যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ঘটনাও নিয়মিতই আলোচনায়। এবার ‘জি’ গ্রুপে ইরান ও নিউ জিল্যান্ডের ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে এক সমর্থকের কাছ থেকে ইসরায়েলের পতাকা কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এবার বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সেই সমর্থক
ফক্স নিউজের বরাতে জানা গেছে, রনি নামের এক সমর্থক ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারিতে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করছিলেন। সে সময় ‘অ্যাপেক্স’ সিকিউরিটির এক নারী কর্মী এসে তাঁর কাছ থেকে পতাকাটি জব্দ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সেই নিরাপত্তা কর্মী সমর্থককে বলছেন, ‘স্টেডিয়ামের ভেতরে কেবল যে দুটি দল খেলছে, তাদের পতাকাই প্রদর্শন করার অনুমতি রয়েছে।’ তবে তাৎক্ষণিকভাবে সই সমর্থক যখন পাল্টা প্রশ্ন করেন—একই ম্যাচে ফিলিস্তিনের পতাকা থাকা সত্ত্বেও কেন সেটি জব্দ করা হলো না? তখন নিরাপত্তা কর্মী বলেন, ‘ওহ, সেটা আমি জানি না।’
নিরাপত্তা কর্মীদের আচরণে বিব্রত ও বিস্মিত হয়েছেন রনি। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামে ঢোকার সময়ও আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। বরং আমরা সবার কাছ থেকে অনেক ভালোবাসা ও সমর্থন পাচ্ছিলাম। এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেটা আমি বিন্দুমাত্র আশা করিনি।’
গ্যালারিতে অন্য সব দেশের পতাকা স্বাভাবিকভাবেই উড়তে দেখেছেন উল্লেখ করে রনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামের চারপাশে লেবানন, মেক্সিকোসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের পতাকা দেখেছি। তাই শুধু আমাকে এভাবে আলাদা করে টার্গেট করায় আমি বেশ অবাক হয়েছি। তারা (নিরাপত্তা কর্মী) সরাসরিই বলেছে অন্য কোনো দেশের পতাকা নিয়ে তাদের সমস্যা নেই, সমস্যা শুধু আমাদেরটা নিয়েই। অন্য কারও পতাকা কেড়ে নেওয়ার কোনো নির্দেশ নাকি তাদের দেওয়া হয়নি। পুরো ব্যপারটি ছিল অত্যন্ত বিব্রতকর।’
চলতি বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যু নিয়ে এমনিতেই বেশ আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ইরান-নিউ জিল্যান্ড ম্যাচের এই নতুন বিতর্ক সেই তালিকায় আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ করল। ফিফা কিংবা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট 





















