ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বরিশালে থানাহাজতে সেদিন যা ঘটেছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল মোহাম্মদপুরে ভবনের একাংশে ধস, দুর্ঘটনার শঙ্কা জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ভাঙচুর এমপির গাড়ি সরকারি শিশু পরিবারে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রামের ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন সারাদেশে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন-দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গোল না খাওয়া স্পেনের সামনে বেলজিয়ামের গোলঝড় এবার অমুসলিম দেশেও ই’স’রা’ই’লি পণ্য আমদানি নি’ষি’দ্ধ নতুন শত্রু খুঁজছে ইসরায়েল: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুমার নামাজের পর আল-আকসার ইমামকে আ’টক করল ইসরায়েল

গোল না খাওয়া স্পেনের সামনে বেলজিয়ামের গোলঝড়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলেও একবারের জন্য বল জাল থেকে বের করতে হয়নি স্পেনের গোলরক্ষককে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক গোল করা বেলজিয়াম শেষ তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ১২ বার। এক পাশে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দুর্ভেদ্য রক্ষণ, অন্য পাশে রুডি গার্সিয়ার দলের গোলের বিস্ফোরণ। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল তাই হয়ে উঠেছে স্পেনের দেয়াল আর বেলজিয়ামের গোলঝড়ের পরীক্ষা।

 

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় ইনগলউডের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার। জয়ী দল ডালাসের সেমিফাইনালে খেলবে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারানো ফ্রান্সের বিপক্ষে।

 

স্পেনের গোলপোস্ট এখনো অক্ষত

 

গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল স্পেন। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় তারা। নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ের পর শেষ ষোলোয় পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে।

 

পাঁচ ম্যাচে ৯ গোল করার পাশাপাশি একটিও গোল না খাওয়া স্পেন ২০২৩ সালের মার্চ থেকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত। ইউরো ও নেশন্স লিগজয়ী দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি এখন আর শুধু বলের দখল নয়। বল হারানোর পর দ্রুত প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা এবং আক্রমণ বিপজ্জনক হওয়ার আগেই থামিয়ে দেওয়ার কাজটিও নিখুঁতভাবে করছে তারা।

 

তবে স্পেনের আক্রমণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বকাপে করা ৯ গোলের সাতটিই এসেছে সৌদি আরব ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করতে পারেনি তারা, আর উরুগুয়ে ও পর্তুগালের বিপক্ষে জিতেছে মাত্র ১-০ ব্যবধানে।

 

চার গোল করা মিকেল ওইয়ারসাবাল স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে ফেরা লামিন ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মাত্র এক গোল করেছেন। তবে দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে ইয়ামালের খেলায় পরিণতিবোধ বাড়ছে।

 

বেলজিয়ামকে নিয়ে সতর্ক স্পেন কোচ বলেছেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। বেলজিয়াম শক্তিশালী দল এবং তাদের খেলোয়াড়েরা জিততে অভ্যস্ত।’

 

বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। পরের ম্যাচে দশজনের ইরানের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করে তারা। প্রথম দুই ম্যাচের পর রুডি গার্সিয়ার দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল সমালোচনা।

 

এরপরই বদলে যায় বেলজিয়ামের চেহারা। নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় তারা। শেষ ষোলোয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দেয় বেলজিয়াম। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন শার্ল দে কেতেলারে।

 

বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের মোট গোল ১৩টি। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচেই এসেছে ১২ গোল। প্রতিপক্ষের রক্ষণ কিছুটা জায়গা দিলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে যাচ্ছে তারা। জেরেমি দকু, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার ও দে কেতেলারের গতির সঙ্গে কেভিন ডি ব্রুইনার সৃষ্টিশীলতা স্পেনের রক্ষণের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

 

রোমেলু লুকাকুকে অধিকাংশ ম্যাচে বদলি হিসেবে ব্যবহার করেছেন গার্সিয়া। মাত্র একবার শুরুর একাদশে থাকা এই ফরোয়ার্ড তিন গোলের পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেছেন। গড়ে প্রতি ৫০ মিনিটে একটি করে গোল করা লুকাকু শেষ দিকে স্পেনের ক্লান্ত রক্ষণের বিপক্ষে বড় অস্ত্র হতে পারেন।

