ঢাকা , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য রক্ত দিয়ে গেছে: ফজলুর রহমান ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে শিশু হত্যা মামলা হওয়া প্রয়োজন: আইনজীবী সুব্রত ভুয়া বিল দেখিয়ে ৬৪ লাখ টাকা নিয়েছেন উপদেষ্টা ফারুকী: মাসুদ কামাল আর হামলা নয়, ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নৌ-অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ট্রাম্প ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়, রাজা চার্লসও আমার সঙ্গে একমত: ট্রাম্প গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শক হিসেবে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ বজ্রাঘাতে কোল থেকে ছিটকে পড়ে ছোট্ট সাফিয়া, প্রাণ গেল বাবার চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ে ২ বছরের শিশুকে বাঁচালেন বাবা টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই বরিশালে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ ১৬ শিক্ষার্থী আহত

টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের ওড়িশার কেওনঝড় জেলায় এক হৃদয়বিদারক ও ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। মৃত বোনের ব্যাংক হিসাব থেকে মাত্র ১৯ হাজার ৩০০ টাকা তুলতে চান তার একমাত্র উত্তরাধিকার ভাই। কিন্তু ব্যাংক চায় মৃত্যুর সনদ। তা না হলে টাকা দিতে নারাজ ব্যাংক। তবে ভাইয়ের কাছে বোনের মৃত্যুর সনদ না থাকায় বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে ব্যাংকে হাজির হয়েছেন ভাই। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইয়ের নাম জিতু মুন্ডা। তিনি ওডিশার দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা। তার বোন কাকরা মুন্ডার নামে ওডিশা গ্রামীণ ব্যাংকের মাল্লিপাসি শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব ছিল।

জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কাকরা মুন্ডার মৃত্যু হয়। তার স্বামী ও একমাত্র সন্তান আগেই মারা যাওয়ায় জিতুই ছিলেন একমাত্র নিকটাত্মীয়। বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, অ্যাকাউন্টধারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে অথবা বৈধ উত্তরাধিকার সনদ দেখাতে হবে। কিন্তু দরিদ্র ও অশিক্ষিত জিতুর কাছে এসব কাগজপত্র ছিল না।

আইনি জটিলতা ও ব্যাংকের কঠোর অবস্থানে হতাশ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেন জিতু। তিনি গ্রামের শ্মশান থেকে বোনের কঙ্কাল তুলে এনে তা নিয়েই ব্যাংকে উপস্থিত হন। জিতুকে কঙ্কাল কাঁধে ব্যাংকে ঢুকতে দেখে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান। কেউ সমবেদনা জানান, কেউবা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেন এত অসংবেদনশীল আচরণ করল? গরিবের নিজের টাকা পাওয়াটাও কি এতটাই কঠিন?

এসময় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ব্যাংক চাইলে সরপঞ্চের (গ্রামপ্রধান) মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করতে পারত। কিন্তু তারা নথিকে বড় করে দেখেছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মানবিক দিক বিবেচনায় সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের হাজার হাজার সৈন্য রক্ত দিয়ে গেছে: ফজলুর রহমান

টাকা তুলতে বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে ব্যাংকে হাজির ভাই

আপডেট সময় ১০:৩০:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার ভারতের ওড়িশার কেওনঝড় জেলায় এক হৃদয়বিদারক ও ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছে। মৃত বোনের ব্যাংক হিসাব থেকে মাত্র ১৯ হাজার ৩০০ টাকা তুলতে চান তার একমাত্র উত্তরাধিকার ভাই। কিন্তু ব্যাংক চায় মৃত্যুর সনদ। তা না হলে টাকা দিতে নারাজ ব্যাংক। তবে ভাইয়ের কাছে বোনের মৃত্যুর সনদ না থাকায় বোনের কঙ্কাল কাঁধে নিয়ে তিন কিলোমিটার হেঁটে ব্যাংকে হাজির হয়েছেন ভাই। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইয়ের নাম জিতু মুন্ডা। তিনি ওডিশার দিয়ানালি গ্রামের বাসিন্দা। তার বোন কাকরা মুন্ডার নামে ওডিশা গ্রামীণ ব্যাংকের মাল্লিপাসি শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব ছিল।

জানা যায়, প্রায় দুই মাস আগে কাকরা মুন্ডার মৃত্যু হয়। তার স্বামী ও একমাত্র সন্তান আগেই মারা যাওয়ায় জিতুই ছিলেন একমাত্র নিকটাত্মীয়। বোনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানায়, অ্যাকাউন্টধারীকে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে অথবা বৈধ উত্তরাধিকার সনদ দেখাতে হবে। কিন্তু দরিদ্র ও অশিক্ষিত জিতুর কাছে এসব কাগজপত্র ছিল না।

আইনি জটিলতা ও ব্যাংকের কঠোর অবস্থানে হতাশ হয়ে চরম সিদ্ধান্ত নেন জিতু। তিনি গ্রামের শ্মশান থেকে বোনের কঙ্কাল তুলে এনে তা নিয়েই ব্যাংকে উপস্থিত হন। জিতুকে কঙ্কাল কাঁধে ব্যাংকে ঢুকতে দেখে উপস্থিত সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান। কেউ সমবেদনা জানান, কেউবা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কেন এত অসংবেদনশীল আচরণ করল? গরিবের নিজের টাকা পাওয়াটাও কি এতটাই কঠিন?

এসময় স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ব্যাংক চাইলে সরপঞ্চের (গ্রামপ্রধান) মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করতে পারত। কিন্তু তারা নথিকে বড় করে দেখেছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মানবিক দিক বিবেচনায় সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।