ঢাকা , শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান আল্লাহর আইন যারা চায়, তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী অগ্রগামী: জামায়াত আমির ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ইসরায়েলি কিশোরসহ নিহত ৫ সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক জিয়া মঞ্চের ’জিয়া’ গ্রেপ্তার ইয়াবা দিয়ে বাবা ও মেয়েকে ফাঁসাতে গিয়ে এসআই প্রত্যাহার তুরস্কের নারী প্রতিনিধিদলের সাথে জামায়াতের মতবিনিময় ও সেমিনার নরসিংদী শহরে মদের দোকান বন্ধের দাবি স্থানীয়দের, তালা দিল যুবদল-ছাত্রদল ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবীদের হয়রানির দায় সরকারকেই নিতে হবে: জামায়াত টাঙ্গাইলে মাদক ব্যবসায়ির বাড়ি ভেঙে দিল এলাকাবাসী

মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ ঢাকা কলেজ প্রশাসনের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ২৮২ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মাস্টার্স ও অন্যান্য মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।  সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ২০১৯–২০ সেশনসহ মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশনা দেন তারা।

অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান। অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা কঠোর ভাষায় জানান, ৩০ তারিখ ছিলো শেষ সময়। ১ তারিখ—এর মধ্যে সবাইকে হল ছাড়তে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, আর থাকা যাবে না। ২০১৯–২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাকে অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ চলবে না সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে তাহলে আমি আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা বের হওয়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে থেকে যায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভোস্টরা মূলত ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা বলছেন। অথচ এর বাইরেও বহু পুরোনো সেশনের যেমন ২০১৫–১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন, যাদের বিষয়ে প্রশাসন তেমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তাছাড়া কোন হলে কত শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত লিস্ট করে নাই।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, আমরা হল ছাড়ার পর আমাদের আসনগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা বের হওয়ার পর আমাদের সিট দখল হয়ে যাবে না, এমন নিশ্চয়তা কি প্রশাসন দিতে পারবে? মো. মমিন নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন রুমে রুমে গিয়ে ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের খুঁজছে। অথচ তাদের আগের সেশনের অনেকেই এখনো হলে অবস্থান করছে, সিট ছাড়ছে না তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

মো. ইমরান মাহমুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যাদের পড়াশোনা অনেক আগে শেষ, এমন অনেকেই এখনো হলে আছে, এটা কীভাবে সম্ভব? ১৮–১৯ থেকে সব চলে যাওয়ার মত তারপর ১৯–২০ আরো থাকার মত সময় আছে। এর আগে, ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করে কাসেম সোলাইমানির ছবি রেখে গেল ইরান

মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ ঢাকা কলেজ প্রশাসনের

আপডেট সময় ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

এবার ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মাস্টার্স ও অন্যান্য মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।  সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ২০১৯–২০ সেশনসহ মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশনা দেন তারা।

অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান। অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা কঠোর ভাষায় জানান, ৩০ তারিখ ছিলো শেষ সময়। ১ তারিখ—এর মধ্যে সবাইকে হল ছাড়তে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, আর থাকা যাবে না। ২০১৯–২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাকে অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ চলবে না সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে তাহলে আমি আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা বের হওয়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে থেকে যায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভোস্টরা মূলত ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা বলছেন। অথচ এর বাইরেও বহু পুরোনো সেশনের যেমন ২০১৫–১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন, যাদের বিষয়ে প্রশাসন তেমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তাছাড়া কোন হলে কত শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত লিস্ট করে নাই।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, আমরা হল ছাড়ার পর আমাদের আসনগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা বের হওয়ার পর আমাদের সিট দখল হয়ে যাবে না, এমন নিশ্চয়তা কি প্রশাসন দিতে পারবে? মো. মমিন নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন রুমে রুমে গিয়ে ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের খুঁজছে। অথচ তাদের আগের সেশনের অনেকেই এখনো হলে অবস্থান করছে, সিট ছাড়ছে না তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

মো. ইমরান মাহমুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যাদের পড়াশোনা অনেক আগে শেষ, এমন অনেকেই এখনো হলে আছে, এটা কীভাবে সম্ভব? ১৮–১৯ থেকে সব চলে যাওয়ার মত তারপর ১৯–২০ আরো থাকার মত সময় আছে। এর আগে, ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।