 

লুকাকুর উপলব্ধিও পরিষ্কার, ‘স্পেনকে হারাতে হলে আমাদের নিখুঁত একটি ম্যাচ খেলতে হবে।’

 

বেলজিয়ামের বড় ধাক্কা আমাদু ওনানার চোট। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হাঁটুর গুরুতর চোট পাওয়া এই মিডফিল্ডার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। খেলতে পারবেন না জেনো দেবাস্তও। ওনানা না থাকায় মাঝমাঠে ইউরি তিলেমানস ও হান্স ভানাকেনের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে।

 

ডি ব্রুইনা, দকু ও লুকাকুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শুরুর একাদশের বাইরে রেখেও বড় জয় পেয়েছিল বেলজিয়াম। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে গার্সিয়া জয়ী একাদশ ধরে রাখবেন, নাকি অভিজ্ঞদের ফেরাবেন, সেটিই দল নির্বাচনের বড় প্রশ্ন।

 

স্পেনের হয়ে নিকো উইলিয়ামস ও ইয়েরেমি পিনোর খেলার সম্ভাবনা নেই। ভিক্টর মুনিয়োসকে নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে বাঁ দিকের আক্রমণে আবার আলেক্স বায়েনাকে দেখা যেতে পারে।

 

ইয়ামালকে থামাবেন কে?

 

ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে পারে বেলজিয়ামের ম্যাক্সিম ডি কাইপারের সঙ্গে ইয়ামালের। ইয়ামালকে একা সামলাতে গেলে জায়গা তৈরি হবে দানি ওলমো ও ওইয়ারসাবালের জন্য। আবার তাকে থামাতে একাধিক খেলোয়াড় ব্যবহার করলে স্পেনের অন্য প্রান্তে আক্রমণের সুযোগ বাড়বে।

 

বেলজিয়ামকে একই সঙ্গে রদ্রি ও পেদ্রির মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে হবে। স্পেনের প্রথম চাপ এড়িয়ে দকু কিংবা ত্রোসারের কাছে দ্রুত বল পৌঁছে দিতে পারলে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পেতে পারে তারা। তবে নিজেদের রক্ষণ বেশি ওপরে তুললে ইয়ামাল ও ওলমোর জন্যও জায়গা তৈরি হবে।

 

গোলপোস্টে থিবো কোর্তোয়ার উপস্থিতি বেলজিয়ামের বড় ভরসা। স্পেন বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচে বেলজিয়ামকে টিকিয়ে রাখতে কোর্তোয়ার পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

৪০ বছর আগের হিসাব

 

বিশ্বকাপে এর আগে দুবার মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও বেলজিয়াম। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম। চার বছর পর গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারায় স্পেন।

 

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২ সাক্ষাতে স্পেনের জয় ১২টি, বেলজিয়ামের পাঁচটি। বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র হয়েছে।

 

কাগজে-কলমে স্পেনই এগিয়ে। তবে বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে বেলজিয়াম যেভাবে বদলে গেছে, তাতে দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। স্পেন চাইবে ২০১০ সালের পর প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠতে। আর বেলজিয়ামের লক্ষ্য, ৪০ বছর আগের কোয়ার্টার ফাইনালের গল্পটি লস অ্যাঞ্জেলেসে আরেকবার লেখা।

 

সম্ভাব্য একাদশ

 

স্পেন: উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।

 

বেলজিয়াম: থিবো কোর্তোয়া, তিমোথি কাস্তানিয়ে, নাথান এনগয়, ব্র্যান্ডন মেশেলে, ম্যাক্সিম ডি কাইপার, হান্স ভানাকেন, ইউরি তিলেমানস, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার, কেভিন ডি ব্রুইনা, জেরেমি দকু, শার্ল দে কেতেলারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশালে থানাহাজতে সেদিন যা ঘটেছিল, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল

