ঘড়ির কাঁটায় সময় একই গতিতে এগোলেও বছরের প্রতিটি দিনের দৈর্ঘ্য এক নয়। কখনো দিন দীর্ঘ হয়, কখনো রাত। প্রকৃতির এই চিরন্তন নিয়মেরই এক বিশেষ মুহূর্ত আজ, ২১ জুন। উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোর জন্য এটি বছরের সবচেয়ে বড় দিন এবং সবচেয়ে ছোট রাত। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় দিনটি পরিচিত ‘গ্রীষ্মকালীন অয়ন’ বা Summer Solstice নামে।
আজকের দিনে সূর্য আকাশে সবচেয়ে বেশি সময় অবস্থান করে। এর কারণ পৃথিবীর অক্ষ প্রায় ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি হেলে রয়েছে। সূর্যের চারদিকে পরিভ্রমণের সময় ২১ জুনে উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে। ফলে এই অঞ্চলে সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে এবং দিন দীর্ঘ হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ দিনের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট, যা বছরের অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, এদিন সূর্যের অবস্থান থাকে কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি। পৃথিবীর ওপর দিয়ে অতিক্রম করা কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি—এই দুটি কাল্পনিক রেখার মধ্যে কর্কটক্রান্তি রেখা উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২১ জুন দুপুরে সূর্য এই রেখার কাছাকাছি অবস্থান করায় উত্তর গোলার্ধে দীর্ঘ সময় ধরে আলো পাওয়া যায়।
এ সময় উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকে। ফলে উত্তর গোলার্ধে দিন দীর্ঘ হলেও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘটে ঠিক বিপরীত ঘটনা। সেখানে ২১ জুন হয় বছরের সবচেয়ে ছোট দিন এবং দীর্ঘতম রাত।
মজার বিষয় হলো, পৃথিবীর কিছু অঞ্চলে এদিন সূর্য প্রায় মাথার ওপর অবস্থান করায় অল্প সময়ের জন্য মানুষের ছায়া প্রায় অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। সূর্যের রশ্মি যখন প্রায় খাড়াভাবে ভূপৃষ্ঠে পড়ে, তখন এমন দৃশ্য দেখা যায়।
প্রতি বছর সাধারণত ২০ থেকে ২৩ জুনের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন অয়ন ঘটে। এর পর থেকে উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে দিনের দৈর্ঘ্য কমতে শুরু করে এবং রাত বড় হতে থাকে। বিপরীতে ২২ ডিসেম্বরের দিকে আসে শীতকালীন অয়ন, যখন উত্তর গোলার্ধে হয় বছরের সবচেয়ে ছোট দিন ও দীর্ঘতম রাত।
শুধু বৈজ্ঞানিক দিক থেকেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতেও এই দিনটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রাচীন ইউরোপসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন অয়নকে ঘিরে উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান এবং কৃষিকাজের নতুন পরিকল্পনার প্রচলন ছিল।
প্রকৃতির এই অনন্য ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে কাজ করে মহাকাশের সুসংগঠিত নিয়ম এবং বিজ্ঞানের বিস্ময়কর ব্যাখ্যা।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























