ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘মাদক কোরআনেও হারাম, বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্যও হারাম’ নেইমার বিশ্বের প্রথম ‘হোম অফিস’ করা খেলোয়াড়: ব্রাজিল প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে হামাসের কথিত উপস্থিতি নিয়ে আ.লীগ-ভারতের অপপ্রচার হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে দিতে হবে না টোল, ঘোষণা ইরানের ব্রাজিলকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়তে চায় স্কটল্যান্ড ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ: বারাক ওবামা বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে হাইতির বিদায় ভারতের যে কোনো পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেবে পাকিস্তান: খাজা আসিফ কাঁদছে ব্রাজিল তারকা রাফিনিয়া, বিকল্প খেলোয়াড় নিতে দেবে কি ফিফা? জার্মানিকে পেছনে ফেলে আবারও শীর্ষে ব্রাজিল   

হাসিনাকে তাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার ভারতের নেতারা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৪৯১ বার পড়া হয়েছে

স্বৈরাচারী হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দিচ্ছে, যা নিয়ে ভারতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনার জোর। কূটনৈতিক মহলে সীমাবদ্ধ থাকা এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতিতেও তীব্র হচ্ছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেছে—মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এক নেত্রীকে আশ্রয় দিয়ে মোদি সরকার কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলছে?

অল ইন্ডিয়া মজলিসী ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসিনা একজন বাংলাদেশি। তাঁকে ফেরত না পাঠিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। ওয়াইসি আরও উল্লেখ করেছেন, ঢাকা সরকার গণবিপ্লবের মাধ্যমে পতিত হয়েছে, কিন্তু ভারত সেই পতিত সরকারের প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিলতা সৃষ্টি করছে।

এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, মানবিক হওয়া যায়, কিন্তু একজনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন।

প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ভারত কখনও স্বৈরাচারীদের সেফ হ্যাভেন হতে পারে না। সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির এক সদস্যও দাবি করেছেন, গণতন্ত্র হত্যাকারী শাসকের কোনো অবস্থাই ভারতে থাকা উচিত নয় এবং হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

কলকাতার সুশীল সমাজ, ছাত্রসমাজ এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সৌমিত্র দোস্তিদারও এই ইস্যুতে সরব। তারা বলেছেন, ইতিহাস প্রমাণ করেছে—যখনই কোনো শাসক জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে, তার পতন হয়েছে। তাই বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের রক্তের দায় বহনকারী হাসিনাকে মানবিকতার দোহাই দিয়ে আশ্রয় দেওয়া মানে অপরাধকে সমর্থন করা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মাদক কোরআনেও হারাম, বিএনপির নেতাকর্মীদের জন্যও হারাম’

হাসিনাকে তাড়ানোর দাবিতে সোচ্চার ভারতের নেতারা

আপডেট সময় ১০:২৯:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

স্বৈরাচারী হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় দিচ্ছে, যা নিয়ে ভারতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনার জোর। কূটনৈতিক মহলে সীমাবদ্ধ থাকা এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতিতেও তীব্র হচ্ছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেছে—মানবতা বিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এক নেত্রীকে আশ্রয় দিয়ে মোদি সরকার কেন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলছে?

অল ইন্ডিয়া মজলিসী ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, হাসিনা একজন বাংলাদেশি। তাঁকে ফেরত না পাঠিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ক ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। ওয়াইসি আরও উল্লেখ করেছেন, ঢাকা সরকার গণবিপ্লবের মাধ্যমে পতিত হয়েছে, কিন্তু ভারত সেই পতিত সরকারের প্রধানকে আশ্রয় দিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জটিলতা সৃষ্টি করছে।

এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, মানবিক হওয়া যায়, কিন্তু একজনের কারণে দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর পরোক্ষ সমর্থন হিসেবে দেখছেন।

প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী উল্লেখ করেছেন, ভারত কখনও স্বৈরাচারীদের সেফ হ্যাভেন হতে পারে না। সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির এক সদস্যও দাবি করেছেন, গণতন্ত্র হত্যাকারী শাসকের কোনো অবস্থাই ভারতে থাকা উচিত নয় এবং হাসিনাকে অবিলম্বে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

কলকাতার সুশীল সমাজ, ছাত্রসমাজ এবং বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সৌমিত্র দোস্তিদারও এই ইস্যুতে সরব। তারা বলেছেন, ইতিহাস প্রমাণ করেছে—যখনই কোনো শাসক জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে, তার পতন হয়েছে। তাই বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের রক্তের দায় বহনকারী হাসিনাকে মানবিকতার দোহাই দিয়ে আশ্রয় দেওয়া মানে অপরাধকে সমর্থন করা।