বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় নেতা জিসানকে ঘিরে চলমান ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট করছিলেন ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের স্ত্রী জাকিয়া ফারহানা। তে কিছু সময় পর সে পোস্ট আর পাওয়া যায় না। সাথে সাথেই ডিলিট করে দেয় পোস্টটি তিনি।
পোস্টে জাকিয়া ফারহানা লেখেন, ‘ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান আহমেদের নারীঘটিত ইস্যুতে বহিষ্কারের ঘটনাকে আমি এখনও বিচ্ছিন্ন ঘটনাই বলব। এটি সংগঠনটির কালেকটিভ কোনো সংকট নয়। হরহামেশা জনশক্তিদের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটলে ছাত্রশিবির বিষয়টা টক অব কান্ট্রি করার আগে এই অপশনটাও ভেবে রাখতো। কারণ ইস্যুটা যতটা টক অব দ্য কান্ট্রি হয়েছে, এখন ঠিক ততটা ব্যাকফায়ার সহ্য করতে হচ্ছে ছাত্রসংগঠনটিকে।’
‘জিসান আহমেদের ঘটনাটি যে কতটা বিচ্ছিন্ন, তার প্রমাণ জনশক্তিদের সকাল থেকে তাকে ডিফেন্ড করে দেওয়া রিঅ্যাকশনও। অনেকে এই ব্যাপারটার সমালোচনা করছেন। কিন্তু একবারও ভেবে দেখছেন না-একটা ছাত্রসংগঠন এসব ইস্যুতে কতটা স্ট্রিক্ট হলে তাদের জনশক্তিরা এতটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে! ছাত্রশিবিরে এমন ঘটছে না, তা বলব না। তবে যে জাহেলিয়াত আমরা পার করছি, তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ছাত্রশিবির আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত।’
‘যখন যেনা-ব্যভিচারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নরমাইজ করা হচ্ছে, অগণন তরুণ-তরুণী যখন নিজেদের ভাসিয়ে দিয়েছে গড্ডালিকা প্রবাহে ফ্রি মিক্সিং যখন হয়ে দাঁড়িয়েছে দুধভাত; ছাত্রশিবির তখন তাদের জনশক্তিদের তাহাজ্জুদে জাগার ট্রেনিং দিচ্ছে। আপনি জেনে অবাক হবেন যে, স্কুল-কলেজের প্যান্ট-শার্ট পরা হাজার হাজার জনশক্তিকে প্রতি সোম এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখায় অভ্যস্ত করে তুলেছে ছাত্রশিবির। এমন একটি দিন নেই, যেদিন তাদের কোনো না কোনো শাখা কুরআন তালিম করছে না।’
‘এই শেষ জমানায় এসে ঈমান ধরে রাখা হাতে আগুন ধরে রাখার চাইতেও কঠিন হবে- এটা স্বয়ং রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভবিষ্যদ্বাণী। ছাত্রশিবির এদেশের হাজার হাজার নষ্ট ছেলেকে মানুষ করতে চেষ্টা করছে। আপনি যদি মুসলমানের সন্তান হন, ইসলামকে ভালোবেসে থাকেন; কিছু বিচ্ছিন্ন ভুলের জন্য ছাত্রশিবিরকে বাতিলের ভাষায় আঘাত করবেন না প্লিজ! এই কাফেলা আপনার আমার উত্তর-প্রজন্মের একমাত্র নিরাপদ ঠিকানা। এ আমাদের আরাধ্য স্বপ্ন-মজিল।’

ডেস্ক রিপোর্ট 


