গোল না খাওয়া স্পেনের সামনে বেলজিয়ামের গোলঝড়

আপডেট সময় ১০:০১:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচ খেলেও একবারের জন্য বল জাল থেকে বের করতে হয়নি স্পেনের গোলরক্ষককে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র এক গোল করা বেলজিয়াম শেষ তিন ম্যাচেই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়েছে ১২ বার। এক পাশে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দুর্ভেদ্য রক্ষণ, অন্য পাশে রুডি গার্সিয়ার দলের গোলের বিস্ফোরণ। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল তাই হয়ে উঠেছে স্পেনের দেয়াল আর বেলজিয়ামের গোলঝড়ের পরীক্ষা।

 

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ১টায় ইনগলউডের লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচ পরিচালনা করবেন ইংলিশ রেফারি মাইকেল অলিভার। জয়ী দল ডালাসের সেমিফাইনালে খেলবে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারানো ফ্রান্সের বিপক্ষে।

 

স্পেনের গোলপোস্ট এখনো অক্ষত

 

গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছিল স্পেন। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় তারা। নকআউট পর্বে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ের পর শেষ ষোলোয় পর্তুগালকে হারিয়েছে ১-০ গোলে।

 

পাঁচ ম্যাচে ৯ গোল করার পাশাপাশি একটিও গোল না খাওয়া স্পেন ২০২৩ সালের মার্চ থেকে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত। ইউরো ও নেশন্স লিগজয়ী দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি এখন আর শুধু বলের দখল নয়। বল হারানোর পর দ্রুত প্রতিপক্ষকে চেপে ধরা এবং আক্রমণ বিপজ্জনক হওয়ার আগেই থামিয়ে দেওয়ার কাজটিও নিখুঁতভাবে করছে তারা।

 

তবে স্পেনের আক্রমণ নিয়ে কিছু প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্বকাপে করা ৯ গোলের সাতটিই এসেছে সৌদি আরব ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল করতে পারেনি তারা, আর উরুগুয়ে ও পর্তুগালের বিপক্ষে জিতেছে মাত্র ১-০ ব্যবধানে।

 

চার গোল করা মিকেল ওইয়ারসাবাল স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অন্যদিকে চোট কাটিয়ে ফেরা লামিন ইয়ামাল এখন পর্যন্ত মাত্র এক গোল করেছেন। তবে দে লা ফুয়েন্তে মনে করেন, প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে ইয়ামালের খেলায় পরিণতিবোধ বাড়ছে।

 

বেলজিয়ামকে নিয়ে সতর্ক স্পেন কোচ বলেছেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। বেলজিয়াম শক্তিশালী দল এবং তাদের খেলোয়াড়েরা জিততে অভ্যস্ত।’

 

বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে। পরের ম্যাচে দশজনের ইরানের বিপক্ষেও গোলশূন্য ড্র করে তারা। প্রথম দুই ম্যাচের পর রুডি গার্সিয়ার দলকে নিয়ে শুরু হয়েছিল সমালোচনা।

 

এরপরই বদলে যায় বেলজিয়ামের চেহারা। নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর সেনেগালের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় পায় তারা। শেষ ষোলোয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দেয় বেলজিয়াম। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করেন শার্ল দে কেতেলারে।

 

বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের মোট গোল ১৩টি। এর মধ্যে শেষ তিন ম্যাচেই এসেছে ১২ গোল। প্রতিপক্ষের রক্ষণ কিছুটা জায়গা দিলেই দ্রুত আক্রমণে উঠে যাচ্ছে তারা। জেরেমি দকু, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার ও দে কেতেলারের গতির সঙ্গে কেভিন ডি ব্রুইনার সৃষ্টিশীলতা স্পেনের রক্ষণের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।

 

রোমেলু লুকাকুকে অধিকাংশ ম্যাচে বদলি হিসেবে ব্যবহার করেছেন গার্সিয়া। মাত্র একবার শুরুর একাদশে থাকা এই ফরোয়ার্ড তিন গোলের পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করেছেন। গড়ে প্রতি ৫০ মিনিটে একটি করে গোল করা লুকাকু শেষ দিকে স্পেনের ক্লান্ত রক্ষণের বিপক্ষে বড় অস্ত্র হতে পারেন।

 

লুকাকুর উপলব্ধিও পরিষ্কার, ‘স্পেনকে হারাতে হলে আমাদের নিখুঁত একটি ম্যাচ খেলতে হবে।’

