ঢাকা , মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নিজের জ্বালানি থাকতে বিদেশ থেকে কেন আমদানি করব: বিদ্যুৎমন্ত্রী জুলাই জাদুঘর যতদিন থাকবে হাসিনা আর আওয়ামী লীগকে থু থু দেবে জনগণ: স্পিকার থালাপতি’কে শুভেচ্ছা জানাতে ৬৫০ কিলোমিটার হেঁটে চেন্নাই যাচ্ছেন কেরালার দম্পতি লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, তীব্র নিন্দা জানালো ঢাকা জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক, তবে সেটা বঙ্গবন্ধুর পক্ষে: কাদের সিদ্দিকী ভারতে নেওয়া হলো কারিনাকে, টাকার অভাবে সঙ্গে যেতে পারেননি বাবা এবার অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলে কর আরোপের পরিকল্পনা, বছরে দিতে হবে যত শ্রম আইনের জেন্ডার পরিভাষা নিয়ে ৩৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগ এবার কোরবানির অপেক্ষায় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’! ইরানের তেল শোধনাগারে গোপনে হামলা চালিয়েছে আরব আমিরাত

দায়িত্ব নিয়ে ৭১৭ মদের দোকান বন্ধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

এবার তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয় রাজ্যজুড়ে উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭১৭টি রাষ্ট্র পরিচালিত মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন বা টাসম্যাক পরিচালিত এসব দোকান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পাওয়া ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) নেতা ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়ের সরকারের এটিই প্রথম বড় সিদ্ধান্ত।

তবে সরকার গঠনের জন্য বিজয় ও টিভিকেকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কারণ, ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তারা পেয়েছিল ১০৮টি আসন। আর বিজয় নিজের জেতা দুটি আসনের একটি ছেড়ে দিলে কার্যত সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা ১০ আসন পিছিয়ে ছিল। এ নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক নাটক চলে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, দুটি বাম দল এবং ছোট আঞ্চলিক দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) সমর্থনে সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়। রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার জোসেফ বিজয় নির্দেশ দিয়েছেন যেউপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭১৭টি খুচরা মদের দোকান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

বর্তমানে রাজ্যে টাসম্যাকের পরিচালনায় ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৬টি উপাসনালয়ের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত বলে জানিয়েছে সরকার। টাসম্যাকের মদের বিক্রি রাজ্যের আয়ের বড় উৎস হলেও এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে একধরনের ঐকমত্য দেখা গেছে। ২০২৫ সালে শুধু মদ বিক্রি থেকেই রাজ্যের আয় হয়েছিল ৪৮ হাজার কোটি রুপির বেশি। এই সিদ্ধান্তকেমাদকাসক্তিমুক্ততামিলনাড়ু গড়ার প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে টাসম্যাক নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির তদন্তও আলোচনায় আসে। গত বছরের এপ্রিলে নির্বাচনের আগে অর্থপাচারের অভিযোগে টাসম্যাক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় ইডি।

তখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ইডির এই অভিযানের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। গত বছরের মে মাসে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাটির এখতিয়ার অতিক্রমের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘ফেডারেল কাঠামোর কী হবে? আপনারা কি রাজ্য সরকারের তদন্তের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন না?’ বেঞ্চ আরও বলে, ‘আপনাদের সন্দেহ হতে পারে যে রাজ্য তদন্ত করছে না। কিন্তু তাই বলে কি আপনারা নিজেরাই তদন্ত শুরু করতে পারেন?’ গত মার্চে ইডি দাবি করে, তারা টাসম্যাকের কার্যক্রমেবহু অনিয়মখুঁজে পেয়েছে। তদন্ত সংস্থাটি আরও জানায়, তারা প্রায় ১ হাজার কোটি রুপিরহিসাববহির্ভূতনগদ অর্থের সন্ধান পেয়েছে। ইডির দাবি, করপোরেট পোস্টিং, পরিবহন ও বার লাইসেন্সের দরপত্র এবং কিছু নির্দিষ্ট ডিস্টিলারিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ইন্ডেন্ট অর্ডার সংক্রান্তআপত্তিকরতথ্যও তারা পেয়েছে।

এ ছাড়া টাসম্যাক আউটলেটে বিক্রি হওয়া প্রতি বোতলে ১০ থেকে ৩০ রুপি পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণও পেয়েছে বলে দাবি করে ইডি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে টাসম্যাক কর্মকর্তাদেরসংশ্লিষ্টতাছিল। কয়েক দিন পর আবারও অভিযান চালানো হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএর আওতায় ১০টি স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, দরপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ইঙ্গিতবাহীকারসাজির তথ্যতারা পেয়েছে। জবাবে তৎকালীন রাজ্য আবগারি মন্ত্রী এস মুত্তুস্বোয়ামি পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি রাজ্যের কর্মকর্তাদের হয়রানি করছে। এটিকে তিনিরাজনৈতিক প্রতিহিংসাবলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, টাসম্যাকের দপ্তরে তল্লাশির পেছনেগোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যরয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের জ্বালানি থাকতে বিদেশ থেকে কেন আমদানি করব: বিদ্যুৎমন্ত্রী

