ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বং’স*স্তূ’প থেকে জী’বিত উদ্ধার ৩ বছরের শিশু ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: মৃত্যুর তালিকায় প্রায় ২০০০ মানুষ, আহত বহু পানি সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করলে, হাত কেটে ফেলা হবে: ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের নরওয়ের সম্ভাবনা কম, ব্রাজিলকেই ফেভারিট মানছেন হালান্ড ফ্রান্স কখনোই স্পেনের চেয়ে ভালো দল নয়: ইয়ামাল ৫ আগস্টের মধ্যে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে না দিলে জনগণ খুলে দেবে: নাহিদ আগামী চার বছর কেউ ভাঙতে পারবে না ব্রাজিলের এই বিশ্বরেকর্ড ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুর পিতৃপরিচয় প্রকাশ, কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা

আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

আজ পয়লা জুলাই। ঠিক দুই বছর আগে এই দিন থেকেই নতুন গতি পেয়েছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত আন্দোলন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। টানা ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ঘটে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামেন। তাদের দাবি ছিল—কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন মোড় আসে। পরদিন থেকেই সারা দেশে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সব বড় শহরে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে। মোবাইল ইন্টারনেট ও পরে ব্রডব্যান্ড সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এবং আগস্টের শুরুতে গণমিছিল, শহীদ মিনারে সমাবেশ ও এক দফা দাবির ঘোষণা আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

৫ আগস্ট লাখো মানুষের ঢল নামে ঢাকার রাজপথে। সেদিনই ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় টানা দেড় দশকেরও বেশি সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন, আর শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে আন্দোলনের লক্ষ্য, ত্যাগ আর প্রত্যাশা—সেগুলোর কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে দেশ। জুলাই তাই শুধু স্মৃতির নয়, আত্মসমালোচনা আর ভবিষ্যৎ ভাবনারও একটি মাস।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উপহার হিসেবে ভারতে ১১০০ কেজি আম পাঠাল বাংলাদেশ

আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা

আপডেট সময় ০১:১০:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

আজ পয়লা জুলাই। ঠিক দুই বছর আগে এই দিন থেকেই নতুন গতি পেয়েছিল বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত আন্দোলন। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় বৃহত্তর সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে। টানা ৩৬ দিনের সেই আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট ঘটে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহাল নিয়ে আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে রাজপথে নামেন। তাদের দাবি ছিল—কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়ে। সময়ের সঙ্গে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নতুন মোড় আসে। পরদিন থেকেই সারা দেশে বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সব বড় শহরে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কারফিউ জারি করে। মোবাইল ইন্টারনেট ও পরে ব্রডব্যান্ড সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সময়ে আন্দোলনের সমন্বয়কদের গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

জুলাইয়ের শেষ দিকে ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি এবং আগস্টের শুরুতে গণমিছিল, শহীদ মিনারে সমাবেশ ও এক দফা দাবির ঘোষণা আন্দোলনকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যায়।

৫ আগস্ট লাখো মানুষের ঢল নামে ঢাকার রাজপথে। সেদিনই ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় টানা দেড় দশকেরও বেশি সময়ের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসন, আর শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

জুলাই শুধু একটি মাসের নাম নয়। এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে আন্দোলনের লক্ষ্য, ত্যাগ আর প্রত্যাশা—সেগুলোর কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও খুঁজছে দেশ। জুলাই তাই শুধু স্মৃতির নয়, আত্মসমালোচনা আর ভবিষ্যৎ ভাবনারও একটি মাস।