 

বেলজিয়ামের বড় ধাক্কা আমাদু ওনানার চোট। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হাঁটুর গুরুতর চোট পাওয়া এই মিডফিল্ডার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। খেলতে পারবেন না জেনো দেবাস্তও। ওনানা না থাকায় মাঝমাঠে ইউরি তিলেমানস ও হান্স ভানাকেনের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে।

 

ডি ব্রুইনা, দকু ও লুকাকুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শুরুর একাদশের বাইরে রেখেও বড় জয় পেয়েছিল বেলজিয়াম। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে গার্সিয়া জয়ী একাদশ ধরে রাখবেন, নাকি অভিজ্ঞদের ফেরাবেন, সেটিই দল নির্বাচনের বড় প্রশ্ন।

 

স্পেনের হয়ে নিকো উইলিয়ামস ও ইয়েরেমি পিনোর খেলার সম্ভাবনা নেই। ভিক্টর মুনিয়োসকে নিয়েও সংশয় রয়েছে। ফলে বাঁ দিকের আক্রমণে আবার আলেক্স বায়েনাকে দেখা যেতে পারে।

 

ইয়ামালকে থামাবেন কে?

 

ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে পারে বেলজিয়ামের ম্যাক্সিম ডি কাইপারের সঙ্গে ইয়ামালের। ইয়ামালকে একা সামলাতে গেলে জায়গা তৈরি হবে দানি ওলমো ও ওইয়ারসাবালের জন্য। আবার তাকে থামাতে একাধিক খেলোয়াড় ব্যবহার করলে স্পেনের অন্য প্রান্তে আক্রমণের সুযোগ বাড়বে।

 

বেলজিয়ামকে একই সঙ্গে রদ্রি ও পেদ্রির মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে হবে। স্পেনের প্রথম চাপ এড়িয়ে দকু কিংবা ত্রোসারের কাছে দ্রুত বল পৌঁছে দিতে পারলে পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পেতে পারে তারা। তবে নিজেদের রক্ষণ বেশি ওপরে তুললে ইয়ামাল ও ওলমোর জন্যও জায়গা তৈরি হবে।

 

গোলপোস্টে থিবো কোর্তোয়ার উপস্থিতি বেলজিয়ামের বড় ভরসা। স্পেন বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচে বেলজিয়ামকে টিকিয়ে রাখতে কোর্তোয়ার পারফরম্যান্স গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

 

৪০ বছর আগের হিসাব

 

বিশ্বকাপে এর আগে দুবার মুখোমুখি হয়েছে স্পেন ও বেলজিয়াম। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৪ ব্যবধানে জিতেছিল বেলজিয়াম। চার বছর পর গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারায় স্পেন।

 

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২ সাক্ষাতে স্পেনের জয় ১২টি, বেলজিয়ামের পাঁচটি। বাকি পাঁচ ম্যাচ ড্র হয়েছে।

 

কাগজে-কলমে স্পেনই এগিয়ে। তবে বিশ্বকাপের শেষ তিন ম্যাচে বেলজিয়াম যেভাবে বদলে গেছে, তাতে দে লা ফুয়েন্তের দলের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। স্পেন চাইবে ২০১০ সালের পর প্রথমবার সেমিফাইনালে উঠতে। আর বেলজিয়ামের লক্ষ্য, ৪০ বছর আগের কোয়ার্টার ফাইনালের গল্পটি লস অ্যাঞ্জেলেসে আরেকবার লেখা।

 

সম্ভাব্য একাদশ

 

স্পেন: উনাই সিমন, পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্ত, মার্ক কুকুরেয়া, রদ্রি, পেদ্রি, লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, আলেক্স বায়েনা, মিকেল ওইয়ারসাবাল।

 

বেলজিয়াম: থিবো কোর্তোয়া, তিমোথি কাস্তানিয়ে, নাথান এনগয়, ব্র্যান্ডন মেশেলে, ম্যাক্সিম ডি কাইপার, হান্স ভানাকেন, ইউরি তিলেমানস, লিয়ান্দ্রো ত্রোসার, কেভিন ডি ব্রুইনা, জেরেমি দকু, শার্ল দে কেতেলারে।