ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকারকে আর সহযোগিতা করতে পারছি না, ঢাকা থেকে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক: নাহিদ ইসলাম তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য শিগ্‌গির বিদেশে যাবেন গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে: জামায়াতের আমির শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল এক হলে সরকারের পতন অনিবার্য: কর্নেল অলি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের কোচ

গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক ৩ মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গেই কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আরও পাঁচটি মামলার এজাহারে নাম থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

 

এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার হন আফ্রিদি। এরপর থেকে বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত প্রায় ১১ মাস ছিলেন কারাগারে।

 

বিষয়টি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বললেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদি পরিচিত ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে পুলিশের জানার কথা। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে কেন গ্রেপ্তার দেখানো হলো না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

 

জানা যায়, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৮টি মামলা হয়। এর মধ্যে ওয়ারি থানার একটি ছাড়া অন্য ৭টি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি। এসব মামলার মধ্যে তাকে ওয়ারি থানার প্রতারণা, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টার পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এ তিন মামলার বাইরে তার নামে রামপুরা থানার একটি হত্যা এবং বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও বনানী থানার পৃথক চারটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এসব মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও গ্রেপ্তার দেখানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তথ্য পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো মামলায় আসামির জামিন হলে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগকে জানানো হয়। তখন ওই আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তার খোঁজ নেওয়া হয়। মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

 

সেই আবেদন অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতে শুনানি হয়। এজাহারে নাম থাকলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু মামলা থাকা সত্ত্বেও তৌহিদ আফ্রিদির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করার হয়নি।

 

 

আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলায় তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ৩০ আগস্ট তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। পরে বাড্ডা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে দেখানো হয় গ্রেপ্তার। এ মামলার তদন্ত শেষে তার অব্যাহতি চেয়ে সুপারিশ করা হয়। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওয়ারি থানার এক মামলায় ১৫ জুন আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। পরে গত ৪ মে আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই ওয়ারী থানার প্রতারণার মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ১ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওইদিন তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তৌহিদ আফ্রিদির কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

 

 

আফ্রিদি কারামুক্তি বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া উইং জানায়, কারাগারে জামিননামা যাচাই-বাছাই করেই বৃহস্পতিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

 

এদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামি গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশের ওপর নির্ভর করে। তবে আসামি কারামুক্ত হলেও তদন্তে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকে আর সহযোগিতা করতে পারছি না, ঢাকা থেকে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক: নাহিদ ইসলাম

গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি

আপডেট সময় ১১:৫৩:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক ৩ মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অনেকটা গোপনীয়তার সঙ্গেই কারামুক্ত হয়েছেন তিনি। অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আরও পাঁচটি মামলার এজাহারে নাম থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

 

এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে গ্রেপ্তার হন আফ্রিদি। এরপর থেকে বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত প্রায় ১১ মাস ছিলেন কারাগারে।

 

বিষয়টি পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান বললেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদি পরিচিত ব্যক্তি, তার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা আছে পুলিশের জানার কথা। কিন্তু কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে কেন গ্রেপ্তার দেখানো হলো না। এর জন্য সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

 

জানা যায়, তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৮টি মামলা হয়। এর মধ্যে ওয়ারি থানার একটি ছাড়া অন্য ৭টি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি। এসব মামলার মধ্যে তাকে ওয়ারি থানার প্রতারণা, যাত্রাবাড়ী ও বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টার পৃথক তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে এ তিন মামলার বাইরে তার নামে রামপুরা থানার একটি হত্যা এবং বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও বনানী থানার পৃথক চারটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এসব মামলার এজাহারে তার নাম থাকলেও গ্রেপ্তার দেখানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে তথ্য পাওয়া যায়।

 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সাধারণত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো মামলায় আসামির জামিন হলে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগকে জানানো হয়। তখন ওই আসামির বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা আছে কি না, তার খোঁজ নেওয়া হয়। মামলা থাকলে আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

 

সেই আবেদন অনুযায়ী আসামির উপস্থিতিতে শুনানি হয়। এজাহারে নাম থাকলে আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু মামলা থাকা সত্ত্বেও তৌহিদ আফ্রিদির ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করার হয়নি।

 

 

আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলায় তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ৩০ আগস্ট তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। পরে বাড্ডা থানায় হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে দেখানো হয় গ্রেপ্তার। এ মামলার তদন্ত শেষে তার অব্যাহতি চেয়ে সুপারিশ করা হয়। এরপর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ওয়ারি থানার এক মামলায় ১৫ জুন আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

 

হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে তিনি জামিন পান। পরে গত ৪ মে আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই ওয়ারী থানার প্রতারণার মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম ১ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওইদিন তার আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তৌহিদ আফ্রিদির কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

 

 

আফ্রিদি কারামুক্তি বিষয়ে কারা অধিদপ্তরের মিডিয়া উইং জানায়, কারাগারে জামিননামা যাচাই-বাছাই করেই বৃহস্পতিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

 

 

এদিকে, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী আসামি গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি সম্পূর্ণ পুলিশের ওপর নির্ভর করে। তবে আসামি কারামুক্ত হলেও তদন্তে সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।