ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। তাকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ যৌথভাবে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করেছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব নেন। তবে এরপর থেকে তিনি খুব কমই জনসমক্ষে এসেছেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, নিরাপত্তার কারণে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ এড়িয়ে চলছেন এবং কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কোনো স্থানে অবস্থান করছেন।
দ্য টাইমস জানায়, মোজতবা খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির পাশাপাশি এখন মানবসূত্রভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স বা হিউমিন্ট) সংগ্রহে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ তিনি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহার করছেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে মোসাদের সাবেক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগে একাধিক বার্তাবাহক বা কুরিয়ার ব্যবহার করা হতে পারে। এসব কুরিয়ারকে শনাক্ত করা গেলে তার অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে পশ্চিমা গোয়েন্দা মহলের একটি অংশের ধারণা, মোজতবা খামেনির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও নিশ্চিত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে, তিনি স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছেন। তবে সেই দাবিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা কাঠামোয় অনুপ্রবেশ অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় নির্ভরযোগ্য মানবসূত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহই এখন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: দ্য টাইমস

ডেস্ক রিপোর্ট 

























