ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিলো ইসরায়েল, উত্তেজনা তুঙ্গে ইরান এমন অস্ত্র বের করবে, যা দেখে ‘শত্রু হার্ট অ্যাটাক’ করতে পারে: নৌবাহিনীর কমান্ডার অকটেনের বড় চালান নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ টানা দুদিন লোডশেডিংমুক্ত ছিল দেশ: বিদ্যুৎ বিভাগ জাতীয় সংসদে এসে উচ্ছ্বসিত বাউফলের ৫০ শিক্ষার্থী এবার হারিকেন জ্বালিয়ে আ.লীগ নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে চান: ট্রাম্প রিজওয়ানা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্ত মহিলা, শেখ হাসিনাও তার ধারেকাছে আসবেন না: সিনিয়র আইনজীবী ২ হাজার জাহাজসহ ২০ হাজার নাবিক আটকা, বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সংকট রূপপুর প্রকল্প যার অবদান, তার জন্য দোয়া: তারেক রহমান

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: সালাহউদ্দিন আহমেদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানা অনিয়ম বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে কিছু ভুলভ্রান্তি স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে, প্রয়োজনে আজই দিতে পারে।’ আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভোটার স্লিপের নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা দরকার। বর্তমানে আচরণবিধিতে দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি দেওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত কারণ ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব ফেলা নয়। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকলেও অন্য দলের নেতাদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।’ নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজামুখী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ আটকে দিলো ইসরায়েল, উত্তেজনা তুঙ্গে

পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে: সালাহউদ্দিন আহমেদ

আপডেট সময় ০৩:২৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

এবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন যে, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে নানা অনিয়ম বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে কিছু ভুলভ্রান্তি স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন সংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে, প্রয়োজনে আজই দিতে পারে।’ আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ ভোটার স্লিপের নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে স্লিপে প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা দরকার। বর্তমানে আচরণবিধিতে দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি দেওয়ার যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত কারণ ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব ফেলা নয়। এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকলেও অন্য দলের নেতাদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব ভূমিকা পালন করছে।

পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।’ নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।