জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের পর ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হওয়া অযোধ্যার রামমন্দির এবার কোটি কোটি রুপির অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে উদ্বোধন হওয়া এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে বাবরি মসজিদের স্থানে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা মন্দিরটিতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ কোটি দর্শনার্থী আসেন বলে ধারণা করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি জাতীয় আলোচনায় আসে। অভিযোগের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। সেখানে আদালতের তত্ত্বাবধানে এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
মন্দির পরিচালনাকারী ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’ সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করলেও উত্তর প্রদেশ সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে।
তদন্ত দলের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার অযোধ্যা পুলিশ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভক্তের সমাগম হওয়া এই মন্দির কমপ্লেক্সে প্রায় ৩৫টি দানবাক্সে অনুদান জমা পড়ে। মন্দির ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অনুদান ও অন্যান্য খাত থেকে আয় হয়েছে ৩২৭ কোটি রুপি।
তবে অযোধ্যার সাবেক এক বিধায়কের দাবি, মন্দিরের সাত কোটির বেশি রুপির হিসাব মিলছে না এবং ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও ট্রাস্ট এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে।
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে বহুল আলোচিত রামমন্দিরকে ঘিরে ওঠা এই অভিযোগ এখন দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















