ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলের কাওং তাত গ্রামে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনা আহত হয়েছে আরও কয়েক ডজন মানুষ। বিস্ফোরণটি চীন সীমান্তের খুব কাছে ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন।

 

রোববার (৩১ মে) স্থানীয় সময় ১২টার দিকে শান রাজ্যের নামখান টাউনশিপের ওই বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরেই গ্রামের উপর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

 

বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, খনির কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা উপকরণের আকস্মিক বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। চীন সীমান্তসংলগ্ন গ্রামটি বর্তমানে টিএনএলএ-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

এক বিবৃতিতে টিএনএলএ-র রাজনৈতিক শাখা পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

 

বিস্ফোরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন এটি বিমান হামলা। পরে জানা যায়, এটি খনির কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক উপকরণের বিস্ফোরণ ছিল।

 

তিনি বলেন, বিস্ফোরণে শিশুদেরও মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো এলাকাই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ওই ব্যক্তি জানান, তিনি শোবার ঘরে বসে নুডলস খেতে খেতে ফোন দেখছিলেন। তার মতে, যদি তিনি তখন রান্নাঘরে থাকতেন, তাহলে হয়তো বেঁচে ফিরতে পারতেন না। বিস্ফোরণে তার পায়ে সামান্য আঘাত লাগে এবং তার বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

 

বিস্ফোরণের পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে ওই ব্যক্তি বলেন, চারদিকে মানুষ কান্নাকাটি করছিল, স্বজনদের খুঁজছিল। তার কাছে মনে হয়েছে যেন পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আবাসিক এলাকার এত কাছে কেন বিস্ফোরক মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নিহতদের পরিবার সন্তুষ্ট হবে না।

 

টিএনএলএ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী খনিজ সম্পদ উত্তোলন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। তবে নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে খনিতে ধস ও বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

 

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

মিয়ানমারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৫৫

আপডেট সময় ০১:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

মিয়ানমারের বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত উত্তরাঞ্চলের কাওং তাত গ্রামে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনা আহত হয়েছে আরও কয়েক ডজন মানুষ। বিস্ফোরণটি চীন সীমান্তের খুব কাছে ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ রয়েছেন।

 

রোববার (৩১ মে) স্থানীয় সময় ১২টার দিকে শান রাজ্যের নামখান টাউনশিপের ওই বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরেই গ্রামের উপর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।

 

বিদ্রোহী গোষ্ঠী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, খনির কাজে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা উপকরণের আকস্মিক বিস্ফোরণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। চীন সীমান্তসংলগ্ন গ্রামটি বর্তমানে টিএনএলএ-র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

এক বিবৃতিতে টিএনএলএ-র রাজনৈতিক শাখা পালাউং স্টেট লিবারেশন ফ্রন্ট নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। গোষ্ঠীটি বলেছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। এর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা গেলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

 

বিস্ফোরণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন এটি বিমান হামলা। পরে জানা যায়, এটি খনির কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক উপকরণের বিস্ফোরণ ছিল।

 

তিনি বলেন, বিস্ফোরণে শিশুদেরও মৃত্যু হয়েছে এবং শত শত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুরো এলাকাই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

ওই ব্যক্তি জানান, তিনি শোবার ঘরে বসে নুডলস খেতে খেতে ফোন দেখছিলেন। তার মতে, যদি তিনি তখন রান্নাঘরে থাকতেন, তাহলে হয়তো বেঁচে ফিরতে পারতেন না। বিস্ফোরণে তার পায়ে সামান্য আঘাত লাগে এবং তার বাড়িটিও ধ্বংস হয়ে যায়।

 

বিস্ফোরণের পরের পরিস্থিতি বর্ণনা করে ওই ব্যক্তি বলেন, চারদিকে মানুষ কান্নাকাটি করছিল, স্বজনদের খুঁজছিল। তার কাছে মনে হয়েছে যেন পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, আবাসিক এলাকার এত কাছে কেন বিস্ফোরক মজুত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তার দাবি, ঘটনার পূর্ণ ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নিহতদের পরিবার সন্তুষ্ট হবে না।

 

টিএনএলএ মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা অন্যতম শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী খনিজ সম্পদ উত্তোলন থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। তবে নিরাপত্তার ঘাটতির কারণে খনিতে ধস ও বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

 

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এএফপি