দায়িত্ব নিয়ে ৭১৭ মদের দোকান বন্ধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়

আপডেট সময় ১১:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

এবার তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয় রাজ্যজুড়ে উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে থাকা ৭১৭টি রাষ্ট্র পরিচালিত মদের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। তামিলনাড়ু স্টেট মার্কেটিং করপোরেশন বা টাসম্যাক পরিচালিত এসব দোকান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে। গত মাসের বিধানসভা নির্বাচনে জয় পাওয়া ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) নেতা ও জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়ের সরকারের এটিই প্রথম বড় সিদ্ধান্ত।

তবে সরকার গঠনের জন্য বিজয় ও টিভিকেকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। কারণ, ২৩৪ আসনের বিধানসভায় তারা পেয়েছিল ১০৮টি আসন। আর বিজয় নিজের জেতা দুটি আসনের একটি ছেড়ে দিলে কার্যত সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে তারা ১০ আসন পিছিয়ে ছিল। এ নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক নাটক চলে। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস, দুটি বাম দল এবং ছোট আঞ্চলিক দল বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) সমর্থনে সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়। রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ক্রিস্টোফার জোসেফ বিজয় নির্দেশ দিয়েছেন যেউপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্ট্যান্ডের ৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭১৭টি খুচরা মদের দোকান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বন্ধ করতে হবে।

বর্তমানে রাজ্যে টাসম্যাকের পরিচালনায় ৪ হাজার ৭৬৫টি মদের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ২৭৬টি উপাসনালয়ের কাছে, ১৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে এবং ২৫৫টি বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত বলে জানিয়েছে সরকার। টাসম্যাকের মদের বিক্রি রাজ্যের আয়ের বড় উৎস হলেও এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে একধরনের ঐকমত্য দেখা গেছে। ২০২৫ সালে শুধু মদ বিক্রি থেকেই রাজ্যের আয় হয়েছিল ৪৮ হাজার কোটি রুপির বেশি। এই সিদ্ধান্তকেমাদকাসক্তিমুক্ততামিলনাড়ু গড়ার প্রতিশ্রুতির প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে টাসম্যাক নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডির তদন্তও আলোচনায় আসে। গত বছরের এপ্রিলে নির্বাচনের আগে অর্থপাচারের অভিযোগে টাসম্যাক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় ইডি।

তখন রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল দ্রাবিড়া মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) ইডির এই অভিযানের বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। গত বছরের মে মাসে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রীয় সংস্থাটির এখতিয়ার অতিক্রমের বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, ‘ফেডারেল কাঠামোর কী হবে? আপনারা কি রাজ্য সরকারের তদন্তের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন না?’ বেঞ্চ আরও বলে, ‘আপনাদের সন্দেহ হতে পারে যে রাজ্য তদন্ত করছে না। কিন্তু তাই বলে কি আপনারা নিজেরাই তদন্ত শুরু করতে পারেন?’ গত মার্চে ইডি দাবি করে, তারা টাসম্যাকের কার্যক্রমেবহু অনিয়মখুঁজে পেয়েছে। তদন্ত সংস্থাটি আরও জানায়, তারা প্রায় ১ হাজার কোটি রুপিরহিসাববহির্ভূতনগদ অর্থের সন্ধান পেয়েছে। ইডির দাবি, করপোরেট পোস্টিং, পরিবহন ও বার লাইসেন্সের দরপত্র এবং কিছু নির্দিষ্ট ডিস্টিলারিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ইন্ডেন্ট অর্ডার সংক্রান্তআপত্তিকরতথ্যও তারা পেয়েছে।

এ ছাড়া টাসম্যাক আউটলেটে বিক্রি হওয়া প্রতি বোতলে ১০ থেকে ৩০ রুপি পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণও পেয়েছে বলে দাবি করে ইডি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ে টাসম্যাক কর্মকর্তাদেরসংশ্লিষ্টতাছিল। কয়েক দিন পর আবারও অভিযান চালানো হয়। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএর আওতায় ১০টি স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। ইডির দাবি, দরপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির ইঙ্গিতবাহীকারসাজির তথ্যতারা পেয়েছে। জবাবে তৎকালীন রাজ্য আবগারি মন্ত্রী এস মুত্তুস্বোয়ামি পাল্টা আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি রাজ্যের কর্মকর্তাদের হয়রানি করছে। এটিকে তিনিরাজনৈতিক প্রতিহিংসাবলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, টাসম্যাকের দপ্তরে তল্লাশির পেছনেগোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যরয়েছে।