ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

তোফায়েল আহমেদের কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান শেখ মুজিব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৪০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ হয়ে উঠেছিলেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা। হয়েছেন দাপুটে রাজনীতিক।

 

এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে ছিলেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ দিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে তিনি কােণঠাসা হয়ে ছিলেন।

 

শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সব মহলে প্রতিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েলের মৃত্যুর খবরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি।

 

যেভাবে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু উপাধি

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯-এর উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল। সে সময় ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ।

 

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।

 

সেই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানের আইয়ুব সরকার।

 

ওই বছরই ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করেছিল। সেই জনসভায় তখন ২৫ বছর বয়সী তরুণ ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে বলেন, ‘আজ থেকে তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’। তার সেই ঘোষণা সর্বসম্মতিতে গ্রহণযোগ্য হয়।

 

স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক জীবন

 

তোফায়েল আহমেদ প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।

 

দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।

 

পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

 

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।

 

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ থেকে জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তোফায়েল আহমেদের নাম।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকঢোল পিটিয়ে জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, আটক ১৬

তোফায়েল আহমেদের কাছে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পান শেখ মুজিব

আপডেট সময় ১০:৪০:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

 

ষাটের দশকের ছাত্ররাজনীতির সেই উত্তাল সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তোফায়েল আহমেদ হয়ে উঠেছিলেন উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা। হয়েছেন দাপুটে রাজনীতিক।

 

এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দাপটের সঙ্গে রাজনীতিতে ছিলেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগের শেষ দিকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে তিনি কােণঠাসা হয়ে ছিলেন।

 

শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ও রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সব মহলে প্রতিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ সহচর তোফায়েলের মৃত্যুর খবরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বিষয়টি।

 

যেভাবে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু উপাধি

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে ১৯৬৮-৬৯-এর উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর ভিপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ইকবাল হলের (বর্তমানে জহুরুল হক হল) ছাত্র সংসদে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতিতেও জড়িত ছিলেন।

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফার সঙ্গে ছাত্রদের দাবি যুক্ত করে ১১ দফা দাবিতে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়নের দুই অংশসহ চারটি ছাত্র সংগঠন তখন সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে আন্দোলনে নেমেছিল। সে সময় ডাকসুর ভিপি হিসেবে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন তোফায়েল আহমেদ।

 

সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের ধারাবাহিক কর্মসূচি ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। তোফায়েল আহমেদ হয়ে ওঠেন সেই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান নেতা।

 

সেই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালে শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব আসামিকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তানের আইয়ুব সরকার।

 

ওই বছরই ২৩ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে) এক জনসভার আয়োজন করেছিল। সেই জনসভায় তখন ২৫ বছর বয়সী তরুণ ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবেগপ্রবণ বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে বলেন, ‘আজ থেকে তিনি আমাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’। তার সেই ঘোষণা সর্বসম্মতিতে গ্রহণযোগ্য হয়।

 

স্বাধীন দেশে রাজনৈতিক জীবন

 

তোফায়েল আহমেদ প্রথমবারের মতো ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন। এরপর ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন।

 

দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবের দায়িত্ব লাভ করেন।

 

পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নিজের জেলা ভোলা থেকে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন।

 

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন।

 

উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের রাজপথ থেকে জাতীয় সংসদ, মন্ত্রিসভা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের পর্যায়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তোফায়েল আহমেদের নাম।