ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খামারিদের বাড়িতে বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি: ডাকাতি করতে আসবো, দরজা না খুললে ‘জিন্দা খালাস’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
  • ৩২০ বার পড়া হয়েছে

এবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। দরজা না খুললেজিন্দা খালাসকরে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত পাঁচ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গোখামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছেকালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি রঘু ডাকাত।

টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনোভাবেই কোনো ডাকাতকে বা কোন দুস্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খামারিদের বাড়িতে বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি: ডাকাতি করতে আসবো, দরজা না খুললে ‘জিন্দা খালাস’

আপডেট সময় ০৫:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

এবার সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে গরুর খামারিদের বাড়ি বাড়ি রক্তমাখা চিঠি দিয়ে হত্যা ও ডাকাতির হুমকি দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে খামারিদের ঘরের দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। দরজা না খুললেজিন্দা খালাসকরে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) রাতে এ বিষয়ে স্থানীয় খামারি মো. আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে শাহজাদপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এর আগে গত পাঁচ দিনে উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামের প্রায় ১৫টি বাড়িতে একই ধরনের চিঠি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, উপজেলার গাড়াদহ ইউপির টেকুয়াপাড়া গ্রামের গোখামারি হাজী রফিকুল ইসলাম, শাহাদৎ হোসেন, আজাদুল ইসলাম ও সানোয়ার হোসেন বলেন, চার থেকে পাঁচ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫ বাড়িতে রক্তমাখা চিঠি এসেছে। চিঠিগুলোতে নির্বিঘ্নে ডাকাতি করার জন্য দরজা খোলা রাখতে বলা হয়। দরজা না খোলা রাখলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে ডাকাতি করা হয়েছে। ফলে কোরবানির ঈদকে ঘিরে বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গরুর খামারিরা। একদিকে ডাকাতি অন্যদিকে হুমকি দেওয়া রক্তমাখা চিঠিতে নির্ঘুম হয়ে যায় পুরো গ্রাম। গত ৪/৫দিনে টেকুয়াপাড়া গ্রামের অন্তত ১৫ জনের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা নিজেদের রঘু ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে লিখেছেকালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন, না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস। ইতি রঘু ডাকাত।

টেকুয়াপাড়া গ্রামের মিলন সংঘ ক্লাবের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গরু লালনপালন হয়ে থাকে; যা ঈদের আগে বিক্রি করা হয়। হঠাৎ ১৫ বাড়িতে রক্ষামাখা চিঠি আসার পর থেকে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বাজার ও রাস্তাঘাট জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্লাবের সদস্যরা পালা করে রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিচ্ছে।

এদিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন বলেন, চিঠির ঘটনাটি জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা নিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় শাহজাদপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, গ্রামবাসীকে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনোভাবেই কোনো ডাকাতকে বা কোন দুস্কৃতিকারীকে অপতৎপরতা করতে দেওয়া হবে না।