ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরানি হামলায় ভয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর পরিকল্পনা আশুরার দিনে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াইয়ের আহ্বান মামদানির প্রধানমন্ত্রীর সফরে মালয়েশিয়া-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়েছে: মির্জা ফখরুল নিজের ছবিসহ নতুন পাসপোর্টের নকশা প্রকাশ করলেন ট্রাম্প ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে দেখতে পাগলা মসজিদের দানবক্সে চিঠি ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করল বুর্কিনা ফাসো প্রধান শিক্ষিকার ব্যাগে মিলল শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিম-রুটি ‘এখন আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ নেই’, মা ও তিন বোনের জানাজায় সিফাত লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প আঘাত ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু ৯০০ ছাড়াল, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি

আমার বোনের মতো আর কাউকে যেন গুলি করে হত্যা করা না হয়: বিজিবিতে যোগ দিলেন ফেলানীর ভাই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

গত ২০১১ সালে সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে আজও গভীর ক্ষত হয়ে আছে। সেই ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন এবার দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিতে যোগ দিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি)। শপথের দিনই তিনি জানালেন, তার জীবনের একমাত্র প্রত্যাশা—আর কোনো পরিবার যেন তার বোনের মতো সন্তান হারানোর বেদনা না পায়।

এদিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেই ঘটনার প্রায় দেড় দশক পর ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন যোগ দিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এ নবীন সৈনিক হিসেবে। বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ব্যাচেই আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন আরফান হোসেন।

কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আরফান বলেন, যেভাবে তার বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই সীমান্তেরই একজন রক্ষী হয়ে তিনি শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হোক। কোনো বাবা-মা যেন এভাবে তাদের সন্তান হারান—এটাই আমার অঙ্গীকার।’

আরফান আরও জানান, ফেলানী হত্যার পর থেকেই তার এবং তার মা-বাবার একটাই স্বপ্ন ছিল—তিনি বিজিবিতে যোগ দেবেন। চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আজ তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। ‘আমি একজন সীমান্তরক্ষী হিসেবে সর্বদা চেষ্টা করব, যেন সীমান্তে কেউ আর আমার বোনের মতো গুলিতে নিহত না হয়। নিজের জীবন বিপন্ন হলেও আমি দায়িত্ব পালনে পিছপা হব না,’ বলেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি হামলায় ভয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর পরিকল্পনা

আমার বোনের মতো আর কাউকে যেন গুলি করে হত্যা করা না হয়: বিজিবিতে যোগ দিলেন ফেলানীর ভাই

আপডেট সময় ০২:০৭:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

গত ২০১১ সালে সীমান্তে কিশোরী ফেলানীর নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতিতে আজও গভীর ক্ষত হয়ে আছে। সেই ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন এবার দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব নিতে যোগ দিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি)। শপথের দিনই তিনি জানালেন, তার জীবনের একমাত্র প্রত্যাশা—আর কোনো পরিবার যেন তার বোনের মতো সন্তান হারানোর বেদনা না পায়।

এদিকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রামখানা–অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কিশোরী ফেলানীকে গুলি করে হত্যা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী। সেই ঘটনার প্রায় দেড় দশক পর ফেলানীর ছোট ভাই আরফান হোসেন যোগ দিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ–এ নবীন সৈনিক হিসেবে। বুধবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ব্যাচেই আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন আরফান হোসেন।

কুচকাওয়াজ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আরফান বলেন, যেভাবে তার বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এবং লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল, সেই স্মৃতি আজও তাকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সেই সীমান্তেরই একজন রক্ষী হয়ে তিনি শপথ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, আমার বোনের মতো আর কোনো বোনকে সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হোক। কোনো বাবা-মা যেন এভাবে তাদের সন্তান হারান—এটাই আমার অঙ্গীকার।’

আরফান আরও জানান, ফেলানী হত্যার পর থেকেই তার এবং তার মা-বাবার একটাই স্বপ্ন ছিল—তিনি বিজিবিতে যোগ দেবেন। চার মাসের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আজ তিনি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছেন। ‘আমি একজন সীমান্তরক্ষী হিসেবে সর্বদা চেষ্টা করব, যেন সীমান্তে কেউ আর আমার বোনের মতো গুলিতে নিহত না হয়। নিজের জীবন বিপন্ন হলেও আমি দায়িত্ব পালনে পিছপা হব না,’ বলেন তিনি।