হাসনাইন আহমেদ হাওলাদার, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক অনন্য সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাকিব নামের এক কিশোর অটোচালক। হারিয়ে যাওয়া তিন লাখ টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্র প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সে এলাকাবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে।
জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তার দাখিল পরীক্ষার্থী ছেলে জাহিদুল ইসলাম রূপককে মোটরসাইকেলে করে বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। পরে কিছু সময় একটি অটোরিকশায় বসে বিশ্রাম নেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি তার সাথে থাকা টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রভর্তি ব্যাগটি অটোতে রেখে চলে যান।
পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিষয়টি মনে পড়লে তিনি দ্রুত কেন্দ্রের সামনে ফিরে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন, কিন্তু ব্যাগটির কোনো সন্ধান পাননি। পরে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে হারানো জিনিস ফেরতদাতার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন এবং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন। অপরদিকে, সাকিব নামের এক অটোচালক, যিনি ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে গণিতে অকৃতকার্য হন এবং চলতি বছর আবার পরীক্ষার্থী, তার অটোতে একটি ব্যাগ পান। একজন পরীক্ষার্থী ওই ব্যাগটি তাকে দিলে তিনি ভেতরে টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখতে পান। ব্যাগে থাকা দলিলের ছবি দেখে মালিককে খোঁজার চেষ্টা করেন, কিন্তু না পেয়ে তা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বাবা–মায়ের কাছে জমা দেন।
পরবর্তীতে ফেসবুকে পোস্ট দেখে তিনি মালিকের সাথে যোগাযোগ করেন এবং স্থানীয় বোরহানগঞ্জ বাজারে আসতে বলেন। বিকেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের হাতে তার হারানো তিন লাখ টাকা, অরিজিনাল দলিল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কপি ও অন্যান্য কাগজপত্র বুঝিয়ে দেন।
এসময় টাকার মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম তাকে দশ হাজার পুরস্কার দেন। যদিও সাকিব নিতে অস্কৃতি জানায়। তিনি ভবিষ্যতে সততার পুরস্কার হিসেবে তাকে চাকুরী দেওয়ারও প্রস্তাব করেন। সাকিবের বাবা আব্দুল মান্নান বোরহানগঞ্জ বাজারের একজন মাছ ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। জীবিকার তাগিদে সাকিব ভাড়ায় অটো চালায় এবং পরীক্ষার্থীদের আনা–নেওয়া করে।
এ বিষয়ে সাকিব জানায়, আমার টাকার প্রতি কোনো লোভ নেই। আমি যদি এ টাকা রেখে দিতাম, তাহলে অন্যভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে যেতে পারত। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে সাকিবের সততা ও নৈতিকতার ব্যাপক প্রশংসা করেন স্থানীয় শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম, আবদুল জলিল, আবদুল হাই, মোঃ ফেরদৌস, সাংবাদিক অন্তর হাওলাদার সহ বিশিষ্টজনরা। অনেকেই মনে করছেন, তার এই কাজ সমাজে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















