ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

‘জাতিসংঘের সমুদ্র আইন মানতে বাধ্য নয় ইরান’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বাআনক্লজমেনে চলতে আইনিভাবে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি।  সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর নৌপদক্ষেপগুলোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।  ইরাভানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ নৌচলাচলের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতেই তেহরান এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছে। মিডল ইস্ট আইএর প্রতিবেদনে ইরানের এই অনড় অবস্থানকে বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানি প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু প্রভাবশালী সদস্যের বিরুদ্ধেদ্বিমুখী নীতিঅবলম্বনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইরাভানি অভিযোগ তোলেন যে, ওই দেশগুলো ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ নৌঅবরোধের বিষয়ে নীরব থেকে কেবল ইরানের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।  তার মতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর এই উদ্বেগ কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই উদ্বেগের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তিনি মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই মূলত আন্তর্জাতিক আইন বেশি লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয় এবং এই পথে ইরানের কড়াকড়ির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরাভানি তার বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানকে তাদের সমুদ্রসীমানায় হুমকির মুখে রাখা হবে, ততক্ষণ তারা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না। তেহরান মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন নিয়ে ইরানের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। যেহেতু ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির সব ধারায় স্বাক্ষর করেনি বা তা অনুমোদন করেনি, তাই তারা নিজেদের জলসীমায় নিজস্ব নিয়ম কার্যকর করতে চায়।  এই কূটনৈতিক লড়াই এখন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন থাকা পশ্চিমা সামরিক জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্বের। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের অধিকার ইরানের রয়েছে: রাশিয়া

‘জাতিসংঘের সমুদ্র আইন মানতে বাধ্য নয় ইরান’

আপডেট সময় ০৩:২৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

এবার ইরান জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বাআনক্লজমেনে চলতে আইনিভাবে বাধ্য নয় বলে জানিয়েছেন, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাইদ ইরাভানি।  সোমবার (২৭ এপ্রিল) দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর নৌপদক্ষেপগুলোর পক্ষে জোরালো অবস্থান নেন।  ইরাভানি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উপকূলীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ নৌচলাচলের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতেই তেহরান এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করেছে। মিডল ইস্ট আইএর প্রতিবেদনে ইরানের এই অনড় অবস্থানকে বর্তমান সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানি প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কিছু প্রভাবশালী সদস্যের বিরুদ্ধেদ্বিমুখী নীতিঅবলম্বনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ইরাভানি অভিযোগ তোলেন যে, ওই দেশগুলো ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ নৌঅবরোধের বিষয়ে নীরব থেকে কেবল ইরানের গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।  তার মতে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর এই উদ্বেগ কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয় এবং তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এই উদ্বেগের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তিনি মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই মূলত আন্তর্জাতিক আইন বেশি লঙ্ঘিত হচ্ছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয় এবং এই পথে ইরানের কড়াকড়ির ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরাভানি তার বিবৃতিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানকে তাদের সমুদ্রসীমানায় হুমকির মুখে রাখা হবে, ততক্ষণ তারা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবে না। তেহরান মনে করে, আন্তর্জাতিক আইনের দোহাই দিয়ে তাদের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে গেল।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের সমুদ্র আইন নিয়ে ইরানের এই প্রকাশ্য বিরোধিতা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। যেহেতু ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির সব ধারায় স্বাক্ষর করেনি বা তা অনুমোদন করেনি, তাই তারা নিজেদের জলসীমায় নিজস্ব নিয়ম কার্যকর করতে চায়।  এই কূটনৈতিক লড়াই এখন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। ইরানের এই কঠোর অবস্থানের পর হরমুজ প্রণালিতে মোতায়েন থাকা পশ্চিমা সামরিক জোটের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক বিশ্বের। সূত্র: মিডল ইস্ট আই