পাকিস্তান ও আরও সাতটি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজামুখী ফ্লোটিলার অংশগ্রহণকারীদের ইসরায়েলি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে ইসরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন–গভিরের ভয়াবহ, অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। রোববার (২৪ মে) পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, বেন–গভিরের ইচ্ছাকৃতভাবে আটক ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে অপমান করা ছিল “মানবিক মর্যাদার ওপর লজ্জাজনক আঘাত এবং আন্তর্জাতিক আইন, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতার স্পষ্ট লঙ্ঘন।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ৮ দেশের মন্ত্রীরা বেন–গভিরের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি দাবি করেছেন এবং তার বারবার উসকানিমূলক আচরণ, বিদ্বেষ ছড়ানো ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ সহ্য করা না হয় বা পুনরাবৃত্তি না ঘটে। বিবৃতিতে বলা হয়, “তারা আরও জোর দিয়ে বলেছেন যে মানবাধিকার সুরক্ষা, সব আটক ব্যক্তির মর্যাদা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, বেন–গভির একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর বিভিন্ন সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মাটিতে চেপে ধরা কিছু কর্মীকে বিদ্রূপ করছেন। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া কিছু আটক ব্যক্তি পরে অভিযোগ করেন যে হেফাজতে তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েলের কারা কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে এমন কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বেন–গভির হাত পেছনে বাঁধা ও গাদাগাদি করে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা আটক কর্মীদের মাঝ দিয়ে হাঁটছেন। এদিকে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসকে অনুরোধ করেছেন, যেন বেন–গভিরের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরবর্তী বৈঠকের এজেন্ডায় তোলা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















