ঢাকা , মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
লীগ প্রশ্নে নিরাপত্তাহীনতায় বিএনপি-জামায়াত: মাহফুজ ঢাকঢোল পিটিয়ে জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, আটক ১৬ ‘বনলতা এক্সপ্রেস শুধু ট্রেন নয়, মানুষের দুঃখ-সুখ বয়ে নেওয়া জীবন্ত এক পৃথিবী’— ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ তোফায়েল আহমেদের জানাজায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, ৭ জন আটক শপিংমল-মার্কেট বন্ধ নিয়ে আগের সিদ্ধান্তে ফিরল সরকার একসময় অন্যের বাড়িতে কাজ করা সেই নারী এখন মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান শেখ মুজিব খান জাহান আলীর মাজারের দীঘিতে শিশুকে টেনে নিয়ে গেছে কুমির উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা গরম করবেন না, সামলাইতে পারবেন না : মাসুদ মাগুরায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১২

লীগ প্রশ্নে নিরাপত্তাহীনতায় বিএনপি-জামায়াত: মাহফুজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রসঙ্গে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা (ইনসিকিউরিটি) কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। একই সাথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা নতুন প্রজন্মকে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উস্কানি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

মাহফুজ আলম তার পোস্টে রাজনৈতিক দলগুলোর মনস্তত্ত্ব এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ’৮৬ আর ’৯৬ এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা/সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের ’৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। স্মৃতি ভয়ের উৎস বটে!’

 

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ ও নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে। আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়। নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোনো চিহ্ন দেখা গেল না।’

 

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেয়ার। সেইটা করেন। যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা, তরিকা থেকে সংগঠিত হোন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। স্বচ্ছল হোন। রাজনীতিতে নয় শুধু, সমাজেও প্রভাব তৈরি করুন। দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তুলুন।’

 

অতীতের উদাহরণ টেনে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও লেখেন, ‘বড়দের আস্কারা-উস্কানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। সাথে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ান ও সক্রিয় ছিল, আছে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ’৭০ এর দশকে, ’৯০ এর দশকেও ঘটেছে।’

 

তরুণদের নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করার আহ্বান জানয়ে মাহফুজ বলেন, ‘লড়াইটা প্রজন্মের। আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না। সিম্পল কথা। এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন। যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু, কেবলা রাখেন জুলাই আর এন্টি-ফ্যাসিজম।’

 

পোস্টের শেষে গণ-অভ্যুত্থানের সাহসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘পুনশ্চঃ আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সাথে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

লীগ প্রশ্নে নিরাপত্তাহীনতায় বিএনপি-জামায়াত: মাহফুজ

লীগ প্রশ্নে নিরাপত্তাহীনতায় বিএনপি-জামায়াত: মাহফুজ

আপডেট সময় ১২:৩৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রসঙ্গে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা (ইনসিকিউরিটি) কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। একই সাথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা নতুন প্রজন্মকে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উস্কানি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

মাহফুজ আলম তার পোস্টে রাজনৈতিক দলগুলোর মনস্তত্ত্ব এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘লীগ প্রশ্নে এখন যা চলছে, তা হচ্ছে দুই বড় দলের ইনসিকিউরিটি। কৌন বনেগা লীগকা বাপ? ’৮৬ আর ’৯৬ এর স্মৃতি বিএনপি ভুলতে পারছে না আর জামায়াত আছে আদর্শিক শত্রুতা/সহিংসতার ভয়ে, যা বিএনপি-লীগের ’৯০ দশকের যৌথ আক্রমণের স্মৃতি থেকে উৎসারিত। স্মৃতি ভয়ের উৎস বটে!’

 

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ ও নতুন প্রজন্মের জন্য তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আগামীতে বিএনপি (আল্লাহ না করুক) ক্ষমতায় থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র করে নেবে আর জামায়াত চুপ মেরে গুপ্ত হয়ে যাবে। আসল বিপদ এ প্রজন্মের যারা লীগের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তাদের। সে বিপদ আরও ত্বরান্বিত হয়েছে জামায়াত জোটে যাওয়ায়। নগদ যা লাভ হয়েছিল, সেটাকেও বড় করার কোনো চিহ্ন দেখা গেল না।’

 

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘দুঃখজনক হলো, এ প্রজন্ম ব্যস্ত নিজেদের হাতের তালুর চেয়ে ছোট রুটি ভাগাভাগিতে। রুটিটা বড় করেন। আপনাদের তাকদ আছে এ জাতিকে, গ্লোবাল সাউথকে লিড দেয়ার। সেইটা করেন। যার যার পার্টি, দোকান, ফেরকা, তরিকা থেকে সংগঠিত হোন। প্রতিষ্ঠান গড়ুন। স্বচ্ছল হোন। রাজনীতিতে নয় শুধু, সমাজেও প্রভাব তৈরি করুন। দীর্ঘমেয়াদি লড়াই ও সংহতির পাটাতন গড়ে তুলুন।’

 

অতীতের উদাহরণ টেনে তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও লেখেন, ‘বড়দের আস্কারা-উস্কানিতে অনেক শক্তিক্ষয় হয়েছে। বড়রা হাটে নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে এ প্রজন্মকে। সাথে ছোটদের কোরাম আর মতাদর্শভিত্তিক একপাক্ষিক বয়ান ও সক্রিয় ছিল, আছে। এভাবেই খেয়ে ফেলা হয় তরুণদের। সেটা ’৭০ এর দশকে, ’৯০ এর দশকেও ঘটেছে।’

 

তরুণদের নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি বন্ধ করার আহ্বান জানয়ে মাহফুজ বলেন, ‘লড়াইটা প্রজন্মের। আগের প্রজন্ম আপনাদের বাঁচাবে না। সিম্পল কথা। এটা খেয়াল রেখে কৌশল নির্ধারণ করুন। যার যার ইমাম, খতিব, ফেরকা, তরিকা বানান, সমস্যা নাই। নিজেদের মধ্যে ব্যক্তি আক্রমণ আর বিদ্বেষচর্চা বন্ধ করেন। মতাদর্শের তর্ক তো হবেই, হোক। কিন্তু, কেবলা রাখেন জুলাই আর এন্টি-ফ্যাসিজম।’

 

পোস্টের শেষে গণ-অভ্যুত্থানের সাহসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, ‘পুনশ্চঃ আমরা ফ্যাসিস্ট লীগ তাড়াইছি নিশ্চিত মৃত্যু জেনে। সেই সাহসের সাথে এখন সাংগঠনিক শক্তি আর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা যুক্ত করেন। ফ্যাসিবাদ কোনো ফর্মেই আর ফিরতে পারবে না।’