ঢাকা , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ভারতে প্রবেশের পর থেকে’ নিখোঁজ ডিপজল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা স্থগিত, বাতিল জেডি ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত এক বছরে বেড়েছে প্রায় ৩,৭০০ কোটি টাকা একদলীয় শাসন কায়েমের চেষ্টা হলে জনগণ হিমালয় হয়ে দাঁড়াবে’—ডা. শফিকুর রহমান ‘শুধু হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়’—ইসরায়েলকে কড়া বার্তা জেডি ভ্যান্সের সাকলায়েনের বাধ্যতামূলক অবসর নিয়ে ফের আলোচনায় পরীমনির পুরোনো মন্তব্য খুব শিগগিরই ইতিহাসের সবথেকে ঘৃণ্য বিরোধীদল জামায়াতের পতন হবে: রাশেদ খাঁন ১৩,৩৪৪ জুলাই যোদ্ধা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী অভাবের কারণে মেয়েকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগ, স্ত্রীকে দেন ‘জিন-পরীর’ গল্প ফাঁস অডিওতে এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে গুলি করার হুমকি

ভারতে মুখে দাড়ি থাকায় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে বাধ্য, মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল (৪৭) নামে এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী ও ভীতিমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি মুখে দাড়ি থাকার কারণে প্রায়শই মুসলিম ফেরিওয়ালাদের জোরপূর্বকজয় শ্রী রামস্লোগান দিতে বাধ্য করা হতো। শুক্রবার (১২ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ জুন আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। ভয় ও আতঙ্কের এই পরিস্থিতির কারণেই আমার বাবাকে খুন হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তার ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার। জানা যায়,জুলফিকার দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বাবার মতোই তিনি পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকায় ফেরিওয়ালার কাজ করেন। জুলফিকার জানান, ৯ জুন সকালে আকবর মণ্ডল ভ্যানে করে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করছিলেন। সুপুরডিহি গ্রামে তাকে হঠাৎ টেনেহিঁচড়ে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে অপরিচিত এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। ওই ব্যক্তি প্রথমে আমার বাবাকে লাঠি দিয়ে পেটায় উল্লেখ করে জুলফিকার বলেন, বাবা আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘দুপুর নাগাদ বান্দোয়ান থানা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার বাবা খুন হয়েছেন। এখনই বান্দোয়ান হাসপাতালে চলে আসুন। আমি হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখতে পাই জানিয়ে জুলফিকার বলেন,‘তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। সেই দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই আকবর মণ্ডল মারা গেছেন।এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুধু দাড়ি থাকার কারণে কিছু লোক আমাদের জোর করেজয় শ্রীরামবলতে বাধ্য করতী। তারা বলত, এখানে আর আমাদের ফেরি করতে দেওয়া হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি এবং কাজ করি।তার বাবার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এই যুবক।

পুনিশোল গ্রামের মণ্ডলপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষ প্রায় ১৪ বছর ধরে সেখানে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ফেরি করেছে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের ওপর হামলা বেড়েছে। পুনিশোলের অধিকাংশ মানুষ গরিব ও শ্রমজীবী। আমরা সব সময় দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজে বের হই।এ বিষয়ে ১০ জুন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাহাতোর বাড়ির ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খুনটি কেন হয়েছে তা নিয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। ঝগড়া থেকে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।এসময় এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন বৈভব তিওয়ারি।  

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ভারতে প্রবেশের পর থেকে’ নিখোঁজ ডিপজল

ভারতে মুখে দাড়ি থাকায় ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে বাধ্য, মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট সময় ১১:১৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় আকবর মণ্ডল (৪৭) নামে এক দরিদ্র মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় তীব্র মুসলিমবিদ্বেষী ও ভীতিমূলক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এমনকি মুখে দাড়ি থাকার কারণে প্রায়শই মুসলিম ফেরিওয়ালাদের জোরপূর্বকজয় শ্রী রামস্লোগান দিতে বাধ্য করা হতো। শুক্রবার (১২ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৯ জুন আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। ভয় ও আতঙ্কের এই পরিস্থিতির কারণেই আমার বাবাকে খুন হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তার ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার। জানা যায়,জুলফিকার দারিদ্র্যের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। বাবার মতোই তিনি পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এলাকায় ফেরিওয়ালার কাজ করেন। জুলফিকার জানান, ৯ জুন সকালে আকবর মণ্ডল ভ্যানে করে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করছিলেন। সুপুরডিহি গ্রামে তাকে হঠাৎ টেনেহিঁচড়ে একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সেখানে অপরিচিত এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। ওই ব্যক্তি প্রথমে আমার বাবাকে লাঠি দিয়ে পেটায় উল্লেখ করে জুলফিকার বলেন, বাবা আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়।

তিনি বলেন, ‘দুপুর নাগাদ বান্দোয়ান থানা থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার বাবা খুন হয়েছেন। এখনই বান্দোয়ান হাসপাতালে চলে আসুন। আমি হাসপাতালে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখতে পাই জানিয়ে জুলফিকার বলেন,‘তার মাথা থেঁতলে দেওয়া হয়েছিল। সেই দৃশ্য ছিল ভয়াবহ। পুরো শরীর রক্তে ভেজা ছিল। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে আনার অনেক আগেই আকবর মণ্ডল মারা গেছেন।এসময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘শুধু দাড়ি থাকার কারণে কিছু লোক আমাদের জোর করেজয় শ্রীরামবলতে বাধ্য করতী। তারা বলত, এখানে আর আমাদের ফেরি করতে দেওয়া হবে না। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি এবং কাজ করি।তার বাবার হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এই যুবক।

পুনিশোল গ্রামের মণ্ডলপাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা খেলাফত হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষ প্রায় ১৪ বছর ধরে সেখানে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ফেরি করেছে। কিন্তু বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর মুসলিমদের ওপর হামলা বেড়েছে। পুনিশোলের অধিকাংশ মানুষ গরিব ও শ্রমজীবী। আমরা সব সময় দুশ্চিন্তা নিয়ে কাজে বের হই।এ বিষয়ে ১০ জুন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার বৈভব তিওয়ারি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্বনাথ মাহাতোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাহাতোর বাড়ির ভেতরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। খুনটি কেন হয়েছে তা নিয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। ঝগড়া থেকে এমনটা হয়ে থাকতে পারে।এসময় এখন পর্যন্ত এ ঘটনার পেছনে ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও উল্লেখ করেন বৈভব তিওয়ারি।