এবার যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে রোববার ইরান পাল্টা আক্রমণের হুমকি দিয়েছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার একজন শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেছেন, উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ওমান সাগর মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য একটি ‘কবরস্থানে’ পরিণত হতে পারে। রোববার (১৭ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক মন্তব্যে ইরানের ‘এক্সপেডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল’-এর সদস্য মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমার সামরিক পরামর্শ হলো, ওমান উপসাগর আপনাদের জাহাজগুলোর কবরস্থানে পরিণত হওয়ার আগেই সরে যান। অন্যথায়, আমাদের ধারণা অনুযায়ী, নৌ অবরোধ একটি যুদ্ধকালীন কাজ এবং এর জবাব দেয়া আমাদের স্বাভাবিক অধিকার।’
রেজাই আরও বলেন যে, ইরানের সংযমকে চাপ বা হুমকি মেনে নেয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকি, তার মানে এই নয় যে আমরা তা মেনে নিয়েছি।’ তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং যুক্তি দেন যে, এই অঞ্চলে নিজেদের ভূমিকা বজায় রাখার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে এখন আর সেই যুক্তি নেই যা তারা একসময় ব্যবহার করত। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা এখানে আসে এবং তাদের যুদ্ধজাহাজ নিয়ে আসে। তাদের শত্রু কে? একসময় তারা বলত যে তারা সোভিয়েত ইউনিয়নের মোকাবিলা করতে এসেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের এখন আর অস্তিত্ব নেই।’ হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যের জন্য সবসময়ই উন্মুক্ত ছিল এবং তিনি যুক্তি দেন যে এই বাণিজ্যিক চলাচল নয়, বরং বিদেশি সামরিক অভিযানকেই প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। রেজাই বলেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত, কিন্তু সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার যেকোনো প্রচেষ্টার জন্য এটি বন্ধ থাকবে।’ ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে, যার ফলে তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, কিন্তু ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান। ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র এই কৌশলগত জলপথে ইরানের নৌ চলাচল লক্ষ্য করে একটি নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। সূত্র: আনাদোলু

ডেস্ক রিপোর্ট 























