ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনের পদত্যাগ ‘তারেক রহমান আসলেও কাজ হবে না’ বলা সেই ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার নেতাকে কাঁধে তুলে স্লোগানের সময় ভিড়ের মধ্যে চড়-থাপ্পড় দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে প্রবেশ না করে দেশে ফিরেছি: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা “পদ্মা সেতুর পিলারের নিচে কারা কাটছে মাটি? উঠছে বড় প্রশ্ন” ৫৪ জেলার পানিতে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক-আয়রন, বাড়ছে ক্যানসারের আশঙ্কা পঞ্চম সন্তানের প্রত্যাশায় নেইমার, বাড়ছে বিশ্বকাপে না ফেরার আশঙ্কা আগামী তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে: আশিক চৌধুরী “ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা, গ্রুপ পর্বেই নেই নেইমার” লন্ডনে এমপি হাসনাতের অনুষ্ঠানে ডিম নিক্ষেপ, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩

৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হলে পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন তথা ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল পেতে পারে তেহরান। এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, চুক্তির শর্ত মেনে চললে ইরান আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তবে এর বিনিময়ে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরানের নেতারা যদি শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে চলেন তাহলে দেশটি ৩০ হাজার কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা) পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান এমন সুবিধা পেতে পারে। এই তহবিল গালফ কোস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।

ভ্যান্সের দাবি, ইরানের কট্টরপন্থিরা চুক্তি থেকে দেশটির পাওয়া সুবিধাগুলো বড় করে তুলে ধরবে, কিন্তু এর বিনিময়ে তেহরানকে যে শর্ত মেনে নিতে হয়েছে বা যে ছাড় দিতে হয়েছে, সেগুলোর কথা তুলনামূলকভাবে আড়াল করবে। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরানে বিনিয়োগের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানে আছেন। এদিকে সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাবে কি না। জবাবে মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘২৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই। তবে আমরা জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।তার দাবি, কট্টরপন্থিরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের কাছে চুক্তিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ তথা এই অর্থের পরিমাণ ২০১৬ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের জন্য মুক্ত করা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অসন্তোষের খবর প্রকাশিত হলেও ভ্যান্স দাবি করেছেন, চুক্তির কিছু অংশ ইসরায়েলেরও পছন্দ হয়েছে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই সপ্তাহেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে। তখন মানুষ বুঝতে পারবে এটি পুরো অঞ্চলকে আরও নিরাপদ করবে।তিনি বলেন, ‘গালফ কোস্ট কোয়ালিশন এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। তারা এটিকে শুধু কয়েক বছরের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে ভ্যান্স আরও বলেন, ‘সেই নতুন মধ্যপ্রাচ্যে অবশ্যই ইসরায়েলেরও একটি জায়গা থাকবে।

ভ্যান্স জানান, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি মূলতদুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ারওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। আর যদি দেশটি আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘এটি আমেরিকান জনগণের জন্য অনেক বড় একটি দিন। এর (ইরানের সঙ্গে সমঝোতার) ফলে হরমুজ প্রণালি সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা সেখানে জাহাজ চলাচল বাড়তে দেখেছি, তেলের দামও কমছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেই প্রতিশ্রুতিও এই চুক্তিতে রয়েছে।ভ্যান্সের ভাষ্য, ‘আমরা ইরানকে বলছিতোমরা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে পারবে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসতে পারবে; তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন তোমরা এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের সামনে এখন একটি ভালো সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোতে পারে, অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটতে পারে। তবে এখন তাদের সেই সক্ষমতা আর নেই।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিনের পদত্যাগ

৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেতে পারে ইরান: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন হলে পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন তথা ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল পেতে পারে তেহরান। এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেছেন, চুক্তির শর্ত মেনে চললে ইরান আবারও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ পাবে। তবে এর বিনিময়ে দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বলছে, ইরানের নেতারা যদি শান্তি চুক্তির শর্ত মেনে চলেন তাহলে দেশটি ৩০ হাজার কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা) পুনর্গঠন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। তিনি বলেন, ‘চুক্তির আওতায় নিজেদের দায়িত্ব পালন করলে ইরান এমন সুবিধা পেতে পারে। এই তহবিল গালফ কোস্ট কোয়ালিশনের অর্থায়নে গঠিত হবে।

ভ্যান্সের দাবি, ইরানের কট্টরপন্থিরা চুক্তি থেকে দেশটির পাওয়া সুবিধাগুলো বড় করে তুলে ধরবে, কিন্তু এর বিনিময়ে তেহরানকে যে শর্ত মেনে নিতে হয়েছে বা যে ছাড় দিতে হয়েছে, সেগুলোর কথা তুলনামূলকভাবে আড়াল করবে। তিনি আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ইরানে বিনিয়োগের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থানে আছেন। এদিকে সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্সকে প্রশ্ন করা হয়, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ফেরত পাবে কি না। জবাবে মার্কিন এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘২৪ বিলিয়ন ডলারের বিষয়টি চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই। তবে আমরা জব্দ করা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।তার দাবি, কট্টরপন্থিরা নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমর্থকদের কাছে চুক্তিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।

উল্লেখ্য, ইরানের দাবি অনুযায়ী তারা ২৪ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ তথা এই অর্থের পরিমাণ ২০১৬ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের জন্য মুক্ত করা ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলের অসন্তোষের খবর প্রকাশিত হলেও ভ্যান্স দাবি করেছেন, চুক্তির কিছু অংশ ইসরায়েলেরও পছন্দ হয়েছে। সিএনবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এই সপ্তাহেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করা হবে। তখন মানুষ বুঝতে পারবে এটি পুরো অঞ্চলকে আরও নিরাপদ করবে।তিনি বলেন, ‘গালফ কোস্ট কোয়ালিশন এই চুক্তিকে সমর্থন করছে। তারা এটিকে শুধু কয়েক বছরের জন্য নয়, আগামী প্রজন্মের জন্যও একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখছে ভ্যান্স আরও বলেন, ‘সেই নতুন মধ্যপ্রাচ্যে অবশ্যই ইসরায়েলেরও একটি জায়গা থাকবে।

ভ্যান্স জানান, ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি মূলতদুই ধাপের যাচাই প্রক্রিয়ারওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তার ভাষায়, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকে, তাহলে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে। আর যদি দেশটি আবার পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘এটি আমেরিকান জনগণের জন্য অনেক বড় একটি দিন। এর (ইরানের সঙ্গে সমঝোতার) ফলে হরমুজ প্রণালি সঙ্গে সঙ্গেই খুলে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আমরা সেখানে জাহাজ চলাচল বাড়তে দেখেছি, তেলের দামও কমছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে না পারে, সেই প্রতিশ্রুতিও এই চুক্তিতে রয়েছে।ভ্যান্সের ভাষ্য, ‘আমরা ইরানকে বলছিতোমরা নিষেধাজ্ঞামুক্ত অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে পারবে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ফিরে আসতে পারবে; তবে সেটি তখনই সম্ভব হবে, যখন তোমরা এই চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।ভ্যান্স দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের সামনে এখন একটি ভালো সুযোগ রয়েছে। তারা চাইলে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র হিসেবে এগোতে পারে, অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছুটতে পারে। তবে এখন তাদের সেই সক্ষমতা আর নেই।