ঢাকা , শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

ব্রাজিলের ম্যাচে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ফুটবল

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

 

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক স্মারক এবার পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এই ফুটবলটি প্রায় ৫০০ বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। স্টার্লিং দুর্গের রানীর শয়নকক্ষে ওক কাঠের প্যানেলিংয়ের আড়ালে, ছাদের কড়িকাঠের ভেতর এটি আটকে থাকা অবস্থায় প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। দীর্ঘ বছর ধরে ঐতিহাসিক এই ফুটবলটি স্টার্লিং শহরের ‘স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়াম’-এ সংরক্ষিত ছিল।

 

আজই আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এক দীর্ঘ সফরে রওনা হয়েছে ফুটবলটি। মায়ামির কোরাল গেবলস মিউজিয়ামে আয়োজিত একটি মূল প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এটি সেখানে প্রদর্শন করা হবে। এই বিশেষ প্রদর্শনীর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—’ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল গেম: ফ্রম স্কটল্যান্ড টু ব্রাজিল টু হাইতি’ (কূটনীতি ও সুন্দর খেলা: স্কটল্যান্ড থেকে ব্রাজিল থেকে হাইতি)।

 

 

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চামড়ার তৈরি এই ফুটবলটি আনুমানিক ১৫৪০ থেকে ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ের। আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবে এই ফুটবলটি। এর মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ ৫০০ বছরে এই প্রথমবার বলটি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ সরাসরি ‘উপভোগ’ করতে যাচ্ছে!Soccer

 

স্টার্লিং স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামের ডিরেক্টর ক্যারোলিন ম্যাথার্স বলেন, ‘স্মিথ মিউজিয়ামের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এই ফুটবলটি স্টার্লিংয়ের নিজস্ব সম্পদ। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে—তা দেখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের উৎস।’

 

ম্যাথার্স আরও যোগ করেন, ‘এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের একটি ছোট এবং বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার থাকা জাদুঘরেও সত্যিকারের আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে—এমন কিছু অমূল্য রত্ন যা বিশ্বের দরবারে আমাদের দেশের গল্প তুলে ধরে। বিশ্বমঞ্চে এটি সবার সামনে ভাগ করে নিতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এটিকে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য।’

 

মোটামুটি একটি ছোট তরমুজের আকারের এই বলটি তৈরি করা হয়েছে চামড়ার মোটা প্যানেল একসঙ্গে সেলাই করে। এরপর বলটির উপরিভাগ যেন আরও মসৃণ এবং বাতাস কেটে সহজে ছুটে যেতে পারে (অ্যারোডাইনামিক), সেজন্য সেলাই করার পর বলটিকে উল্টে নেওয়া হয়েছিল। আর এর ভেতরে ব্ল্যাডার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি শুকরের মূত্রথলি।

 

ম্যাথার্স বলেন, যে উপাদানটি প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে স্টার্লিংয়ের ইতিহাসের অংশ ছিল, সেটি এখন বিশ্বমঞ্চে এই শহরের একজন রাষ্ট্রদূত বা দূত হিসেবে কাজ করছে। আমরা আশা করি, এটি সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের মানুষকে স্মিথ মিউজিয়ামে আসতে এবং এর বাকি সব সংগ্রহ আবিষ্কার করতে অনুপ্রাণিত করবে।’

 

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃক বিশ্বের প্রাচীনতম ফুটবল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই বল ২৫টি উপাদানে স্কটল্যান্ডের ইতিহাস তালিকার অন্যতম একটি স্মারক হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। স্মিথ মিউজিয়ামের ৪০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের বিশাল সংগ্রহশালার মধ্যে এটিই তাদের সেরা ও প্রধান প্রদর্শনী।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথমার্ধে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের লিড নিল যুক্তরাষ্ট্র

ব্রাজিলের ম্যাচে থাকবে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ফুটবল

আপডেট সময় ১১:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

 

ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক স্মারক এবার পাড়ি জমাচ্ছে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এই ফুটবলটি প্রায় ৫০০ বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। স্টার্লিং দুর্গের রানীর শয়নকক্ষে ওক কাঠের প্যানেলিংয়ের আড়ালে, ছাদের কড়িকাঠের ভেতর এটি আটকে থাকা অবস্থায় প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। দীর্ঘ বছর ধরে ঐতিহাসিক এই ফুটবলটি স্টার্লিং শহরের ‘স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়াম’-এ সংরক্ষিত ছিল।

 

আজই আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে এক দীর্ঘ সফরে রওনা হয়েছে ফুটবলটি। মায়ামির কোরাল গেবলস মিউজিয়ামে আয়োজিত একটি মূল প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এটি সেখানে প্রদর্শন করা হবে। এই বিশেষ প্রদর্শনীর শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—’ডিপ্লোম্যাসি অ্যান্ড দ্য বিউটিফুল গেম: ফ্রম স্কটল্যান্ড টু ব্রাজিল টু হাইতি’ (কূটনীতি ও সুন্দর খেলা: স্কটল্যান্ড থেকে ব্রাজিল থেকে হাইতি)।

 

 

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চামড়ার তৈরি এই ফুটবলটি আনুমানিক ১৫৪০ থেকে ১৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ের। আগামী ২৪ জুন ব্রাজিলের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচেও স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবে এই ফুটবলটি। এর মাধ্যমে ফুটবল ইতিহাসের দীর্ঘ ৫০০ বছরে এই প্রথমবার বলটি বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ সরাসরি ‘উপভোগ’ করতে যাচ্ছে!Soccer

 

স্টার্লিং স্মিথ আর্ট গ্যালারি অ্যান্ড মিউজিয়ামের ডিরেক্টর ক্যারোলিন ম্যাথার্স বলেন, ‘স্মিথ মিউজিয়ামের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম রোমাঞ্চকর একটি মুহূর্ত। পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো এই ফুটবলটি স্টার্লিংয়ের নিজস্ব সম্পদ। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্টের পাশে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে—তা দেখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের উৎস।’

 

ম্যাথার্স আরও যোগ করেন, ‘এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের একটি ছোট এবং বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার থাকা জাদুঘরেও সত্যিকারের আন্তর্জাতিক গুরুত্বসম্পন্ন উপাদান সংরক্ষিত রয়েছে—এমন কিছু অমূল্য রত্ন যা বিশ্বের দরবারে আমাদের দেশের গল্প তুলে ধরে। বিশ্বমঞ্চে এটি সবার সামনে ভাগ করে নিতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি এটিকে আবার ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য।’

 

মোটামুটি একটি ছোট তরমুজের আকারের এই বলটি তৈরি করা হয়েছে চামড়ার মোটা প্যানেল একসঙ্গে সেলাই করে। এরপর বলটির উপরিভাগ যেন আরও মসৃণ এবং বাতাস কেটে সহজে ছুটে যেতে পারে (অ্যারোডাইনামিক), সেজন্য সেলাই করার পর বলটিকে উল্টে নেওয়া হয়েছিল। আর এর ভেতরে ব্ল্যাডার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল একটি শুকরের মূত্রথলি।

 

ম্যাথার্স বলেন, যে উপাদানটি প্রায় পাঁচ শতাব্দী ধরে স্টার্লিংয়ের ইতিহাসের অংশ ছিল, সেটি এখন বিশ্বমঞ্চে এই শহরের একজন রাষ্ট্রদূত বা দূত হিসেবে কাজ করছে। আমরা আশা করি, এটি সেন্ট্রাল স্কটল্যান্ডের মানুষকে স্মিথ মিউজিয়ামে আসতে এবং এর বাকি সব সংগ্রহ আবিষ্কার করতে অনুপ্রাণিত করবে।’

 

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃক বিশ্বের প্রাচীনতম ফুটবল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই বল ২৫টি উপাদানে স্কটল্যান্ডের ইতিহাস তালিকার অন্যতম একটি স্মারক হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। স্মিথ মিউজিয়ামের ৪০ হাজারেরও বেশি শিল্পকর্ম এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের বিশাল সংগ্রহশালার মধ্যে এটিই তাদের সেরা ও প্রধান প্রদর্শনী।