ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নিষেধাজ্ঞা থাকা পর্যন্ত রাজনীতি করতে পারবে না আ. লীগ: তথ্য উপদেষ্টা নেতানিয়াহুর জন্য যুদ্ধাস্ত্র কেনা ঠিক হবে না: মার্কিন কংগ্রেসম্যান খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ব্রাজিলের জয়ে উচ্ছ্বসিত তারকারা, ‘জাপান্টিনা’ খোঁচা হিমির শিবির কি শেখ মুজিবের স্থলে ওসমান হাদিকে জাতির পিতা হিসেবে দাঁড় করাতে চায়?: রাশেদ খান আমরা আর শীর্ষ সারির দল নই: জার্মানি কোচ খুচরার অভাবে ৮০ পয়সা বেশি দিয়ে সিগারেট কিনতে হচ্ছে ৪ বারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারানোর খুশিতে প্যারাগুয়েতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়ে ইরানকে আঞ্চলিক পরাশক্তি হিসেবে পেল যুক্তরাষ্ট্র মায়ের পথ ধরে বিশ্বকাপে ছেলে, গড়লেন ইতিহাস

মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ ঢাকা কলেজ প্রশাসনের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ২০৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মাস্টার্স ও অন্যান্য মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।  সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ২০১৯২০ সেশনসহ মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশনা দেন তারা।

অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান। অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা কঠোর ভাষায় জানান, ৩০ তারিখ ছিলো শেষ সময়। ১ তারিখএর মধ্যে সবাইকে হল ছাড়তে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, আর থাকা যাবে না। ২০১৯২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাকে অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে কোনোযদিবাকিন্তুচলবে না সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে তাহলে আমি আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা বের হওয়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে থেকে যায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভোস্টরা মূলত ২০১৯২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা বলছেন। অথচ এর বাইরেও বহু পুরোনো সেশনের যেমন ২০১৫১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন, যাদের বিষয়ে প্রশাসন তেমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তাছাড়া কোন হলে কত শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত লিস্ট করে নাই।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, আমরা হল ছাড়ার পর আমাদের আসনগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা বের হওয়ার পর আমাদের সিট দখল হয়ে যাবে না, এমন নিশ্চয়তা কি প্রশাসন দিতে পারবে? মো. মমিন নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন রুমে রুমে গিয়ে ২০১৯২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের খুঁজছে। অথচ তাদের আগের সেশনের অনেকেই এখনো হলে অবস্থান করছে, সিট ছাড়ছে না তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

মো. ইমরান মাহমুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যাদের পড়াশোনা অনেক আগে শেষ, এমন অনেকেই এখনো হলে আছে, এটা কীভাবে সম্ভব? ১৮১৯ থেকে সব চলে যাওয়ার মত তারপর ১৯২০ আরো থাকার মত সময় আছে। এর আগে, ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিষেধাজ্ঞা থাকা পর্যন্ত রাজনীতি করতে পারবে না আ. লীগ: তথ্য উপদেষ্টা

মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ ঢাকা কলেজ প্রশাসনের

আপডেট সময় ০১:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

এবার ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মাস্টার্স ও অন্যান্য মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) দিবাগত রাতে দক্ষিণ ছাত্রাবাসের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।  সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ২০১৯২০ সেশনসহ মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশনা দেন তারা।

অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি হওয়া এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান। অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা কঠোর ভাষায় জানান, ৩০ তারিখ ছিলো শেষ সময়। ১ তারিখএর মধ্যে সবাইকে হল ছাড়তে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, আর থাকা যাবে না। ২০১৯২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাকে অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে কোনোযদিবাকিন্তুচলবে না সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।

এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে তাহলে আমি আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা বের হওয়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে থেকে যায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভোস্টরা মূলত ২০১৯২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা বলছেন। অথচ এর বাইরেও বহু পুরোনো সেশনের যেমন ২০১৫১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন, যাদের বিষয়ে প্রশাসন তেমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তাছাড়া কোন হলে কত শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত লিস্ট করে নাই।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, আমরা হল ছাড়ার পর আমাদের আসনগুলো কাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। আমরা বের হওয়ার পর আমাদের সিট দখল হয়ে যাবে না, এমন নিশ্চয়তা কি প্রশাসন দিতে পারবে? মো. মমিন নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন রুমে রুমে গিয়ে ২০১৯২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের খুঁজছে। অথচ তাদের আগের সেশনের অনেকেই এখনো হলে অবস্থান করছে, সিট ছাড়ছে না তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

মো. ইমরান মাহমুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যাদের পড়াশোনা অনেক আগে শেষ, এমন অনেকেই এখনো হলে আছে, এটা কীভাবে সম্ভব? ১৮১৯ থেকে সব চলে যাওয়ার মত তারপর ১৯২০ আরো থাকার মত সময় আছে। এর আগে, ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।