একজন হুমকির ঘটনায় জিডি করেছেন। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।