ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর বিষয়ে সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী কবিরাজি চিকিৎসার নামে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি, মাদরাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার বিএনপি কখনোই সংস্কারের পক্ষে ছিলো না: নাহিদ ইসলাম ‘পুশব্যাক’ ইস্যুতে ঢাকার সহযোগিতা চায় নয়াদিল্লি নারীর পোশাক নিয়ে নোংরা মন্তব্য, এমপি মিতুর ফেসবুক পোস্ট ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফারিহার রহস্যে ঘেরা মৃত্যু, স্বামী-শ্বশুরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা স্ত্রী বাবার বাড়ি গেলে স্বামীরা কেন খুশি হয়? বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, পাত্রী কে?

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম মোজাফফর। একই সঙ্গে তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের পিতৃপরিচয়। পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

জানা গেছে, জেলার পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরী (১৪) ২০১৯ সালে স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনা শেষ করে। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান প্রসব করলে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মক্তবের শিক্ষক ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

 

 

এদিকে, ওই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ফেনীর আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ১ মাস ২ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

পরবর্তীতে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ও কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ফলে মোজাফফরের ডিএনএর সঙ্গে তুলনামূলক মতামত দেয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

এরপর কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যার জৈবিক পিতা শনাক্তে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে পুলিশ কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই (২২) দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে ওই কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন তিনি।

 

 

আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ আগস্ট কিশোরী, তার শিশু কন্যা এবং বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইয়ের সঙ্গে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারাভোগ করা মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনিত ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারার মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ওই কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

 

এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর ওই ইমামের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালে গৃহবধূর মরদেহ রেখে পালালেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন

ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয় ইমামকে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল সন্তানের পিতৃপরিচয়

আপডেট সময় ০৯:৩৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

অবশেষে ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ফেনীর পরশুরামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার মসজিদের ইমাম মোজাফফর। একই সঙ্গে তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টে বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ সন্তানের পিতৃপরিচয়। পরিকল্পিতভাবে ওই ইমামকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

জানা গেছে, জেলার পরশুরাম উপজেলার এক কিশোরী (১৪) ২০১৯ সালে স্থানীয় মক্তবে পড়াশোনা শেষ করে। এর পাঁচ বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে সন্তান প্রসব করলে পরিবারের পক্ষ থেকে ওই মক্তবের শিক্ষক ও স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদের (২৫) বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে পরশুরাম মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

 

 

এদিকে, ওই বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ফেনীর আদালতে পাল্টা মামলা করতে গেলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পরে ১ মাস ২ দিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পান মোজাফফর।

 

 

পরবর্তীতে মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মোজাফফর আহমদ ও কিশোরীর সংরক্ষিত ভ্যাজাইনাল সোয়াব ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভ্যাজাইনাল সোয়াবে পুরুষের বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয়নি। ফলে মোজাফফরের ডিএনএর সঙ্গে তুলনামূলক মতামত দেয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

এরপর কিশোরী ও তার ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশু কন্যার জৈবিক পিতা শনাক্তে নতুন করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পুলিশ। তদন্ত চলাকালে পুলিশ কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে সে স্বীকার করে, তার আপন বড় ভাই (২২) দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি আড়াল করতে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ মে ওই কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে আপন বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন তিনি।

 

 

আদালতের নির্দেশে একই বছরের ৪ আগস্ট কিশোরী, তার শিশু কন্যা এবং বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ৯ আগস্ট প্রকাশিত ডিএনএ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, কিশোরীর অভিযুক্ত ভাইয়ের সঙ্গে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারাভোগ করা মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর জৈবিক পিতা নন।

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক শরীফ হোসেন অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনিত ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(১) ধারার মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ওই কিশোরীর ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

 

 

এ ব্যাপারে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর ওই ইমামের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।