ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ভারতে পুলিশের ওপর সেনাবাহিনীর ভয়াবহ হামলা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত আজ চীনা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, হবে ১৫ সমঝোতা সই ‘৫০ বছরে আ.লীগের ফিরে আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ’ এবার বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা ভারতের ইরানের পক্ষে যুদ্ধে নামত চীন-রাশিয়া-তুরস্ক, আমি ওদের থামিয়েছি: ট্রাম্প ঢাবির ছাত্রী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা কোটালীপাড়ার সেতুতে ফুটবল দেশের পতাকার বদলে কালেমা খচিত পতাকা, সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঝড় শাহজালালে বিমানের ইঞ্জিন বিকল, জরুরি দরজা ভে’ঙে যাত্রী উ’দ্ধা’র ‘শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিন পিংয়ের সাথে বৈঠক’

আ.লীগের মিছিলে গেলেই অর্ধেক মাসের বেতন, ১৫ দিনেই জামিনের নিশ্চয়তা!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঝটিকা মিছিল ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন নাসিমের অনুসারীরা, অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর অনুসারীরা পৃথকভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য কর্মীদের মাথাপিছু ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্বদানকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আরও বেশি অর্থ। এমনকি গ্রেপ্তার হলে ১৫ দিনের মধ্যে জামিন বা মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, মিছিলের জন্য বিশেষভাবে তরুণ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, কম বয়সীদের গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত আইনি সহায়তার মাধ্যমে বের করে আনা সম্ভব হবে। মিছিলে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে অনেককে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত অফার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৭ জুন সকালে ফেনী শহরের স্টেশন রোড এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মিছিলের অর্থায়ন, অংশগ্রহণকারীদের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি এবং সংগঠকদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন স্বীকার করেছেন যে অর্থের বিনিময়ে তারা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। একজন শ্রমজীবী ব্যক্তি মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনের অর্ধেক পাওয়ার আশ্বাসে কর্মসূচিতে অংশ নেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ঝটিকা কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়। শহরের মাস্টারপাড়া, স্টেশন রোড এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতো। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জুনকে কেন্দ্র করেও কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী ফৌজুল আজীম বলেন, “যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এ নিয়ে কাজ করছে। কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে পুলিশের ওপর সেনাবাহিনীর ভয়াবহ হামলা

আ.লীগের মিছিলে গেলেই অর্ধেক মাসের বেতন, ১৫ দিনেই জামিনের নিশ্চয়তা!

আপডেট সময় ০১:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ফেনীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ঝটিকা মিছিল ও সাংগঠনিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন নাসিমের অনুসারীরা, অন্যদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর অনুসারীরা পৃথকভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঝটিকা মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য কর্মীদের মাথাপিছু ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। নেতৃত্বদানকারীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে আরও বেশি অর্থ। এমনকি গ্রেপ্তার হলে ১৫ দিনের মধ্যে জামিন বা মুক্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, মিছিলের জন্য বিশেষভাবে তরুণ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের টার্গেট করা হচ্ছে। তাদের ধারণা, কম বয়সীদের গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত আইনি সহায়তার মাধ্যমে বের করে আনা সম্ভব হবে। মিছিলে অংশ নেওয়ার বিনিময়ে অনেককে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত অফার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৭ জুন সকালে ফেনী শহরের স্টেশন রোড এলাকায় আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার পর এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মিছিলের অর্থায়ন, অংশগ্রহণকারীদের অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি এবং সংগঠকদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন স্বীকার করেছেন যে অর্থের বিনিময়ে তারা মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। একজন শ্রমজীবী ব্যক্তি মাসিক ১৪ হাজার টাকা বেতনের অর্ধেক পাওয়ার আশ্বাসে কর্মসূচিতে অংশ নেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে ঝটিকা কর্মসূচি শেষ করার পরিকল্পনা করা হয়। শহরের মাস্টারপাড়া, স্টেশন রোড এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আগে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হতো। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৩ জুনকে কেন্দ্র করেও কর্মসূচির পরিকল্পনা ছিল বলে জানা গেছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী ফৌজুল আজীম বলেন, “যেকোনো ধরনের অবৈধ তৎপরতা প্রতিরোধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এ নিয়ে কাজ করছে। কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।”