মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক সমঝোতা। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ লুকোচ্ছেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কী শর্তে আলোচনা এগোচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও অন্ধকারে রয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না তার দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইসরায়েল এখনও বিস্তারিত কিছু জানে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য, ইসরায়েল বর্তমানে তাৎক্ষণিক ধ্বংসের হুমকি থেকে অনেকটাই মুক্ত। তার দাবি, দেশটি একসময় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ছিল এবং সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইসরায়েল।
তিনি বলেন, ওই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। শুধু তাই নয়, এতে ইরানের অর্থনীতিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নেতানিয়াহুর মতে, এই ক্ষতির পরিমাণ শত শত বিলিয়ন ডলার, যা কিছু হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব বিষয়ে যে ইসরায়েলের মতের মিল রয়েছে, তা নয় বলেও স্বীকার করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান নেতানিয়াহু।
এ সময় তিনি আরও বলেন, লেবানন সীমান্তের নিরাপত্তা বাফার জোনে প্রয়োজন অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বজায় থাকবে। পাশাপাশি গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এসব অভিযানে বহু “সন্ত্রাসী” নির্মূল করা হয়েছে।
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ৩৫০ বিলিয়ন শেকেল বরাদ্দের পরিকল্পনার কথাও জানান ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, অস্ত্র সক্ষমতায় আরও স্বনির্ভর হওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
রাজনৈতিক প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং বিজয় নিয়েও আশাবাদী।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। তার অভিযোগ, প্রায় তিন বছরের সংঘাতের পরও যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার বাস্তবতা আড়াল করতেই প্রধানমন্ত্রী এসব বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতেও ইরান ইসরায়েলের জন্য বড় নিরাপত্তা হুমকি হয়ে থাকবে এবং সেই হুমকি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























