ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাবা-শ্বশুরসহ একই পরিবার থেকে বিএনপির তিন এমপি জনগণের দাবিতে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম: রিজভী ক্রীড়া কার্ডকে ‘আমিনুল কার্ড’ বললেন জামাল ভূঁইয়া এবার মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ড্রোন হামলা করলো ইরান ভারতে রাস্তায় নামাজ আদায় করায় মুসল্লিকে আটক করল পুলিশ ৬৯ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিতে সৌদির তাগিদ সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাননি মির্জা আব্বাসের স্ত্রীসহ যারা ইরানি জাহাজ আটকের জেরে ইসলামাবাদ বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার শঙ্কা: আল জাজিরা ইরানের বিরুদ্ধে ‘ব্লেইম গেম’ খেলছে যুক্তরাষ্ট্র: ইসমাইল বাঘাই ইরানে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর কয়েক ঘণ্টা চিৎকার করেন ট্রাম্প

সংঘাতে নতুন মোড়, এবার মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালাল ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

এবার হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আবারও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সামরিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মাঝেই এই ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে। ইরানের আধাসরকারি তাসনিম বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করার পর ওমান সাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা ছিল ওই মার্কিন অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ। তবে হামলার পরিমাণ, কতগুলো ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা এতে মার্কিন বাহিনীর কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তুসকানামে শনাক্ত এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, সতর্কবার্তা অমান্য করার পর মার্কিন মেরিনরা জাহাজটিতে ওঠে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে জাহাজটি মার্কিন মেরিনদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা পুরো জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং এর ভেতরে কী আছে তা যাচাই করছি।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং নৌবাহিনীর মাধ্যমে জাহাজ জব্দের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আলআনবিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে এবং একেসশস্ত্র জলদস্যুতাহিসেবে উল্লেখ করে। এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন বাহিনী জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে পরে সেটিতে উঠে পড়ে। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জবাব দেবে।

অবশ্য প্রথমে ইরান জাহাজ জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং দাবি করে তাদের নৌবাহিনী মার্কিন বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিতকরণের পর তেহরান পরে ঘটনাটি স্বীকার করে। ইরান জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনার পর যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। কারণ হিসেবে তারা নৌ অবরোধ, ‘অতিরিক্ত দাবিএবং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছে।

এদিকে আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন, কিন্তু পরে ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান সম্ভাব্য বৈঠক সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান তার শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্র সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এর জবাবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারেও হামলা চালানো হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা-শ্বশুরসহ একই পরিবার থেকে বিএনপির তিন এমপি

সংঘাতে নতুন মোড়, এবার মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালাল ইরান

আপডেট সময় ১১:৩৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

এবার হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আবারও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে মার্কিন সামরিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মাঝেই এই ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে। ইরানের আধাসরকারি তাসনিম বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করার পর ওমান সাগরে মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলা ছিল ওই মার্কিন অভিযানের সরাসরি প্রতিশোধ। তবে হামলার পরিমাণ, কতগুলো ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা এতে মার্কিন বাহিনীর কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে নেয়া হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘তুসকানামে শনাক্ত এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, সতর্কবার্তা অমান্য করার পর মার্কিন মেরিনরা জাহাজটিতে ওঠে। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে জাহাজটি মার্কিন মেরিনদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা পুরো জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছি এবং এর ভেতরে কী আছে তা যাচাই করছি।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে জাহাজটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং নৌবাহিনীর মাধ্যমে জাহাজ জব্দের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে। ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আলআনবিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে এবং একেসশস্ত্র জলদস্যুতাহিসেবে উল্লেখ করে। এক মুখপাত্র বলেন, মার্কিন বাহিনী জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে পরে সেটিতে উঠে পড়ে। তিনি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সশস্ত্র বাহিনী খুব শিগগিরই এই সশস্ত্র জলদস্যুতার জবাব দেবে।

অবশ্য প্রথমে ইরান জাহাজ জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করে এবং দাবি করে তাদের নৌবাহিনী মার্কিন বাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চিতকরণের পর তেহরান পরে ঘটনাটি স্বীকার করে। ইরান জানায়, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল এবং একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এই ঘটনার পর যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। কারণ হিসেবে তারা নৌ অবরোধ, ‘অতিরিক্ত দাবিএবং ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছে।

এদিকে আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আগে বলা হয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদে আলোচনায় নেতৃত্ব দেবেন, কিন্তু পরে ট্রাম্পের বক্তব্যে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান সম্ভাব্য বৈঠক সামনে রেখে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান তার শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্র সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। এর জবাবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারেও হামলা চালানো হবে।