ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেপরোয়া সাকুরা বাসের চাপায় বাউফলের যুবক নিহত, এলাকায় শোকের ছায়া রোগীদের ভোগান্তি ও চিকিৎসাবঞ্চিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয় : ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে রাজি যুক্তরাষ্ট্র ‘ইতিহাসের বড় শিক্ষা হলো মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না’ উত্তেজনা নিরসনে নিজেই গ্রাফিতি আঁকলেন মেয়র শাহাদাত ঈদে সংবাদপত্রে ছুটি ৫ দিন মার্কিন পতাকায় আবৃত উপসাগরীয় অঞ্চল, বিতর্কিত ছবিতে কীসের ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প দেশজুড়ে আলোচিত মেডিকেল শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় সেই শিক্ষকের কারাদণ্ড সৌদিতে যুদ্ধবিমান-আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা-সেনা মোতায়েন করল পাকিস্তান

হামাসকে ধ্বংস করতে গিয়ে গাজাকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

এবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পদ্ধতিতে “মৌলিক ত্রুটি” ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার “জোরালো কারণ” রয়েছে। নিউ ইয়র্কে রয়টার্স নেক্সট সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ইসরায়েলি অভিযান যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গাজা ধ্বংসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে—এতে মৌলিক কিছু ভুল ছিল।

তিনি বলেন, তাদের নাকি লক্ষ্য ছিল হামাসকে ধ্বংস করা। অথচ গাজা ধ্বংস হলেও, হামাস এখনও নিশ্চিহ্ন হয়নি। সুতরাং এই অভিযানের প্রকৃতিতে মৌলিক সমস্যা রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায়, যেখানে এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়েছিলেন।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে গুতেরেস বলেন, সে সম্ভাবনা আছে বলে বিশ্বাস করার শক্তিশালী কারণ রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, একমাত্র অপরাধ হলো— ৭ অক্টোবরের নৃশংস হামলার দুই বছরের বেশি সময় পরও জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েল সফর করেননি, বরং তিনি তার পদ ব্যবহার করে প্রতিটি সুযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ ও নিন্দা করেছেন।

তবে গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী) ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, তিনি গুতেরেসের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে ও হামাসের মধ্যে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে ইসরায়েল এখনও গাজায় হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাসের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন গুতেরেস। আগস্টে বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। আশা করি এটি বজায় থাকবে এবং আরও উন্নত হবে। গাজায় সহায়তা সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে বাধার অভিযোগ করে আসছে জাতিসংঘ—যার দায় তারা ইসরায়েলের ওপর চাপায়। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন ত্রাণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে ইসরায়েল বলেছে, হামাস ত্রাণ লুট করে—যা গোষ্ঠীটি অস্বীকার করে আসছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেপরোয়া সাকুরা বাসের চাপায় বাউফলের যুবক নিহত, এলাকায় শোকের ছায়া

হামাসকে ধ্বংস করতে গিয়ে গাজাকেই ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে: জাতিসংঘ মহাসচিব

আপডেট সময় ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পদ্ধতিতে “মৌলিক ত্রুটি” ছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে বিশ্বাস করার “জোরালো কারণ” রয়েছে। নিউ ইয়র্কে রয়টার্স নেক্সট সম্মেলনে গুতেরেস বলেন, ইসরায়েলি অভিযান যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং গাজা ধ্বংসের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে—এতে মৌলিক কিছু ভুল ছিল।

তিনি বলেন, তাদের নাকি লক্ষ্য ছিল হামাসকে ধ্বংস করা। অথচ গাজা ধ্বংস হলেও, হামাস এখনও নিশ্চিহ্ন হয়নি। সুতরাং এই অভিযানের প্রকৃতিতে মৌলিক সমস্যা রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছর ধরে চলা ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। যুদ্ধের সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায়, যেখানে এক হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হয়েছিলেন।

গাজায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা—এ প্রশ্নের জবাবে গুতেরেস বলেন, সে সম্ভাবনা আছে বলে বিশ্বাস করার শক্তিশালী কারণ রয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, একমাত্র অপরাধ হলো— ৭ অক্টোবরের নৃশংস হামলার দুই বছরের বেশি সময় পরও জাতিসংঘ মহাসচিব ইসরায়েল সফর করেননি, বরং তিনি তার পদ ব্যবহার করে প্রতিটি সুযোগে ইসরায়েলকে আক্রমণ ও নিন্দা করেছেন।

তবে গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী) ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, তিনি গুতেরেসের দেশটিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। ১০ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলে ও হামাসের মধ্যে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবে ইসরায়েল এখনও গাজায় হামলা চালাচ্ছে এবং তাদের দাবি অনুযায়ী, হামাসের অবকাঠামো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

গাজায় ত্রাণ প্রবেশ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রশংসা করেন গুতেরেস। আগস্টে বৈশ্বিক ক্ষুধা পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছিল, গাজায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তার বিষয়ে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া রয়েছে। আশা করি এটি বজায় থাকবে এবং আরও উন্নত হবে। গাজায় সহায়তা সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরে বাধার অভিযোগ করে আসছে জাতিসংঘ—যার দায় তারা ইসরায়েলের ওপর চাপায়। অন্যদিকে, জাতিসংঘ নেতৃত্বাধীন ত্রাণ কার্যক্রমের সমালোচনা করে ইসরায়েল বলেছে, হামাস ত্রাণ লুট করে—যা গোষ্ঠীটি অস্বীকার করে আসছে।